জানুয়ারি-জুন স্যামসাং-এসকে হাইনিক্সের ৮০০ কোটি ডলার কর পরিশোধ
আগস্ট ৩১, ২০২৬
বিশ্ববাজারে দুই মাসে সর্বোচ্চে কয়লার দাম
আগস্ট ৩১, ২০২৬
জানুয়ারি-জুন স্যামসাং-এসকে হাইনিক্সের ৮০০ কোটি ডলার কর পরিশোধ
আগস্ট ৩১, ২০২৬
বিশ্ববাজারে দুই মাসে সর্বোচ্চে কয়লার দাম
আগস্ট ৩১, ২০২৬

কমছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেলের মজুদ, বিপাকে এশিয়ার শোধনাগারগুলো

হরমুজ প্রণালি সংকটের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। তাই এশিয়ার শোধনাগারগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেলের দিকে ঝুঁকছে।
এতে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি বেড়েছে, একই সঙ্গে কমছে দেশটির অভ্যন্তরীণ তেলের মজুদ। বাণিজ্যিক মজুদ পাঁচ বছরের গড়ের নিচে নেমে যাওয়ার পাশাপাশি কৌশলগত জ্বালানি তেলের মজুদও ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। খবর আনাদোলু এজেন্সি।
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশ। চলতি বছর দেশটিতে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলনের পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ)। তবে তেল উত্তোলন বেশি হলেও মজুদ কমে যাওয়ায় সরবরাহে নতুন কোনো বাধা তৈরি হতে পারে। ফলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ববাজারে।
ইআইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ গত পাঁচ বছরের একই সময়ের তুলনায় কম থাকবে। অন্যদিকে জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটির সরকার মজুদ থেকে তেল ছাড়ায় কৌশলগত পেট্রোলিয়ামের মজুদ (এসপিআর) কমে দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটি ৩৪ লাখ ব্যারেলে, যা ১৯৮২ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন।
এশিয়ার ভরসা এখন যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের একটা বিরাট অংশ পরিবাহিত হয়। এ পথে সরবরাহে বাধা তৈরি হওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে এশিয়ার দেশগুলো। ফলে চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বড় ক্রেতারা মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও আটলান্টিক অঞ্চলের অন্যান্য দেশ থেকে তেল কিনতে হচ্ছে।
ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও ঘনীভূত তেলের প্রায় ৮৯ শতাংশই এশিয়ার বাজারে গেছে। শুধু চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া মিলিয়ে নিয়েছে মোট সরবরাহের প্রায় ৭৪ শতাংশ।
২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে হরমুজ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২ কোটি ১৬ লাখ ব্যারেল তেল ও অন্যান্য তরল জ্বালানি পরিবহন হয়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) তা কমে দৈনিক মাত্র ৪৯ লাখ ব্যারেলে নেমে আসে।
এ পরিস্থিতিতে এশিয়ার শোধনাগারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনা বাড়িয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের চাহিদা বেড়েছে এবং দেশটির বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও বেড়ে গেছে।
পণ্যবাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাবে, এপ্রিল ও মে মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি দৈনিক ৫২ লাখ ব্যারেলের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দিকে ঝুঁকেছিল।
কমছে বাণিজ্যিক মজুদও
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেলের মজুদ কমার পেছনে শুধু রফতানি বৃদ্ধি নয়, আরো কয়েকটি কারণ রয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসে দেশটির নিট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে যায়। একই সময় মৌসুমি রক্ষণাবেক্ষণ শেষে শোধনাগারগুলোয়ও তেল পরিশোধনের পরিমাণ বেড়ে যায়।
২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলোয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ২০১৯ সালের পর সর্বোচ্চ। পেট্রল ও ডিজেলের সরবরাহ কম থাকায় এবং শোধনাগারগুলো ভালো মুনাফা করায় তেল পরিশোধনের হার বাড়ানো হয়।
গত ১৭ এপ্রিল থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত টানা ১০ সপ্তাহ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক তেলের মজুদ কমেছে। গত মে মাসে মজুদ কমে ২ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল, জুনে ১ কোটি ৫০ লাখ এবং জুলাইয়ে আরো ৪০ লাখ ব্যারেল।
আগস্টের শুরুতে অবশ্য মজুদ কিছুটা বেড়েছে। ৭ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে তা ১ কোটি ৭৪ লাখ ব্যারেল বেড়ে ৪২ কোটি ৪৪ লাখ ব্যারেলে দাঁড়ায়। তবু এ মজুদ পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কম।
১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন কৌশলগত মজুদ
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত জ্বালানি তেলের মজুদও দ্রুত কমছে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ আগস্ট এসপিআরে ছিল ২৯ কোটি ৩৪ লাখ ব্যারেল তেল। এক সপ্তাহেই মজুদ কমেছে প্রায় ৫৩ লাখ ব্যারেল।
১৯৮২ সালের ডিসেম্বরের পর এসপিআরে এত কম তেল আর ছিল না। বর্তমানে এ মজুদ অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৭১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেলের মাত্র ৪১ শতাংশ।
ইরান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহনে বাধার কারণে মার্চে জরুরি ভিত্তিতে মজুদ থেকে তেল ছাড়ার কর্মসূচি শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্চের মাঝামাঝি এসপিআরে প্রায় ৪১ কোটি ৫৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ছিল। এর পর থেকে তা কমেছে প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল।
ইআইএর হিসাবে, হরমুজ সংকটের কারণে চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মজুদ প্রতিদিন গড়ে ৪২ লাখ ব্যারেল করে কমেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আরো প্রতিদিন ৩৮ লাখ ব্যারেল কমতে পারে।
সংকট দীর্ঘ হলে যুক্তরাষ্ট্রের কমে যাওয়া জ্বালানি তেলের মজুদ বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়, পাইপলাইনে সমস্যা, শোধনাগার বন্ধ হয়ে যাওয়া বা বিদেশে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেলে সরবরাহে চাপ আরো বাড়তে পারে। ফলে বিশ্ববাজারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দামেও বড় ধরনের ওঠানামা দেখা দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *