ঢাকার খাল পুনরুদ্ধারে তৎপরতা নেই দুই সিটি করপোরেশনের
সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬
জ্বালানি নিরাপত্তায় সরকারের রোডম্যাপ বিদ্যুৎ-গ্যাস খাত সংস্কারে নেই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, আমদানি ও নতুন বড় প্রকল্পেই বেশি ঝোঁক
সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬
ঢাকার খাল পুনরুদ্ধারে তৎপরতা নেই দুই সিটি করপোরেশনের
সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬
জ্বালানি নিরাপত্তায় সরকারের রোডম্যাপ বিদ্যুৎ-গ্যাস খাত সংস্কারে নেই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, আমদানি ও নতুন বড় প্রকল্পেই বেশি ঝোঁক
সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬

খুলনা-সাতক্ষীরা ৩৩ কিলোমিটার মহাসড়ক ১৬ কিলোমিটারজুড়ে উঠে গেছে পিচ, স্থানে স্থানে খানাখন্দ

জানা গেছে, ছয় বছর আগে সড়কটির উন্নয়ন ও সংস্কারে প্রায় ১৯০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। সম্প্রতি সড়কের ইটের সলিংয়ের মধ্যে নয় কিলোমিটার আরসিসি ঢালাইয়ে আরো ১০০ কোটি টাকার টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে।
দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দেড় কিলোমিটার অংশে কার্পেটিং করা হয়েছিল গত বছর বর্ষার পর। কিন্তু এক বছর না যেতেই সড়কটুকুর বিভিন্ন স্থানে উঠে গেছে পিচ, সৃষ্টি হয়েছে গর্ত ও খানাখন্দ। ফলে ফের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে সড়কের ওই অংশ। এমন অবস্থা শুধু দেড় কিলোমিটারে নয়, খুলনার জিরোপয়েন্ট থেকে আঠারোমাইল পর্যন্ত ৩৩ কিলোমিটার মহাসড়কটির ১৬ কিলোমিটারই এখন চলাচলের অযোগ্য। এর মধ্যে হেলেদুলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে যানবাহন। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য বলছে, গত সাড়ে চার বছরে মহাসড়কটির এ অংশে ২৬৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ৩৮৩ জন আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, ছয় বছর আগে সড়কটির উন্নয়ন ও সংস্কারে প্রায় ১৯০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। সম্প্রতি সড়কের ইটের সলিংয়ের মধ্যে নয় কিলোমিটার আরসিসি ঢালাইয়ে আরো ১০০ কোটি টাকার টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এর জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে সওজের কিছু কর্মকর্তার অনৈতিক সুবিধা নেয়ার মানসিকতাকে দায়ী করেন তারা।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-২০ সালের মধ্যে ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের আঠারোমাইল পর্যন্ত ৩৩ কিলোমিটার উন্নয়ন করে ১৮-৩৬ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করা হয়। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার এক বছরের মধ্যে বিভিন্ন অংশে গর্তের সৃষ্টি হয়। এরপর নির্মাণকাজে নিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোজাহার এন্টারপ্রাইজ তিন বছর ধরে মেরামত করে। কিন্তু সড়কের বেহাল না কাটায় সওজ নিজস্ব ৪ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে আট দফা সংস্কার করে। এছাড়া দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে দেড় কিলোমিটার কার্পেটিং ও ২৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার আরসিসি ঢালাই দেয়া হয়। সওজের তথ্য অনুযায়ী, মহাসড়কটির উন্নয়ন ও পরবর্তী সংস্কার মিলিয়ে ছয় বছরে ৩৩ কিলোমিটারে ব্যয় হয়েছে ১৮৯ কোটি ৬৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় দাঁড়ায় ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
সরজমিনে দেখা গেছে, ১৬ কিলোমিটার সড়কে ইটের সলিং বসানো হয়েছিল, কিন্তু তা ভেঙে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের কোথাও পিচ সরে উঁচু-নিচু হয়ে আছে, বড় অংশজুড়ে ঢেউয়ের মতো হয়েছে, আবার কোথাও বর্ষার পানিতে আগের ছোট গর্তগুলো বড় হয়ে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দের।
মহাসড়কের আশপাশের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০১৮-২০ সালে সড়কটি পুনর্নির্মাণের সময় নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল। এ কারণে নির্মাণের পর থেকেই গুটুদিয়া, আঙ্গারদোহাসহ বিভিন্ন অংশ ফুলে ওঠে ও গর্তের সৃষ্টি হয়। বারবার মেরামতের পরও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না মহাসড়ক। শুধু অর্থের অপচয় হচ্ছে। এজন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের কিছু কর্মকর্তার অনৈতিক সুবিধা নেয়ার মানসিকতাকে দায়ী করেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এর সঙ্গে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কিছু কর্মকর্তা জড়িত। তারা কৌশলে আর্থিক সুবিধা নিয়েই এসব অনিয়ম-দুর্নীতি করেন। আবার নতুন বাজেট আনেন, সময়ও বাড়ান। কিছুদিন পর সুবিধাভোগী ওইসব কর্মকর্তা হয় বদলি হন, নতুবা অবসরে যান। আর স্থানীয়দের ভোগান্তিটা রয়েই যায়। এসবে কোনো জবাবদিহি নেই।
মহাসড়কটিতে নিয়মিত চলাচলকারী কৈয়া বাজারের বাসিন্দা ট্রাকচালক নিয়ামত আলী বলেন, ‘সড়কের খানাখন্দে চাকা পড়ে গাড়ি দুলে ঝাঁকুনি দেয়। ঝাঁকুনিতে তার গাড়ির কয়েকটি স্প্রিং ভেঙে গেছে। এছাড়া যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। এতে পরিবহনের পেছনে বাড়তি খরচ হচ্ছে।’
বাসচালক লোকমান শেখ বলেন, ‘সড়কে খানাখন্দের কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি ভাঙাচোরা অংশে গাড়ির গতিও কমে যায়। এতে সময় নষ্ট হয়। কিছুদিন পর পর সড়ক বিভাগ গর্ত একটু ঠিক করে, কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবার যা তা-ই হয়।’
মহাসড়কটিতে নিয়মিত চলাচলকারী কয়েকজন পথচারী জানান, সড়কের গর্তে মোটরসাইকেলের চাকা পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন অনেকেই। তাদের কেউ প্রাণ হারিয়েছেন, কারো ভেঙেছে হাত-পা। রাতে চলাচল আরো ঝুঁকিপূর্ণ। সংস্কারকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় অল্প সময়েই সড়ক নষ্ট হচ্ছে। চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়ছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ এড়িয়ে সংস্থাটির খুলনার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মহাসড়কটির নিচের মাটি বা ফাউন্ডেশন ভালো না। আমরা চেষ্টা করছি এটিকে টেকসই করার।’
খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানিমুল হক বলেন, ‘মহাসড়কটির লোড ক্ষমতা ২৭ টন, কিন্তু ৫২ টন ওজনের পাথর বহন করা ট্রাক চলাচল করে। দুর্বল ফাউন্ডেশন ও ওভারলোড—এ দুই কারণে সড়কটি দ্রুত নষ্ট হয়ে গেছে।’ তিনি জানান, সড়কের ইটের সলিংয়ের মধ্যে নয় কিলোমিটার আরসিসি ঢালাইয়ে রূপান্তরে চারটি প্যাকেজে ১০০ কোটি টাকার টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের পরই কাজ শুরু হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *