
সংঘর্ষ
আগস্ট ৩০, ২০২৬
সাগরে লঘুচাপ
আগস্ট ৩০, ২০২৬‘আমি বিদেশের মাটিতে পাগল অবস্থায় মারা যাব, আমার পরিবার হয়তো আমার কবরও দেখতে পারবে না—এমন ভয়ও পেয়েছিলাম।’
গুমের ৬১ দিনের ভয়াবহ স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে এভাবে আবেগপ্রবণ হয়ে কথাগুলো বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
ভারতে উদ্ধারের পর পরিবারের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগের স্মৃতিও তাকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। মুঠোফোনে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সেই মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে তার স্ত্রী কীভাবে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেছিলেন, সেই ঘটনারও স্মৃতিচারণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গতকাল রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে নিজে গুমের শিকার হওয়ার ঘটনা নিয়ে এভাবে স্মৃতিচারণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আজ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’।
আলোচনার শিরোনাম ছিল, ‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে বা তাদের সন্ধান পেতে চাই আইন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার।’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ২০১৫ সালের শুরুর দিকে সালাহউদ্দিন আহমদ রাজধানীর উত্তরা থেকে নিখোঁজ হন। তখন তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের পদে ছিলেন। বিএনপি তখন অভিযোগ করে, গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নিয়ে গেছে। এর ৬২ দিন পর ১১ মে সিলেটের সীমান্ত লাগোয়া ভারতের মেঘালয়ে শিলংয়ের পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। তখন ভারতের পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সালাহউদ্দিন শিলংয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরি করার সময় লোকজনের ফোন পেয়ে তাকে আটক করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তাকে একটি ছোট কক্ষে ৬১ দিন আটকে রাখা হয়েছিল। কক্ষটি ছিল ৮ ফুট বাই ৪ ফুটের মতো। সেখানে একটি পানির কল ছিল। শৌচকর্মের জন্য ছিল একটি চিকন ছিদ্র। সেটি নালার সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে তার ধারণা। সেখান থেকে দুর্গন্ধ আসত।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাকে একটি নির্জন এলাকায় নামিয়ে দেয়া হয়েছিল। তখন সূর্য ওঠার সময়। পাশে বড় একটি ফাঁকা জায়গায় আমাকে রেখে যাওয়া হয়।’ এ সময় কয়েকজন মানুষকে দেখে তিনি তাদের কাছে জায়গাটির পরিচয় জানতে চান। তিনি হিন্দি ও ইংরেজিতে তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন; কিন্তু তাকে দেখে তারা প্রথমে মানসিক ভারসাম্যহীন বা পাগল মনে করেছিলেন। পরে সালাহউদ্দিন পাশের একটি বিলবোর্ড দেখে বুঝতে পারেন, তিনি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে আছেন। পরে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।
এরপর সালাহউদ্দিন আহমদকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে তিনি দেশে ফেরেন ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর।


