বৈশ্বিক শস্যবাজার
জুলাই ২৬, ২০২৬
দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী ৪২ লাখ খর্বাকৃতি, ৩ লাখ শিশুর অতিরিক্ত ওজন
জুলাই ২৬, ২০২৬রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে বাসের রুট সংখ্যা ৩৮৮ থেকে কমিয়ে ৩২টিতে আনার প্রস্তাব করেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।
বাস রুট র্যাশনালাইজেশন প্রকল্পের আওতায় এ ৩২টি রুট নিয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও বাস মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোও।
ডিটিসিএ কার্যালয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকায় আর অচল রুট রাখা হবে না, সরিয়ে নেয়া হবে ফিটনেসবিহীন বাস। সেই সঙ্গে এক রুটে কেবল একটি কোম্পানির বাসই চলাচলের নিয়ম চালু করা হবে।
ডিটিসিএ জানায়, একাধিক সভার পর আপাতত যে ৩২টি রুটে সবাই একমত হয়েছেন, তার মধ্যে ১৯টি ঢাকার ভেতরের এবং ১৩টি শহরতলি বা নগরের আশপাশের রুট। তবে যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় ছোট, বড় ও সার্কুলার রুট মিলিয়ে ঢাকায় শেষ পর্যন্ত প্রায় ৬০টি রুটের প্রয়োজন হতে পারে।
ডিটিসিএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীতে অনুমোদিত ৩৮৮ রুটের মধ্যে ২৭৮টিই পুরোপুরি অচল, যেখানে কাগজপত্রে ১১ হাজার ৩১৫টি বাসের অনুমোদন ছিল। অন্যদিকে সচল ১১০টি রুটে ৭ হাজার ৪৩টি বাস চলাচলের কথা থাকলেও বাস্তবে চলছে কেবল ৪ হাজার ৫৪৬টি। উদ্বেগজনক বিষয় হলো সড়কে চলা এসব বাসের মধ্যে ১ হাজার ৫৩টিরই আবার কোনো বৈধ ফিটনেস সনদ নেই। ফলে একদিকে যেমন বাসের সংকট, অন্যদিকে ফিটনেসবিহীন বাসের কারণে যাত্রী দুর্ভোগ ও বিশৃঙ্খলা দিন দিনই বাড়ছে।
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে গতকাল অনুষ্ঠিত সভায় মূলত চারটি বড় সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়। সেগুলো হলো অচল রুটগুলো বাতিল করা, ৩২টি রুটের বাইরে প্রয়োজনীয় অন্য রুটগুলো দ্রুত চূড়ান্ত করা, ঢাকায় চলাচলকারী এক হাজারের বেশি ফিটনেসবিহীন বাস দ্রুত সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া এবং রুট চূড়ান্ত করার পর নির্ধারণ করা হবে কোন কোম্পানি কোন রুটে বাস চালাবে। একটি রুটে কেবল একটি নির্দিষ্ট কোম্পানিই বাস চালাতে পারবে এবং বাসের সংখ্যা, কাগজপত্র ও ফিটনেস যাচাই করেই নামার অনুমতি দেয়া হবে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করতে বাস রুট পুনর্গঠনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইলেকট্রিক বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকসহ জাপান ও চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে।
এর আগে ২০২০ সালে নয়টি রঙের ক্লাস্টারে ৪২টি রুট ও ২২টি কোম্পানির অধীনে ‘নগর পরিবহন’ নামে বাসসেবা চালুর চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে তা কিছুদিন পর বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নতুন করে ৫২টি রুটের প্রস্তাব আসে। আগের ও নতুন প্রস্তাব সমন্বয় করেই এ ৩২টি রুটের খসড়া তৈরি করা হয়েছে।
তবে এ নতুন প্রস্তাবে কিছু সমস্যাও রয়েছে। প্রস্তাবিত ৩২টি রুটের বেশির ভাগই ৩০ কিলোমিটারের চেয়ে বেশি লম্বা, যা নগর পরিবহনের জন্য খুব একটা উপযোগী নয়। এছাড়া উত্তরা, গাজীপুর, ডেমরা ও সাভারের মতো মূল রাস্তাগুলোতে একাধিক রুটের ওভারল্যাপিং (একই রাস্তায় একাধিক রুট মিশে যাওয়া) রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে বাস রুট র্যাশনালাইজেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ধ্রুব আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো ওভারল্যাপিং কমানো এবং কোন রুটে কতটি বাস কখন চলবে তা ঠিক করা। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ৩২টি রুটের তালিকা, অ্যালাইনমেন্ট এবং কোন কোম্পানি কতটি বাস চালাবে তা চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপরই নির্দিষ্ট রঙের বাসের মাধ্যমে ক্লাস্টার সেবা চালু করা হবে।’
সংশ্লিষ্টদের আশা, কোম্পানিভিত্তিক এ সেবা পুরোদমে চালু করা গেলে রাস্তায় বাসের রেষারেষি কমবে, নির্ধারিত সময়ে বাস পাওয়া যাবে এবং ঢাকার পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের নৈরাজ্য দূর হবে।


