
দেশের আট বিভাগীয় শহরে হবে রাবির ভর্তি পরীক্ষা
সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬
কানাডার বোম্বারডিয়েকে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনের চাপ ট্রাম্পের
সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) গত দুই দিনে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে দুবার লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করেছিল। তবে জাহাজটি ‘সফলভাবে ইরানের হামলা এড়িয়ে যায়’। ওই ঘটনায় কোনো মার্কিন সেনা আহত হয়নি। এর জবাবে গালফ অব ওমানে চারটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করা হয়। এছাড়া খার্গ দ্বীপের কাছে আরেকটি ট্যাংকারেও হামলা চালানো হয়েছে
গালফ অব ওমান ও খার্গ দ্বীপের কাছে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে দুই দিনের মধ্যে তেহরান দুবার একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করে ওয়াশিংটন।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে, এর জবাবে গতকাল জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান করা আল-আজরাক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। একইসঙ্গে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবি করেছে দেশটি। এসব হামলায় ‘বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলেও দাবি করেছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি হামলা এমন সময়ে হলো, যখন ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধ ঘিরে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। তেহরান এখনো হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোয় নৌ অবরোধ কার্যকর করছে।
গতকাল দিনের শুরুতে এ উত্তেজনার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলার ৪৬ সেন্টে উঠে।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) গত দুই দিনে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে দুবার লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করেছিল। তবে জাহাজটি ‘সফলভাবে ইরানের হামলা এড়িয়ে যায়’। ওই ঘটনায় কোনো মার্কিন সেনা আহত হয়নি। এর জবাবে গালফ অব ওমানে চারটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করা হয়। এছাড়া খার্গ দ্বীপের কাছে আরেকটি ট্যাংকারেও হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকম আরো জানায়, হামলার আগে মার্কিন বাহিনী জাহাজগুলোর ক্রুদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এরপর হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেয়া হয়।
খার্গ দ্বীপের কাছে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি। যুদ্ধের আগে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রফতানি এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। আইআরআইবি জানায়, ওই ট্যাংকারের ক্রুদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গালফ অব ওমানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর জাস্কের কাছে আরেকটি ট্যাংকারে হামলা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
পরে আইআরজিসি জানায়, মোট পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে।
এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে ‘তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার কয়েকটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে।
এছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষতি’ করার দাবিও করেছে আইআরজিসি।
পরবর্তী এক বিবৃতিতে ইরানি বাহিনী জানায়, তারা ওই অঞ্চলে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে এবং এসব হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
হামলার আগে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারগুলোয় হামলার হুমকি দিয়েছিল। ওইসব জাহাজের ক্রুদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছিল।
এর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদুল্লাহি সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের ট্যাংকারে হামলা হলে গোটা অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাবে তেহরান।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি বলেন, মার্কিন ‘আগ্রাসী বাহিনী’ জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে হামলার আগে সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাই ইরানের কোনো ট্যাংকারে হামলা হলে ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এদিকে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে। এর মধ্যে ১৮টি সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে বলে জানানো হয়েছে।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী বলেছে, হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ও ছড়িয়ে পড়া টুকরো যেখানে পড়েছে, সেসব এলাকা নিরাপদ করতে বিশেষ দল কাজ শুরু করেছে।
এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছিল। এর মধ্যে একটি ডুবে যায়। এর জবাবে ইরান তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছিল।
পরে শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ী জানান, তেহরান হরমুজ প্রণালির বাইরে একটি ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, নতুন ওই এলাকায় প্রবেশ করা যেকোনো জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হবে।
গতকালের সর্বশেষ হামলার নিন্দাও করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন এবং একে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এসব ‘অবৈধ ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ড’ দেশটির বিরুদ্ধে চলমান সামরিক আগ্রাসন ও অর্থনৈতিক যুদ্ধেরই ধারাবাহিকতা। এর পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের পুরোপুরি দায়ী থাকতে হবে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।
তবে কলম্বিয়া সফরের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটবে না।
তিনি বলেন, ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা যতবার এমন হামলা চালাবে বা চেষ্টা করবে, ‘ততবার একটি করে ট্যাংকার হারাবে।’


