
সাপ্তাহিক পুঁজিবাজার ডিএসইতে লেনদেন কমেছে প্রায় ১৬ শতাংশ
আগস্ট ১৫, ২০২৬
সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের অনুরোধ
আগস্ট ১৫, ২০২৬
সিলেট জোনের চারটি সরকারি রাবার বাগানে ধারাবাহিকভাবে কমেছে উৎপাদন।
অধিকাংশ গাছের বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়া এবং উচ্চ পরিচালন ব্যয়ের কারণে প্রতি বছর বড় অংকের লোকসানে পড়ছে বাগানগুলো। বর্তমানে মোট গাছের মাত্র ২৫ শতাংশের উৎপাদন সক্ষমতা আছে। ফলে শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা এবং বাগান ব্যবস্থাপনার পরিচালন ঘাটতি মেটাতে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে সরকারকে।
বাংলাদেশ রাবার বোর্ড ও বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফআইডিসি) এবং বেসরকারি উদ্যোগে দেশের রাবার বাগানগুলো পরিচালিত হয়। তার মধ্যে বিএফআইডিসির অধীনে দেশে তিনটি জোনে ১৮টি সরকারি রাবার বাগান পরিচালিত হয়। এর মধ্যে সিলেট জোনে রয়েছে চারটি বাগান। এর বাইরে সারা দেশে ১ হাজার ৩০৪টি বেসরকারি বাগান বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রাবার উৎপাদন করছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন চা-বাগানের জমিতেই রয়েছে প্রায় ২০টি বেসরকারি রাবার বাগান।
বিএফআইডিসি সিলেট জোনের শ্রীমঙ্গল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চারটি সরকারি রাবার বাগানের মোট আয়তন ৮ হাজার ৯৪০ একর। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা রাবার বাগান (২ হাজার ৮৯৯ একর)। অন্য তিনটি হলো শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও রাবার বাগান (১ হাজার ৯৭৪ একর), হবিগঞ্জের মাধবপুরের শাহজীবাজার রাবার বাগান (২ হাজার ১০৪ একর) ও বাহুবলের রূপাইছড়া রাবার বাগান (১ হাজার ৯৬৩ একর)। এ চার বাগানে বর্তমানে সাড়ে ৮ লাখ রাবার গাছ রয়েছে। তবে এর ৬০ শতাংশ গাছের বয়সই ৫০ বছরের বেশি। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, রাবার গাছ রোপণের ৭ বছর পর কষ বা ল্যাটেক্স দেয়া শুরু করে এবং ৩২ বছর বয়স পর্যন্ত উৎপাদন সক্ষমতা ভালো থাকে। এরপর গাছ জীবনচক্র হারিয়ে অনুৎপাদনশীল হয়ে পড়ে।
চারটি বাগানে বর্তমানে ৬০০ স্থায়ী ও ১৫০ জন অস্থায়ী শ্রমিক কাজ করছেন। উৎপাদন না থাকলেও তাদের বেতন-বোনাস দিতে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এ ব্যয় মাত্র ২৫ শতাংশ গাছের উৎপাদন থেকে মেটানো সম্ভব না।
বিএফআইডিসির তথ্যমতে, সরকারি উদ্যোগে ১৯৬০-৭৩ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেটে ৭ হাজার ৭০০ একর এলাকা রাবার বাগানের জন্য নির্বাচন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় কুলাউড়ার ভাটেরায় প্রথম বাগান তৈরির মাধ্যমে মৌলভীবাজারে রাবার চাষ শুরু হয়। শুরুতে একরে ২৫০টি গাছ লাগানো হলেও এখন পুরনো গাছ কেটে পুনরায় বাগান সৃজনের সময় ২২৫টি করে চারা রোপণ করা হচ্ছে। নতুন বাগানে মালয়েশিয়ান ও শ্রীলংকান উচ্চফলনশীল ক্লোন জাতের চারা ব্যবহার করা হচ্ছে।
সাত বছর বয়স থেকে একটি রাবার গাছ ল্যাটেক্স দেয়া শুরু করে। একটি সুস্থ রাবার গাছ থেকে বছরে গড়ে ১২-১৫ কেজি ল্যাটেক্স পাওয়া যায়। একরপ্রতি বার্ষিক গড় উৎপাদন প্রায় তিন হাজার কেজি। চার কেজি কাঁচা ল্যাটেক্স থেকে এক কেজি শুকনো রাবার শিট তৈরি হয়। গাছ থেকে কষ সংগ্রহের পর ৪-৫ ঘণ্টার মধ্যে তা প্রক্রিয়াজাত করতে হয়। বড় বাগানে প্রক্রিয়াজাতের সুবিধা থাকলেও ছোট বাগানে সে ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীরা সরাসরি কাঁচা কষ কিনে নেন। উৎপাদিত কাঁচামাল ঢাকার মিরপুরে বিএফআইডিসির নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্রে পাঠিয়ে নিলামে বিক্রি করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে দেশে রাবারের বার্ষিক চাহিদা এক লাখ টনের বেশি। বিপরীতে ১ লাখ ৪৭ হাজার একর জমিতে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৭০ হাজার টন। চাহিদার বেশির ভাগই এখন দেশের বাজার থেকে পূরণ করা হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় ডানকান ব্রাদার্স, ফিনলেসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চা-বাগানের পতিত জমিতে রাবার চাষ বাড়াচ্ছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি দেশেও রাবারের দাম বেড়েছে। রাবার বিক্রি হয় তিনটি পর্যায়ে। প্রথম পর্যায়ে কাঁচা তরল ল্যাটেক্স, দ্বিতীয় পর্যায়ে ঘনীভূত ল্যাটেক্স এবং সর্বশেষ পর্যায়ে শুকনো রাবার শিট। বাগান পর্যায়ে প্রতি কেজি কাঁচা ল্যাটেক্স বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়, ঘনীভূত তরল বা ল্যাটেক্স ১৭০-১৮০ এবং শুকনো রাবার শিট পাইকারি মানভেদে ৩০০-৩২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাধারণত আগস্ট-মার্চ পর্যন্ত রাবার উৎপাদন হলেও অক্টোবর-জানুয়ারি ভরা মৌসুম। এ সময় স্থায়ী শ্রমিকের পাশাপাশি অস্থায়ী শ্রমিকরাও বাগানে কাজ করেন। লোকসান কমাতে পুরনো গাছ কেটে পুনরায় বাগান সৃজনের উদ্যোগ নিয়েছে বিএফআইডিসি। প্রতিষ্ঠানটির সিলেট জোনের মহাব্যবস্থাপক শোভন কান্তি সাহা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২০২০ সালে ৬০০ একর জমিতে পুরনো গাছ কেটে নতুন বাগান করা হয়। পুরনো গাছের কারণে উৎপাদন কমলেও ছয় বছর আগে লাগানো প্রায় দেড় লাখ গাছ আগামী দুই-এক বছরে উৎপাদনে যুক্ত হবে। নতুন করে আরো ৯০০ একর জমিতে পুনরায় বাগান সৃজন করা হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ লোকসান কেটে যাবে বলে আশা করা যায়।’


