দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ চট্টগ্রামে সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী, প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে ১৭ জনের বেশি
আগস্ট ২, ২০২৬
গ্রেফতার
আগস্ট ২, ২০২৬
দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ চট্টগ্রামে সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী, প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে ১৭ জনের বেশি
আগস্ট ২, ২০২৬
গ্রেফতার
আগস্ট ২, ২০২৬

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ খুলনায় সাত মাসে ১,৯৮৩ রোগী জুলাইয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১,২৮২

খুলনা বিভাগে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ।

প্রতিদিনই বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত বিভাগে মোট ১ হাজার ৯৮৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার আগে ৩০ জুন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ছিল ৭০১। সে হিসেবে জুলাইয়ে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৮২ জন। অর্থাৎ এ বিভাগে গত ছয় মাসের তুলনায় জুলাইয়ে প্রায় দ্বিগুণ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে অধিকাংশই চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ১৮৫ জন চিকিৎসাধীন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৯ জন বাগেরহাট জেলায় ভর্তি রয়েছে। এছাড়া খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে অন্য রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড, প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন ও পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। রোগীর সংখ্যা বাড়লেও চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা জোরদার করা হচ্ছে।

ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে। সেখানে সার্বক্ষণিক দেখভালসহ চিকিৎসাসেবা প্রদানের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জনসাধারণকে সচেতন করতেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।’

ঝিনাইদহ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান বলেন, ‘পৌরসভার পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। বাড়ির পাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কার, নালা-নর্দমা ও ড্রেনে যাতে পানি জমে লার্ভা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য স্প্রে করা হচ্ছে। এছাড়া সচেতন করতে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।’

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জনসাধারণকে সচেতন করতে সভা-সমাবেশ, সেমিনার ও মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। যার ফলে এ জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিভাগের সব সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সময়মতো হাসপাতালে এলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।’ তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান।

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র প্রদান, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং মশক নিধন কার্যক্রম এরই মধ্যে জোরদার করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য প্রতিদিন দুই দফায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য, কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রোগীর সংখ্যা কমিয়ে আনা, যাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ কম থাকে।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *