জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন রাষ্ট্রপতির গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় গণতান্ত্রিক বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
শুধু টিকার ঘাটতি নয়, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভঙ্গুরতাও দায়ী হাম ও সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হাজার ছাড়াল
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন রাষ্ট্রপতির গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় গণতান্ত্রিক বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
শুধু টিকার ঘাটতি নয়, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভঙ্গুরতাও দায়ী হাম ও সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হাজার ছাড়াল
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

সংসদে প্রধানমন্ত্রী শিল্পে গ্যাস সংকট ঠেকাতে নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও ১৫০ কূপ খনন করা হবে

পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলের সুবিধাজনক কোনো স্থানে জরুরি ভিত্তিতে আরো একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে বলে জানান সরকারপ্রধান।
শিল্পে গ্যাস সংকট ঠেকাতে সরকার নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনসহ ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত মৌখিক প্রশ্নোত্তর পর্বে গতকাল সরকারি দলের সদস্য সুলতানা আহমেদের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বেলা ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, আকস্মিক বা সাময়িক গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প খাত যাতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে না পড়ে, সেজন্য দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন ও গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছে সরকার। তার জন্য ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন, ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার টুডি সিসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার থ্রিডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী নভেম্বর পর্যন্ত বিড দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে “বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি-২০২৬” প্রণয়নের কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে কমবেশি দৈনিক গড়ে ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস সংকটে শিল্প খাত যাতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং মাতারবাড়ীর স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলের সুবিধাজনক কোনো স্থানে জরুরি ভিত্তিতে আরো একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে বলে জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আকস্মিক গ্যাস সংকট মোকাবেলায় অতিরিক্ত সরবরাহ সক্ষমতা তৈরি হবে বলে মনে করছে সরকার।’
ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্যাস নেটওয়ার্কে যুক্ত করার বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশের মূল গ্যাস নেটওয়ার্কে নিয়ে আসতে চাইলে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অন্তত সাত বছর সময় লাগবে। তাই ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্প-কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে সেখানে গ্যাসনির্ভর কিছু শিল্প স্থাপনের চেষ্টা চলছে। সেখানে একটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও করছে সরকার। এর ফলে ভোলা অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতির আকারো বাড়বে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মূল ভূখণ্ডে এনে আগ্রহী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহের বিষয়েও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গ্যাসপ্রাপ্তি সাপেক্ষে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।’
সরকারের এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো, আমদানিনির্ভরতা মোকাবেলা এবং শিল্প ও রফতানি খাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করা। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি–নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুসন্ধান, উৎপাদন ও অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে, যেসব স্থানে ডিজেল দিয়ে পানির পাম্প চালানো হয় সবগুলোকে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের আওতায় নিয়ে যাব। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সেচকাজে কৃষকদের সৌরবিদ্যুচ্চালিত পাম্প দেয়া হবে।’
সরকার দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আমদানীকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে ২০২৬-৩০ মেয়াদে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। ওই কৌশলপত্র অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্ভাবনা ও বাস্তবতা বিবেচনায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ খাতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট, ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং অন্যান্য প্রযুক্তি, যেমন বায়ুবর্জ্য, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সোলার, অ্যাগ্রিভোলটেইক্স ইত্যাদি থেকে ৪৫০-৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *