বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন জ্বালানি সংকট
জুলাই ২২, ২০২৬
কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের
জুলাই ২২, ২০২৬
বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন জ্বালানি সংকট
জুলাই ২২, ২০২৬
কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের
জুলাই ২২, ২০২৬

ইরান যুদ্ধে ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার, সিনেটে তোপের মুখে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভকারীরা শুনানিতে বেশ কয়েকবার বাধা দেন। এ সময় তারা ‘ইরান ও ফিলিস্তিনে আমাদের সন্তানদের ওপর বোমা হামলা বন্ধ করুন’ বলে স্লোগান দেন।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। একই সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পেন্টাগনের জন্য আরো তহবিল চেয়েছেন তিনি। সাম্প্রতিক ভারী বোমা হামলা পুনরায় শুরুর পর প্রথমবারের মতো তিনি আইনপ্রণেতাদের মুখোমুখি হয়ে যুদ্ধের জন্য জরুরি অর্থায়নের আবেদন করেন। সিনেটের শুনানিতে এ দাবি জানানোর পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিরোধীদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। খবর বিবিসির।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। গত মে মাসের সর্বশেষ হিসাবের পর থেকে এ ব্যয় প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। তিনি বলেন, তাঁর দপ্তরের জন্য ৮৭ বিলিয়ন ডলারের তহবিল প্রয়োজন। এর মধ্যে ৬৭ বিলিয়ন ডলার মধ্যপ্রাচ্যের কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে।

যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভকারীরা শুনানিতে বেশ কয়েকবার বাধা দেন। এ সময় তারা ‘ইরান ও ফিলিস্তিনে আমাদের সন্তানদের ওপর বোমা হামলা বন্ধ করুন’ বলে স্লোগান দেন।

বিবিসি জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস এপ্রিলে কংগ্রেসের কাছে পরবর্তী অর্থবছরের জন্য পেন্টাগনের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার চেয়েছে। এটি আধুনিক যুগে মার্কিন সামরিক ব্যয়কে সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এক বিপজ্জনক বিশ্বে বাস করি এবং এর জন্য সাহসী ও দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।’ বিক্ষোভকারীদের সমালোচনার মুখে হেগসেথ বলেন, তাঁর তহবিলের অনুরোধটি একটি সংকটপূর্ণ সময়ে এসেছে। প্রতিপক্ষরা যাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যেতে না পারে, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘এ তহবিল ছাড়া আমরা গুরুতর ঘাটতির সম্মুখীন হব, যা আমাদের সেনাসদস্যদের বেতন প্রদান, দ্রুত সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ সরবরাহ এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাকেও হুমকির মুখে ফেলবে।’ মন্ত্রী বলেন, বরাদ্দকৃত প্রতিটি ডলার মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘প্রাণঘাতী সক্ষমতা’ বাড়াতে এবং ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠায়’ ব্যবহৃত হবে।

তবে পেন্টাগন কীভাবে এ হিসাব করেছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। গত মার্চে রয়টার্সকে একটি সূত্র জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই অন্তত ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল।

সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান সুসান কলিন্স এ সময় বাজেটের চাহিদা পূরণ না হলে এর প্রভাব সম্পর্কে হেগসেথের কাছে জানতে চান।

জবাবে তিনি বলেন, তহবিল না পেলে সামরিক সদস্যদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণে কাটছাঁট করতে হবে। তিনি সামরিক বাহিনীর অপর্যাপ্ত তহবিলের জন্য বারবার সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনকে দায়ী করেন।

কমিটির জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সদস্য প্যাটি মারে এ অর্থায়নের অনুরোধের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, এটি খুব একটা যৌক্তিক নয়। ট্রাম্প প্রশাসন স্বাভাবিক বরাদ্দ প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ডেমোক্র্যাট দলের দুটি সূত্র এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তৃতীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, তাদের ধারণা ইরান যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় আরও অনেক বেশি। এর একটি কারণ হলো, বর্তমান হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলো পুনর্নির্মাণের মতো ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

পেন্টাগন প্রধান যুক্তি দিয়ে বলেন, অনুমোদন পেলে এ অর্থায়ন একটি প্রজন্মগত বিনিয়োগ হবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রকে পিছিয়ে পড়া অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রাখবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *