বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সীমা লঙ্ঘন না করার হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬
ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম কমল ২২১৬ টাকা
সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সীমা লঙ্ঘন না করার হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬
ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম কমল ২২১৬ টাকা
সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬

১১ দলের লংমার্চে জামায়াতের আমির জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে

ছয় দফা না মানলে দাবি এক দফায় রূপ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শাপলা চত্বরের লংমার্চ উদ্বোধনে তিনি বলেন, ‘এ লংমার্চ আপামর জনতার।
১১ দল জনগণের অধিকার আদায়ে রাস্তায় নেমেছে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘জনগণের অধিকার আদায় করে আমরা ঘরে ফিরব। আমাদের এ আন্দোলন চলবে রাস্তায়, রাজপথে। চলবে জাতীয় সংসদে। যতক্ষণ পর্যন্ত ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকটি অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হয়, ততক্ষণ আন্দোলন চলতে থাকবে।’
গতকাল ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের শুরুতে শাপলা চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট নিরসন, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে চট্টগ্রাম অভিমুখে শান্তিপূর্ণ লংমার্চ করেছে এ রাজনৈতিক জোট।
তাদের দাবিগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা। গতকাল সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লংমার্চ শুরু হয়। প্রায় দেড় হাজার গাড়িবহর নিয়ে লংমার্চ শুরু করে দলটি। এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। লংমার্চের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা করে দলটি। পরে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শেষ হয়।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার ওয়াদা ভঙ্গ করেছে জানিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের পথসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকার ওয়াদা দিয়ে তা লঙ্ঘন করেছে। জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। এর মাধ্যমে সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি ও প্রতারণা করছে। আমরা রাস্তায় নেমেছি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করার জন্য। রাস্তায় নেমেছি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন করার জন্য। আমরা রাস্তায় নেমেছি আপনাদের ঘরে গ্যাস ফিরিয়ে দেয়ার জন্য। রাস্তায় নেমেছি আপনাদের ঘরে বিদ্যুৎ ও বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করার জন্য।’
কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে পথসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে সরকার অনেকগুলো কথা দিয়েছিল। তারা সেগুলো রাখেনি, প্রতারণা করেছে। কুমিল্লায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী ও দুর্নীতি এখনো রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেদিকে খেয়াল নেই। অন্যদিকে দেশ মাদকে ভরে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ জেলা ও বাড়ির মাদকের চালান বন্ধ করতে পারছে না। আমাদের যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’
সরকার সব জায়গায় দলীয়করণ করছে বলেও দাবি করেন জামায়াত আমির। ফেনীর মহিপালে অনুষ্ঠিত পথসভায় তিনি বলেন, ‘সরকার নির্লজ্জ দলীয়করণ করবে, আর আমরা চুপ করে বসে থাকব তা হবে না। আমরা প্রতিবাদ করব, গর্জন করব। আমরা কিছু সময় দিচ্ছি, এ সময় দীর্ঘ হবে না। চূড়ান্ত ডাক আসলে জনগণ নেমে আসবে এবং জনতার বিজয় হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমরা সব দাবি আদায় করব।
জনতা আমাদের সঙ্গে আছে, আমরা গন্তব্যে পৌঁছব। বাংলাদেশই আমাদের ঠিকানা। আমাদের কোনো দাদাবাড়ি নেই। বজ্রপাত হলেও আমরা জনগণের সঙ্গে থাকব। আমরা কোনো দলীয় দাবি নিয়ে রাস্তায় নামিনি, আমরা রাস্তায় নেমেছি জনগণের দাবি নিয়ে। নতুন ফ্যাসিবাদের কবর দিতে। আমরা কোনো চোখরাঙানিকে ভয় পাই না।’
ছয় দফা না মানলে দাবি এক দফায় রূপ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শাপলা চত্বরের লংমার্চ উদ্বোধনে তিনি বলেন, ‘এ লংমার্চ আপামর জনতার। সরকার যদি লংমার্চে বাধা দেয়, তাহলে সব বাধা উপেক্ষা করে চট্টগ্রামে পৌঁছবে এবং ১১ দলের ছয় দফা দাবি এক দফায় রূপ নেবে।’
