২০২৫-২৬ অর্থবছর দেশীয় উৎপাদন কমায় সার আমদানি ১৪% বেশি, ব্যয় বেড়েছে ৪৯ শতাংশ
আগস্ট ৬, ২০২৬
আওয়ামী লীগের পরিণতি নির্ধারণ করবে আদালত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আগস্ট ৬, ২০২৬
২০২৫-২৬ অর্থবছর দেশীয় উৎপাদন কমায় সার আমদানি ১৪% বেশি, ব্যয় বেড়েছে ৪৯ শতাংশ
আগস্ট ৬, ২০২৬
আওয়ামী লীগের পরিণতি নির্ধারণ করবে আদালত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আগস্ট ৬, ২০২৬

পুঁজিবাজারে টানা চার মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখিতা জুলাইয়ে দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে ডিএসইএক্স

বিভিন্ন নীতিগত সংস্কারের ঘোষণা এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আয় বাড়ার প্রভাবে দেশের পুঁজিবাজারে টানা চার মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে।

এর মধ্যে গত জুলাই শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩২ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৯৬ পয়েন্টে। সূচকের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তায় লেনদেনের গতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যেখানে জুলাইয়ে গড় দৈনিক লেনদেন ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫৫ কোটি টাকায়।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত জুলাইয়ের শুরু থেকেই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার কেনার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে গত মাসের মাঝপথে ডিএসইএক্স গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৯২৬ দশমিক ২৮ পয়েন্টে পৌঁছে এবং দৈনিক লেনদেনও ১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়, যা দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে মার্জিন ঋণের চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে তৈরি হওয়া সাময়িক অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে দেখা দেয়া ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নিতে শেয়ার বিক্রি শুরু করেন। কিন্তু জুলাইয়ের শেষভাগে এসে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হওয়া এবং ডিসেম্বরে হিসাব বছর শেষ হওয়া কোম্পানিগুলোর প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আয় প্রকাশের খবরে বাজারে আবারো শেয়ার কেনার চাপ বাড়তে থাকে, যার ফলে টানা চতুর্থ মাস ইতিবাচক অবস্থানে ছিল পুঁজিবাজার।

জুলাইয়ে খাতভিত্তিক পারফরম্যান্সে সর্বোচ্চ ২১ দশমিক ৯৮ শতাংশ রিটার্ন দিয়ে তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে মিউচুয়াল ফান্ড। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রিটার্ন দেখা গেছে বস্ত্র খাতে ১০ দশমিক ৮১ শতাংশ। এছাড়া খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ, পাট খাতে ৬ দশমিক ৩৪, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ৬ দশমিক ১০, চামড়া খাতে ৫ দশমিক ৯২ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর বিপরীতে শুধু টেলিযোগাযোগ খাতে দশমিক ৪৯ শতাংশ ঋণাত্মক রিটার্ন ছিল। দৈনিক গড় লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে ছিল বস্ত্র খাত, যা মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। লেনদেনের তালিকায় এর পরই ছিল বীমা খাত ১৪ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাত ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

গত মাসে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবিসি), বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও পূবালী ব্যাংক। বিএটিবিসির দর ১৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে ১৮ দশমিক ১৬ পয়েন্ট যোগ হয়েছে। পাশাপাশি আইডিএলসি, আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক, বিএসআরএম স্টিল ও প্রিমিয়ার ব্যাংক সূচকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে সূচকের গতি মন্থর করতে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল বেক্সিমকো লিমিটেডের, যার দর ২০ দশমিক ৮২ শতাংশ কমার কারণে সূচক ১৪ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট হারিয়েছে। এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংকের ৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ১ দশমিক ৯২ শতাংশ দরপতনের কারণে সূচক যথাক্রমে ১০ দশমিক ৫৪ ও ৮ দশমিক ২৮ পয়েন্ট কমেছে। জুলাইয়ে লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে থাকা শেয়ারগুলোর মধ্যে ছিল মালেক স্পিনিং, আইটি কনসালট্যান্ট ও সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, পুঁজিবাজারের এ গতিশীলতার পেছনে দেশের সাম্প্রতিক মুদ্রানীতি ও ঋণের সুদের হারের বড় ভূমিকা রয়েছে। ব্যক্তিশ্রেণীর বিনিয়োগে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার (পলিসি রেট) ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়েছে। এর প্রভাবে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমে এসেছে, যা ব্যাংক খাতে তারল্য সঞ্চারের পাশাপাশি পুঁজিবাজারে মূলধন প্রবাহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। তাছাড়া ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বেশকিছু বহুজাতিক কোম্পানির ভালো আর্থিক পারফরম্যান্সের কারণেও পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এশিয়ার পুঁজিবাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ সময় ভারতে ২ দশমিক ১১ শতাংশ, থাইল্যান্ডে ২ শতাংশ ও মালয়েশিয়ার পুঁজিবাজারের সূচক ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে এ সময়ে পাকিস্তানের কেএসই-১০০ সূচক ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ, শ্রীলংকার এএসপিআই ৫ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ভিএন সূচক ৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ পয়েন্ট হারিয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *