কাস্টমার সার্ভিসে এজেন্টিক এআই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার পাশাপাশি ব্যবসার কাজও করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
আইডিআরএ পরিদর্শন শেষে অর্থমন্ত্রী বীমা দাবি পরিশোধে ব্যর্থ হলে সম্পদ বিক্রি করে হলেও গ্রাহকের টাকা ফেরত দেয়া হবে
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
কাস্টমার সার্ভিসে এজেন্টিক এআই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার পাশাপাশি ব্যবসার কাজও করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
আইডিআরএ পরিদর্শন শেষে অর্থমন্ত্রী বীমা দাবি পরিশোধে ব্যর্থ হলে সম্পদ বিক্রি করে হলেও গ্রাহকের টাকা ফেরত দেয়া হবে
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

কারখানায় ‘চাকরি’ পেতে ‘স্কুলে’ যাচ্ছে রোবট

কারখানায় ‘চাকরি’ পেতে ‘স্কুলে’ যাচ্ছে রোবট
কেউ বোতলজাত পানি তুলে রাখছে। কেউ খাবারের ট্রে মাইক্রোওয়েভ ওভেনে ঢোকাচ্ছে। কেউ পার্সেল স্ক্যান করছে।
চীনের বেইজিংয়ের শিজিংশান জেলার একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দেখতে অনেকটা কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো। তবে সেখানে শিক্ষার্থী কোনো মানুষ নয়, সব হিউম্যানয়েড রোবট।
কেউ বোতলজাত পানি তুলে রাখছে। কেউ খাবারের ট্রে মাইক্রোওয়েভ ওভেনে ঢোকাচ্ছে। কেউ পার্সেল স্ক্যান করছে। আবার কেউ কাপড় ভাঁজ করছে কিংবা টেবিলের বাসন সরাচ্ছে। একই কাজ তারা বারবার করছে। পাশে দাঁড়িয়ে হেডসেট ও কন্ট্রোলার হাতে প্রশিক্ষকরা রোবটগুলো নিয়ন্ত্রণ করছেন।
এটি বেইজিংয়ের শিজিংশান হিউম্যানয়েড রোবট ডেটা ট্রেনিং সেন্টার। কেন্দ্রটি চালু রয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে। ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি জায়গাজুড়ে তৈরি এ কেন্দ্রকে বর্তমানে চীনের সবচেয়ে বড় ‘রোবট স্কুল’ বলা হচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জিং শি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনোভেশন গ্রুপ ও শেনঝেনভিত্তিক লেজু রোবোটিকস যৌথভাবে কেন্দ্রটি পরিচালনা করছে।
কেন্দ্রটির মহাব্যবস্থাপক ঝু কাই বলেন, ‘এটি বেইজিংয়ের “এমবডিড ইন্টেলিজেন্স” বা বাস্তব জগতে কাজ করতে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এখানে ঘরোয়া সেবা, দৈনন্দিন কাজ ও শিল্প উৎপাদনের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে রোবটকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।’
শুধু বেইজিং নয়, চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের বড় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। প্রযুক্তি বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারঅ্যাক্ট অ্যানালাইসিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষ নাগাদ চীনে অন্তত ৯০টি হিউম্যানয়েড রোবটের ডেটা সংগ্রহ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু, নির্মাণাধীন অথবা পরিকল্পনার পর্যায়ে ছিল।
এর মধ্যে ৬৪টি কেন্দ্র এরই মধ্যে চালু হয়েছে। ঝেজিয়াং, গুয়াংডং ও জিয়াংসু প্রদেশে সবচেয়ে বেশি কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি প্রদেশে ১০টির বেশি কেন্দ্র ও অন্তত ১০০টি করে রোবট রয়েছে।
শানডং প্রদেশও এ দৌড়ে পিছিয়ে থাকতে চাইছে না। চীনা সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে প্রদেশটি এমবডিড ইন্টেলিজেন্স রোবটের ২৬টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্মাণের তালিকায় রেখেছে।
শিজিংশান কেন্দ্রটি পাঁচ ধাপে তৈরি হচ্ছে। মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৭০ কোটি ইউয়ান বা প্রায় ১০ কোটি ৪ লাখ ডলার। এর মধ্যে প্রথম তিন ধাপে এখন পর্যন্ত ২০ কোটি ইউয়ান বিনিয়োগ করা হয়েছে।
হিউম্যানয়েড রোবট তৈরিতে চীন এরই মধ্যে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর তুলনায় এগিয়ে গেছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৯ হাজার ১০০টি হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ হয়েছে। এর মধ্যে ৯৭ শতাংশের বেশি এসেছে চীন থেকে।
রোবোটিকস বিশেষজ্ঞদের মতে, রোবট শুধু তৈরি করলেই হয় না, এসব রোবটকে বাস্তব পরিবেশে মানুষের মতো কাজ করতে হবে। কারখানা, লজিস্টিকস পার্ক, হাসপাতাল কিংবা বয়স্কদের সেবা কেন্দ্রে এগুলোকে কাজ করতে হতে পারে। এসব কাজের জন্য প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ বাস্তব তথ্য বা ডেটা।
এ জায়গায়ই তৈরি হয়েছে বড় সংকট। জেনারেটিভ এআইয়ের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট থেকে বিপুল পরিমাণ লেখা, ছবি ও অডিও-ভিডিও ডেটা সংগ্রহ করা যায়। কিন্তু রোবটের জন্য প্রয়োজন মানুষের সঙ্গে বাস্তব শারীরিক মিথস্ক্রিয়ার তথ্য। এ ধরনের ডেটা বিশ্বে এখনো খুব কম।
রোবোটিকস প্রতিষ্ঠান অ্যাজিবটের অংশীদার ও ফিজিক্যাল এআই ডেটা প্লাটফর্ম ম্যানিফর্মারের প্রধান নির্বাহী ইয়াও মাওছিং বলেন, ‘বাস্তবে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহারের আগে কয়েক কোটি থেকে কয়েকশ কোটি ঘণ্টার ডেটা প্রয়োজন হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *