
সাতক্ষীরায় আমদানি বাড়লেও কমেনি শুকনো মরিচের দাম
আগস্ট ১০, ২০২৬
গাজা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান ইসরায়েলের
আগস্ট ১০, ২০২৬শীর্ষ ১১টি শিল্পগোষ্ঠীর পর এবার ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত ৪২টি প্রতিষ্ঠানের পাচার করা সম্পদ উদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
খেলাপি ঋণ আদায়ে বিদেশে নামে-বেনামে থাকা এসব সম্পদ উদ্ধারের জন্য বৈশ্বিক আটটি আন্তর্জাতিক আইনি ও পেশাদার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিও করছে ব্যাংকগুলো।
খেলাপি এসব প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়া ৩৮টি ব্যাংকের সঙ্গে গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব তথ্য উঠে আসে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে বিকালে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা (এমডি) উপস্থিত ছিলেন। বিদেশে সম্পদ উদ্ধারে যেসব ব্যাংক এখনো ওই আটটি আন্তর্জাতিক আইনি ও পেশাদার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ‘নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট’ (এনডিএ) করেনি, তাদের দ্রুত তা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ মোট ১২টি দেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে জোর দেয়া হচ্ছে। আর এ পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হবে ‘নো উইন, নো পে’ নীতিতে। অর্থাৎ বিদেশী আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ নিজ খরচে সম্পদ খুঁজে বের করবে এবং উদ্ধারকৃত সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ তারা পারিশ্রমিক হিসেবে পাবে। এজন্য ব্যাংকগুলোকে কোনো অগ্রিম অর্থ দিতে হবে না।
বৈঠকে উপস্থিত একটি ব্যাংকের এমডি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বৃহৎ ঋণখেলাপিদের পাচারকৃত সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন গভর্নর। এজন্য আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এনডিএ করতে বলেছেন। যেসব ব্যাংকের খেলাপি বেশি, তারা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে শিগগিরই এনডিএ করবেন বলে গভর্নরকে জানিয়েছেন।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারিশকৃত আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো গ্র্যান্ট থর্নটন, আরআই কনসোর্টিয়াম, বেকার ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড পিডব্লিউসি, ডিএলএ পাইপার অ্যান্ড ক্রোল, ইওয়াই অ্যান্ড ডেন্টনস, রহমান রাভেলি অ্যান্ড ইন্টারপাথ, বিসিজি অ্যান্ড এইচএইচআর ও অ্যানিমাস অ্যাসোসিয়েটস। ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন ৪২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিদেশে পাচারকৃত অর্থ অনুসন্ধান ও উদ্ধারের চেষ্টা করবে তারা।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রথম ধাপে ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পাচারকৃত সম্পদ খুঁজে বের করতে এনডিএ করতে বলা হয়েছিল। এখন দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো যারা শীর্ষ খেলাপি আছে, তাদের বিদেশী সম্পদ শনাক্ত করা হবে। এরপর স্থানীয় আইন অনুযায়ী প্রথমে জব্দ এবং পরে আদালতের মাধ্যমে তা দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনাই গভর্নরের অগ্রাধিকার।’
এর আগে গত বছরের অক্টোবরে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে ১২টি আন্তর্জাতিক আইনি ও পেশাদার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এনডিএ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংক একাধিক বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে বলে জানা গেছে। গতকালের বৈঠকে গভর্নর ব্যাংকগুলোর কাছে সে বিষয়েও অগ্রগতির তথ্য জানতে চান।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে দেশের ব্যাংক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে-বেনামে নেয়া এসব ঋণের বড় একটি অংশ অনাদায়ী হয়ে পড়ায় দেশের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল। অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংক লুটপাটের এ অর্থের একটি বড় অংশই বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ থেকে পরবর্তী ১৫ বছরে ২৮টি কৌশলে দুর্নীতি করে দেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৯ লাখ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)। এতে দেখা যায়, ওই সময়ে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা করে বিদেশে চলে গেছে।


