
খুলনায় ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন রাষ্ট্রপতির গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় গণতান্ত্রিক বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান
সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬গত ছয় বছরে (২০২০-২৫) জেলায় ১৪ হাজার ৫১৬ জন নারী-পুরুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৪৪ জনের।
যশোরে আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ছয় বছরে (২০২০-২৫) জেলায় ১৪ হাজার ৫১৬ জন নারী-পুরুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৪৪ জনের। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় সাতজন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। একই সময়ে আত্মহত্যায় ঘটনাতেও নারীর সংখ্যা পুরুষের প্রায় দ্বিগুণ।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৯০ ও নারী ৯ হাজার ৬৬ জন। মারা যাওয়া ৩৪৪ জনের মধ্যে পুরুষ ১১৭ ও নারী ২২৭ জন। পারিবারিক কলহ, আর্থিক সংকট, কর্মক্ষেত্রে হতাশা, সম্পর্কের টানাপড়েন এবং চাওয়া-পাওয়ার ব্যবধানকে এ প্রবণতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি যশোরে আত্মহত্যার একাধিক ঘটনায় উদ্বেগ আরো বেড়েছে। স্থানীয় একটি দৈনিক ও স্যাটেলাইট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি ২৫ বছর বয়সী সাকিন হোসেন গত ১৬ জুলাই মারা যান। পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নানা সমস্যায় মানসিক সংকটে ছিলেন তিনি। অন্যদিকে অভয়নগরের ফুলেরগাতী গ্রামের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে পারিবারিক বকুনির পর আত্মহত্যা করতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। চিকিৎসার পর সে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরে যশোরে আত্মহত্যা-সংক্রান্ত ১ হাজার ৪৫৪টি মামলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) তথ্য বলছে, ৬৪ জেলার মধ্যে এ ধরনের মামলার সংখ্যায় যশোর শীর্ষে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকায় মামলা হয়েছে ১ হাজার ৪০২টি এবং তৃতীয় কুমিল্লায় ১ হাজার ২৮৮টি। বিবরণীতে ফাঁস, বিষপান, গায়ে আগুন, রেললাইনে ঝাঁপ ও অন্যান্য—এই পাঁচভাবে আত্মহত্যার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা। এরপর ব্যবহৃত পদ্ধতি বিষপান।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আত্মহত্যার পেছনে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও প্রতিরোধে বছরজুড়ে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। প্রতি বছর বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস ঘিরে শোভাযাত্রা ও আলোচনা হলেও নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কাউন্সেলিংয়ের সুযোগ সীমিত।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যার কারণ মূলত মানসিক বিপর্যয়। মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশের ১০টি জেলার হাসপাতালে বিশেষ কর্নার ‘মনের বাড়ি’ কার্যক্রম চালু করা হয়। ২০২৪ সাল থেকে যশোরের মণিরামপুর ও চৌগাছা উপজেলাতেও এ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কর্নার চালু রয়েছে। তবে সচেতনতা ও প্রচারের অভাবে এসব সেবায় মানুষের আগ্রহ কম।
মানুষের এ ধরনের পদক্ষেপের কারণ হিসেবে হতাশাকেই দায়ী করেছেন যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হামিদুল হক। তিনি বলেন, ‘মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হলে মানসিক চাপ বাড়ে। তখন তারা নিজের জীবনকে মূল্যহীন মনে করে, আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন।’
পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি, আর্থিক টানাপড়েন এবং চাওয়া-পাওয়ার ব্যবধান আত্মহত্যার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেছেন যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা। তিনি জানান, হাসপাতালগুলোয় মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা কম। এ কারণে বিদ্যমান চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আগে চালু থাকা টেলিমেডিসিন সেবা নানা কারণে বন্ধ হয়ে গেলেও তা পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার।