কুমিল্লার পথসভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘লংমার্চে আমরা অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। মানুষ তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করছে। সরকার ১৮০ দিনে দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে। তারা কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। সরকারের মন্ত্রীদের সন্তানরা চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে জড়িত। তারা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। এরপর আমরা ঢাকায় লংমার্চের ডাক দেব।’
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে সরকারকে গদি হারাতে হবে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা না হলে সরকার গদিতে থাকতে পারবে না। ঢাকার লংমার্চ থেকে রাজনৈতিক ঘোষণা দেয়া হবে। সময় দিচ্ছি, এর আগেই ছয় দফা মেনে নিন।’
ফেনীর পথসভায় তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। জনগণ তার অধিকার থেকে বঞ্চিত। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। দেশ উল্টো পথে চলছে। সরকার সংসদে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র কায়েম করেছে। তারা বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার কথা বললেও তা করছে না। রাজপথে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নিপীড়ন করা হচ্ছে। ১১ দলের নেতাকর্মীদের ওপর আর একটি হামলা হলে তা প্রতিহত করা হবে।’
১১ দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশ চাঁদাবাজি, খুন-রাহাজানিতে ভরে গিয়ে জাহান্নামে পরিণত হয়েছে। দেশের মানুষ বর্তমান সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। দেশে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি, জায়গা দখল, নেতাকর্মীদের হয়রানি ও মাদকের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।’
আরেক শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ক্ষমতায় বসে যদি জাতিকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করে, তাহলে টেনে নামাতে আমাদের হাত এক চুলও কাঁপবে না।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ব্যর্থ হয়েছে। দিনে দিনে দুর্ভোগ বাড়ছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। জনগণকে দেয়া সব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। সরকারকে সংসদে ভুল স্বীকার করে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।’
চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শেষ হয়। সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারি দলের লোকেরা এখন চুরি-চামারি ও সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের চিনিয়ে দেয়া হলে তারা নিজেদের আওয়ামী লীগের লোক বলে পরিচয় দেয়। এরা গুপ্ত হয়ে আছে। আজকে আমরা যখন লংমার্চের ডাক দিলাম, বিভিন্ন জায়গায় চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। আমাদের এ আন্দোলন ঈদের পরের আন্দোলন নয়। এটি জনগণের দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন। এ চট্টগ্রাম আন্দোলনের সূতিকাগার। আগের সরকার যে রাস্তা দিয়ে হেঁটে বিদায় নিয়েছে, বিএনপিও সেই রাস্তায় হাঁটতে চায় কিনা তা দেখতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা আমাদের বাধ্য করেছেন রাজপথে আসতে। আমরা তো রাজপথে আসতে চাইনি। আমরা চেয়েছিলাম সংসদের ভেতরে এর ফয়সালা হবে। জনগণের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। আপনারা প্রস্তুত থাকুন, বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক আসবে। আমরা আসছি, এ লড়াইয়ে জনগণের বিজয় হবে।’
সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দেশের বর্তমান সমস্যা ও সংকট মোকাবেলায় ব্যর্থ হলে সরকারের জন্য ১৬ বছর তো দূরের কথা, পাঁচ বছরও অপেক্ষা করা হবে না। বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া এককভাবে দেশ চালানোর ক্ষমতা এ সরকারের নেই। প্রধানমন্ত্রী যদি দেশের সংকট সমাধান করতে না পারেন, তবে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিন। বলুন যে আপনাদের কাছে দেশ চালানোর সঠিক কোনো পরিকল্পনা নেই। বিরোধী দলের সমর্থন ছাড়া একা আপনার পক্ষে রাষ্ট্র চালানো সম্ভব নয়।’
এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমদের সভাপতিত্বে এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এইচএম হামিদুর রহমান আজাদসহ অন্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *