ইউরোজোনের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৯ শতাংশে
আগস্ট ২, ২০২৬
ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ আছে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা
আগস্ট ৩, ২০২৬
ইউরোজোনের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৯ শতাংশে
আগস্ট ২, ২০২৬
ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ আছে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা
আগস্ট ৩, ২০২৬

ঝুঁকিতে টেলিকম ও যোগাযোগ ব্যবস্থা তামার চড়া দামে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে কেবল চুরি!

আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দাম নতুন রেকর্ড গড়েছে।

দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় বিশ্বজুড়ে তামার তার চুরির ঘটনা মারাত্মক রূপ নিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। বিদ্যুৎ সরবরাহ, ট্রেন চলাচল ও টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের জন্য এ পরিস্থিতি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু সংঘবদ্ধ দল তামা চুরির ‘ব্যবসায়’ জড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের অন্যতম বড় তামা উৎপাদনকারী দেশ চিলিতে সম্প্রতি এ ধাতু চুরির সবচেয়ে বড় ঘটনা উন্মোচন হয়েছে।

দেশটির পুলিশ নিশ্চিত করে, একটি চক্র গত পাঁচ বছরে প্রায় ১০০ কোটি ডলার মূল্যের চোরাই তামা বিক্রি করেছে। পুরনো তামার তার সরিয়ে নতুন ফাইবার অপটিক কেবল বসানোর সময় টেকনিশিয়ানদের সহায়তায় তামা চুরি করা হয়।

চিলির পুলিশ পরিচালিত ‘চিলি হাই ভোল্টেজ’ অভিযানের তথ্যমতে, চোরাই তামা অবৈধভাবে শিপিংয়ের মাধ্যমে চীনে পাঠানো হয়। উল্লেখ্য, চীন বিশ্ববাজারে তামার সবচেয়ে বড় ক্রেতা ও প্রক্রিয়াজাতকারী দেশ।

চিলির পুলিশ টাস্কফোর্সের কর্মকর্তা সান্তিয়াগো ব্রাভো জানান, তামা চুরির পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট স্তরভিত্তিক কাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন বড় আন্তর্জাতিক অপরাধী গ্রুপ।

তিনি বলেন, ‘তামা বিক্রির উচ্চ মুনাফাকে কেন্দ্র করে অপরাধীরা এখন একে নতুন সুযোগ হিসেবে বেছে নিচ্ছে। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে শুরু করে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এ নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক রিসাইকেলিং ম্যাটেরিয়ালস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রবিন উইনার জানান, অতীতের রেকর্ড ভেঙে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় তামা চুরির ঘটনা অভূতপূর্ব মাত্রায় বেড়েছে। তামার দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আকাশচুম্বী হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বিশ্লেষকদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী দশকগুলোয় তামার চাহিদা বাড়তেই থাকবে। মূলত বিদ্যুৎ পরিবাহী ধাতু হিসেবে বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি খাত, বৈদ্যুতিক অবকাঠামো ও নির্মাণ খাতে তামার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত (এআই) ডেটা সেন্টার ও সেগুলোয় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জাতীয় গ্রিড তৈরির জন্য তামা অপরিহার্য উপাদান।

ডেটা সেন্টারের বিকাশ তামার ভবিষ্যৎ চাহিদা এক লাফ বাড়িয়ে দিয়েছে। গত বছর বিশ্বের প্রধান তামা খনিগুলোয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অভ্যন্তরীণ অচলাবস্থার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ধাতুটির দাম রেকর্ড ৪০ শতাংশেরও বেশি উঠেছিল। চলতি বছরেও তামার দাম সর্বোচ্চের কাছাকাছি অবস্থান করছে। দাম চড়া থাকায় চোরদের মূল লক্ষ্য এখন দূরযোগাযোগ ও বিদ্যুৎ লাইনের কপার কেবল।

অপরাধীরা ট্রেনের ট্র্যাক, বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) চার্জিং স্টেশন ও বায়ু এবং সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে কেবল ও তামার তার চুরি করছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, তামার টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত ও চোরাচালান বন্ধ করা না গেলে প্রযুক্তি খাতের সার্বিক প্রবৃদ্ধি এবং যোগাযোগ খাত বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *