২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য কমেছে ৮.৩২ শতাংশ
আগস্ট ২৮, ২০২৬
কবি নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
আগস্ট ২৮, ২০২৬
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য কমেছে ৮.৩২ শতাংশ
আগস্ট ২৮, ২০২৬
কবি নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
আগস্ট ২৮, ২০২৬

সারা দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব পেলেন ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ

সরকারের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ে ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাদের কেউ দুই থেকে তিনটি, আবার কেউ একটি জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।
মূলত তারা সংশ্লিষ্ট জেলার আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও উন্নয়ন কার্যক্রম দেখভাল করবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা গতকালের এক প্রজ্ঞাপনে ৬৪ জেলার দায়িত্ব বণ্টনের কথা জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে। লুট করা অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার হয়েছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অর্থের অন্য অংশ দেশের ভেতরে মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।
এ অবস্থায় জেলা পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ এবং কার্যপ্রণালি বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদকে রাজশাহী ও নাটোর; আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়; আবদুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর; নিতাই রায় চৌধুরীকে চুয়াডাঙ্গা; খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে হবিগঞ্জ এবং আরিফুল হক চৌধুরীকে মৌলভীবাজারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি পেয়েছেন চট্টগ্রামের দায়িত্ব। এছাড়া এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা; আসাদুল হাবিব দুলুকে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর এবং মো. আসাদুজ্জামানকে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট; জাকারিয়া তাহেরকে ফেনী ও নোয়াখালী; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ; সাচিং প্রুকে কক্সবাজার এবং মো. শরীফুল আলমকে টাঙ্গাইল ও নরসিংদীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম মাদারীপুর ও শরীয়তপুর; অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ; আব্দুল বারী বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ঢাকা জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে। হাবিবুর রশিদ গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ; মো. রাজীব আহসানকে বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর এবং মীর শাহে আলম রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের দায়িত্ব পেয়েছেন।
ফারজানা শারমিনকে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা; শেখ ফরিদুল ইসলামকে যশোর, মাগুরা ও নড়াইল; ইমরান খান চৌধুরীকে জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ এবং আহমেদ সোহেল মঞ্জুরকে বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। জয়পুরহাট ও নওগাঁর মোহাম্মদ শামীম কায়সার; সিলেট ও সুনামগঞ্জের মো. জি কে গউছ; রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জের মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুরের দায়িত্ব পেয়েছেন এবিএম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি দপ্তরগুলোকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং পুরনো অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। সেই সঙ্গে নির্বাচনী ইশতাহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি করবেন। প্রয়োজন হলে জেলার বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শও দিতে পারবেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *