
দায়িত্বে নেই ১১ সচিব দুই মন্ত্রণালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
বিমানের বহরে যোগ হচ্ছে আরো ১১ বোয়িং বাংলাদেশকে সার্জিও গোরের অভিনন্দন
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ভাঙনের কবলে পড়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের অনেকে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিয়ে দুশ্চিন্তায় রাত কাটাচ্ছেন।
ময়মনসিংহের গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, সদর ও জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙন বেড়েই চলেছে। নদীপারের বহু প্রতিষ্ঠান, বসতভিটা ও শত শত একর কৃষিজমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনের কবলে পড়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের অনেকে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিয়ে দুশ্চিন্তায় রাত কাটাচ্ছেন। তবে ভাঙন প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কিছু স্থানে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলছে বলে জানিয়েছে। স্থায়ী সমাধানে ডিপিপি প্রণয়নে কারিগরি কমিটি গঠন করেছে। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় নদীভাঙন থামছে না। পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছে অবৈধ বালি উত্তোলন।
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভাঙনামারী ইউনিয়নের খোদাবক্সপুর গ্রাম ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিলীন হতে চলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত দুই বছরে খোদাবক্সপুরে প্রায় ১৫০ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। চলতি বছর আরো ১৫-২০টি পরিবার বাড়িঘর সরিয়ে নিয়েছে। তাদের দাবি, অব্যাহত ভাঙনে গ্রামের প্রায় অর্ধেক নদীতে চলে গেছে। এখনো বহু বাড়িঘর ও কৃষিজমি ঝুঁকিতে রয়েছে।
খোদাবক্সপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অনেক জায়গায় বসতি আর ব্রহ্মপুত্রের মাঝে নিরাপদ দূরত্ব নেই। বাড়ির উঠানে গিয়ে ঠেকেছে ভাঙন। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাছপালা একে একে নদীর দিকে হেলে পড়ছে। কোথাও আবার বসতঘরের পাশের মাটি ধসে পড়ছে। এতে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয় বাসিন্দাদের। বিশেষ করে রাতে ভাঙনের শব্দ শুনলেই অনেক পরিবার ঘর ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। কেউ কেউ এরই মধ্যে নদীর ওপারে জেগে ওঠা চরে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে নতুন করে ঘর তুলেছেন।
খোদাবক্সপুর গ্রামের বিধাব মিলিক জান বলেন, ‘২২ কাঠা জমি ছিল আমার। স্বামীর মৃত্যুর পর এ জমি ছিল একমাত্র সম্বল। সে জমিও এখন ব্রহ্মপুত্রে বিলীন হয়েছে। আমার জীবনের সুখ চলে গেছে।’
নদীর তীরবর্তী গৌরীপুরের পাশের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মরিচারচর ও ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরদড়ি-কুষ্টিয়া, শ্রীকলদীসহ কয়েকটি এলাকাতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। কোথাও নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে কৃষিজমি, কোথাও বসতভিটা পড়েছে ঝুঁকিতে। ফলে নদীর তীরবর্তী এসব এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র তীর রক্ষা কমিটির সমন্বয়ক আবুল কালাম আল আজাদ বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলেও নদীর তীরে বসবাসরত মানুষের নিরাপদ বসতি, কার্যকর তীর রক্ষা ও অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া সম্ভব। এজন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।’
পাউবো ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাইন মাহমুদ জানান, প্রায় ২৭০ মিটার এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে জরুরি প্রতিরক্ষাকাজ চলছে। তিনি জানান, চরদড়ি-কুষ্টিয়ায় প্রায় ৬০ মিটার অংশে জিও টিউব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। চর শ্রীকলদীতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। খোদাবক্সপুর ও মরিচারচরেও একই ধরনের জরুরি প্রতিরক্ষা কাজ চলছে।
শামীম হুসাইন মাহমুদ আরো জানান, ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। এজন্য একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। খোদাবক্সপুরে ব্লক দিয়ে স্থায়ী তীর সংরক্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
নদীভাঙনের পাশাপাশি অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে স্থানীয়দের। তাদের অভিযোগ, নদ থেকে বালি উত্তোলনের কারণে কোথাও কোথাও ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। এ বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান জানান, গত তিন মাসে দুটি বড় অভিযানে ৪৭টি ড্রেজার ধ্বংস করা হয়েছে। এর পরও রাত ও ভোরে অবৈধভাবে বালি তোলার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি মামলা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদেও তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, আবাদি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা। ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে জনপদের মানচিত্র, আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে হাজারো মানুষ। বিশেষ করে চর গোয়ালিনী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুধু লক্ষ্মীপুর গ্রামই নয়, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে কুলকান্দি, বেলগাছা, চিনাডুলি, সাপধরি, নোয়ারপাড়া, সদর, গোয়ালেরচর, গাইবান্ধা, চরপুঁটিমারী ও পলবান্ধা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে তারা একাধিকবার মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ মো. জোবায়ের বলেন, ‘আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার জানিয়েছি। এছাড়া ভাঙনকবলিত এলাকার খোঁজখবর রাখছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


