যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ, কমল জ্বালানি তেলের দাম
জুলাই ২৮, ২০২৬এসএসসির ফল ১০ আগস্ট
জুলাই ২৮, ২০২৬রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচি ঘিরে হত্যাকাণ্ডের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
এর আগে এদিন বেলা পৌনে ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত নিহত ৬১ জনের একটি তালিকা পেয়েছি। তার মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।’
২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে শাপলা চত্বর এবং দেশের চারটি জেলায় হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছিলেন চিফ প্রসিকিউটর।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ জমা পড়ে। পরে তদন্ত সংস্থা ঘটনাটির তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে।
চার্জশিটে যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব-উল
আলম হানিফ, সাবেক মন্ত্রী হাসান মাহমুদ চৌধুরী, ডা. দীপু মনি, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগ নেতা আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সালাউদ্দিন মাহমুদ (এসএম জাহিদ), মৃণাল কান্তি দাস, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, গণজাগরণ মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু, সাংবাদিক ফারজানা রুপা, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, একেএম শহীদুল হক, মোহাম্মদ জাবেদ পাটওয়ারী, সাবেক আইজিপি ও তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব ডিজি মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান ও তৎকালীন বিজিবি ডিজি জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, এনটিএমসির সাবেক প্রধান জিয়াউল আহসান, তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মজিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি ও তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) আব্দুল জলিল মণ্ডল, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ও তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) শেখ মুহাম্মদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজি ও তৎকালীন এসবির অতিরিক্ত ডিআইজি মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত অতিরিক্ত আইজিপি, স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত আইজি ও তৎকালীন উপকমিশনার (ডিএমপি) আনোয়ার হোসেন, সাবেক ডিআইজি ও তৎকালীন উপকমিশনার (ডিএমপি) আশরাফুজ্জামান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি ও মতিঝিল জোনের তৎকালীন এডিসি এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি ও তৎকালীন লালবাগ বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি ও তৎকালীন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি ও নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন এসপি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার ও তৎকালীন মতিঝিল বিভাগের এডিসি মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও তৎকালীন রমনা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার এসএম শিবলী নোমান এবং পুলিশ পরিদর্শক ও মতিঝিল থানার তৎকালীন ওসি বিএম ফরমান আলী।
বর্তমানে এ মামলার নয় আসামি কারাগারে। তারা হলেন ডা. দীপু মনি, শামসুল হক টুকু, জিয়াউল আহসান, একেএম শহীদুল হক, মোল্যা নজরুল ইসলাম, শাহরিয়ার কবির, আবদুল জলিল মণ্ডল এবং সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপা।


