বাধ্যতামূলক অবসর ঘিরে চাপে প্রশাসন বাড়ছে অনিশ্চয়তা
জুলাই ৩০, ২০২৬
আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ ও মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার
জুলাই ৩০, ২০২৬
বাধ্যতামূলক অবসর ঘিরে চাপে প্রশাসন বাড়ছে অনিশ্চয়তা
জুলাই ৩০, ২০২৬
আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ ও মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার
জুলাই ৩০, ২০২৬

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট ও পিপিআরসির গবেষণা ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে

সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। যৌথভাবে গবেষণাটি করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেন্ট রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।

অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ডা. হোসেন জিল্লুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের নিরীক্ষা পরিচালক মাহফুজা খানমসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য পেশাজীবী, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।

গবেষণাটি দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও তৃতীয় পর্যায়ের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করে পরিচালিত হয়। এতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন ও সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়।

এছাড়া ৯৫ কর্মকর্তার জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি ও পেশাগত চর্চা বিষয়ে একটি জরিপ পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপক, জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারক, সরবরাহকারী, শিক্ষাবিদ ও রোগীদের সঙ্গে আরো ৩২টি সাক্ষাৎকার নেয়া হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জরিপভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক বাজেট ব্যবহারের হার ছিল ৮৫ শতাংশ। মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল সবচেয়ে কম, ৭৮ শতাংশ। অর্থবছর শেষে ৯৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে অব্যয়িত অর্থ থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও মাত্র ১১ শতাংশ আর্থিক অব্যবস্থাপনাকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।

টেন্ডার প্রক্রিয়ার অনিয়মের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পছন্দের লোককে কাজ দিতে টেন্ডারে এমন অবাস্তব শর্ত জুড়ে দেয়া হয়, যাতে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানই কাজ পায়। যেমন পাঁচ বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার ট্রানজেকশনের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নেয়া কয়জন ব্যবসায়ী এ শর্ত পূরণ করতে পারবেন? এটি করা হয় মূলত প্রতিযোগিতা সীমিত করে পছন্দের পাত্রকে কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য।’

টেস্ট বাণিজ্য বন্ধ করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব রেখে বাইরে পাশের ক্লিনিক খোলাবেন, সরকারি দায়িত্ব রেখে সেখানে সার্জারি করবেন আর কমিশন খাবেন, রোগী এলে বলবেন পাশের ক্লিনিকে গিয়ে টেস্ট করতে, এসব বন্ধ করতে হবে। এগুলো মনিটর করা হবে।’

অনুষ্ঠানে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘‌স্বাস্থ্য খাতের মূল নীতিগত চ্যালেঞ্জ কেবল বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো নয়; বরং বরাদ্দকৃত অর্থকে নাগরিকদের জন্য নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবায় রূপান্তর করার মতো প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরি করা।’ স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান প্রশাসনিক দুর্বলতা ও বাজেট ব্যবহারের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে তিনি একটি পর্যায়ক্রমিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘সীমিত প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, প্রক্রিয়াগত জটিলতা, অনমনীয় বাজেট কোড, দুর্বল তথ্য ব্যবস্থা এবং সরবরাহের ঘাটতির কারণে বাজেটের কার্যকর ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্বল্পমেয়াদে প্রশিক্ষিত চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ, ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং ক্রয়প্রক্রিয়া সহজ করা প্রয়োজন। মধ্যম মেয়াদে একটি স্বতন্ত্র স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ক্যাডার প্রতিষ্ঠা, আর্থিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং বাজেট কোডকে আরো নমনীয় করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে নিরবচ্ছিন্ন ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইডিসিএলকে আধুনিকায়ন এবং সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপোকে (সিএমএসডি) শক্তিশালী করতে হবে।’

সমাপনী বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌অর্থবহ প্রশাসনিক সংস্কার ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শুধু বাহ্যিক বা লোকদেখানো পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক সততা।’

সাধারণ মানুষের কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কর্মসম্পাদনের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *