চাঁদপুরের সড়কে বিশৃঙ্খলা রোড পারমিট ও ফিটনেস সনদ ছাড়াই চলছে বেশির ভাগ বাস
আগস্ট ২৯, ২০২৬
বৈশ্বিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নতুন মুদ্রানীতি আসবে সেপ্টেম্বরে
আগস্ট ২৯, ২০২৬
চাঁদপুরের সড়কে বিশৃঙ্খলা রোড পারমিট ও ফিটনেস সনদ ছাড়াই চলছে বেশির ভাগ বাস
আগস্ট ২৯, ২০২৬
বৈশ্বিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নতুন মুদ্রানীতি আসবে সেপ্টেম্বরে
আগস্ট ২৯, ২০২৬

ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুতে শীর্ষে তরুণরা

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে তরুণদের সংখ্যা বাড়ছে। চলতি বছর দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৬-৩০ বছর বয়সীরা। মৃত্যুর হিসাবেও এ বয়সীরা রয়েছে শীর্ষে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছর এ বয়সের ৪ হাজার ৬৩৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ১৬ জন।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রাইসুল ইসলামও এ বয়সসীমার একজন। ২৮ বছর বয়সী এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। শুরুতে ভাইরাল ফিভার ভেবে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। দু-তিনদিন পর জ্বর কমে গেলে স্বাভাবিক কাজকর্মও শুরু করেন। এরপর হঠাৎ শরীর দুর্বল হয়ে পড়া, বমি ও শরীরে হালকা রÅvশ দেখা দেয়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্লাটিলেটের মাত্রা কমে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রাইসুলের মতো অনেক তরুণের ক্ষেত্রেই জ্বর কমে যাওয়ার পর ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পর সুস্থ হয়ে গেছেন—এমন ধারণা থেকে স্বাভাবিক কাজে ফিরে যাওয়াকে বিপজ্জনক বলছেন তারা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের গতকাল প্রকাশিত নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৪২ জন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে কারো মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৫৯০। মৃত্যু হয়েছে ৮৮ জনের।
বয়সভিত্তিক হিসাব বলছে, আক্রান্তের দিক থেকে ২৬-৩০ বছর বয়সীরা সবচেয়ে এগিয়ে। এ বয়সে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৬৩৮ জন। কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে ২১-২৫ বছর বয়সীরা—৪ হাজার ৬৩২ জন। ১৬-২০ বছর বয়সীদের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩৪৮ জন। আর ৩১-৩৫ বছর বয়সীদের আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭।
অর্থাৎ চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের বড় একটি অংশই তরুণ ও যুব বয়সী। শুধু আক্রান্তের সংখ্যায় নয়, মৃত্যুর ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২৬-৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৪৫-৫০ বছর বয়সীদের মধ্যে মারা গেছেন ১২ জন। ৩৬-৪০ বছর বয়সী ১০ জন এবং ৩১-৩৫ বছর বয়সী নয়জন মারা গেছেন। এছাড়া ২১-২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, তরুণদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ার অন্যতম কারণ জ্বর কমে যাওয়ার পর অসুস্থতাকে গুরুত্ব না দেয়া। সাধারণত ডেঙ্গুর প্রথম তিন থেকে পাঁচদিন জ্বর থাকে। এরপর পঞ্চম থেকে সপ্তম দিনের মধ্যে অনেক রোগীর জ্বর কমে আসে। এ সময় রোগী নিজেকে সুস্থ মনে করলেও শরীরের ভেতরে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ফারাজী ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ইনচার্জ ও জেনারেল ফিজিশিয়ান ডা. ইব্রাহীম মাসুম বিল্লাহ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘তরুণদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জ্বর কমে যাওয়ার সময়টাকে গুরুত্ব দেয়া। সাধারণত প্রথম তিন থেকে পাঁচদিন জ্বর থাকে। এরপর পঞ্চম থেকে সপ্তম দিনের মধ্যে অনেকের জ্বর কমে যায়। তখন তরুণরা মনে করেন তিনি সুস্থ হয়ে গেছেন। ফলে স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করে দেন এবং বিশ্রাম বা চিকিৎসকের পরামর্শকে তেমন গুরুত্ব দেন না।’
তিনি বলেন, ‘বাস্তবে এ সময়টিই ডেঙ্গুর গুরুতর পর্যায় হতে পারে। জ্বর কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক রোগীর রক্তচাপ ও প্লাটিলেট কমে যেতে পারে। শরীর থেকে তরল বেরিয়ে গিয়ে রক্তের পরিমাণ কমে হাইপোভলিউমিক শক তৈরি হতে পারে। তখন রোগীর অবস্থা দ্রুত অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’
তরুণদের এ বিষয়ে আরো সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে এ চিকিৎসক বলেন, ‘বয়সের কারণে অনেক তরুণের মধ্যে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কাজ করে। পাশাপাশি অন্য জটিল রোগ তুলনামূলক কম থাকায় তারা ডেঙ্গুর ঝুঁকিকেও কম করে দেখেন। জ্বর কমে গেলেই বিপদ কেটে গেছে—এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং এ সময় পর্যাপ্ত বিশ্রামে থাকা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা এবং শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি।’
এদিকে ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের মধ্যেও পুরুষের সংখ্যা বেশি। হাসপাতালে ভর্তি ৩৪২ জনের মধ্যে ২২৯ জন পুরুষ এবং ১১৩ জন নারী। অর্থাৎ নতুন ভর্তি রোগীদের প্রায় ৬৭ শতাংশই পুরুষ। অঞ্চলভিত্তিক হিসেবেও সংক্রমণের বিস্তার রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগে—৯৩ জন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৭২ জন, বরিশাল বিভাগে ৬৩, ময়মনসিংহে ৪৮, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৩ ও রংপুর বিভাগে ২৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৩৪৫ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩০ হাজার ৪২২ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *