কাদা ও ধ্বংসস্তূপে নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এখন আতঙ্কের জনপদ
আগস্ট ২৯, ২০২৬
ঢাকাসহ দেশের ১১ অঞ্চলে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা
আগস্ট ২৯, ২০২৬
কাদা ও ধ্বংসস্তূপে নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এখন আতঙ্কের জনপদ
আগস্ট ২৯, ২০২৬
ঢাকাসহ দেশের ১১ অঞ্চলে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা
আগস্ট ২৯, ২০২৬

বিপৎসীমার ওপরে ফারাক্কার পানি সব গেট খুলে দিতে পশ্চিমবঙ্গকে বিহারের অনুরোধ

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার প্রভাবে ভারতে গঙ্গার পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে। ফারাক্কা ব্যারাজ এলাকায় নদীর পানি এরই মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
উজান থেকে আসা বিপুল পানি সামাল দিতে ব্যারাজ দিয়ে ভাটির দিকে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ কিউসেক পানি প্রবাহিত করা হচ্ছে। এর মধ্যেই বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ফারাক্কা ব্যারাজের সব গেট খুলে দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বিহার সরকার।
ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের (সিডব্লিউসি) তথ্য অনুযায়ী, ফারাক্কায় গঙ্গার বিপৎসীমা ২২ দশমিক ২৫ মিটার। সেখানে পানির উচ্চতা এরই মধ্যে ২২ দশমিক ৭৭ মিটারে পৌঁছেছে, যা বিপৎসীমার চেয়ে ৫২ সেন্টিমিটার বেশি। আজ রাত ৮টার মধ্যে তা আরো বেড়ে ২২ দশমিক ৮৫ মিটারে পৌঁছতে পারে।
পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় বিহারের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। পাটনার সব প্রধান ঘাটে গঙ্গার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় পানি কমিশন।
পরিস্থিতির অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি বিহারের বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে ফারাক্কা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেয়ার অনুরোধ জানান। সম্রাট চৌধুরী বলেন, ব্যারাজের সব গেট খুলে দেয়া হলে গঙ্গার পানির প্রবাহ সহজ হবে এবং বিহারের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
সিডব্লিউসির কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার জানিয়েছেন, নেপালের তরাই অঞ্চলের বন্যার পানি গণ্ডক নদী হয়ে পাটনায় গঙ্গায় মিশছে। সেখান থেকে বিপুল জলরাশি ফারাক্কার দিকে এগিয়ে আসছে। ফারাক্কা ব্যারাজের মহাব্যবস্থাপক আরডি দেশপান্ডে জানিয়েছেন, উজান থেকে আসা পানির চাপ সামলাতে ফিডার ক্যানাল দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক এবং ব্যারাজের গেট খুলে ভাটির দিকে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ কিউসেক পানি প্রবাহিত করা হচ্ছে।
এতে পশ্চিমবঙ্গের সামশেরগঞ্জ, সুতি, লালগোলা, জিয়াগঞ্জ ও জলঙ্গীর নদীতীরবর্তী এলাকায় বন্যার আশঙ্কা বেড়েছে। এখনো এসব এলাকা সরাসরি প্লাবিত না হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং মাইকিং করে গঙ্গাতীরের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *