
স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পর ‘গুপ্তবাহিনী’ ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করে: তারেক রহমান
জুলাই ২১, ২০২৬আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টায় দেশের ১৬ জেলার নদ-নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি বা অবনতি হতে পারে।
কোথাও কোথাও আকস্মিক ও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) ‘বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রে’র পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জেলাগুলো হলো লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, সিলেট, সুনামগঞ্জ, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নওগাঁ ও নাটোর।
পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদ-নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও আকস্মিক অথবা স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া সুরমা-কুশিয়ারার সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে অথবা বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
ভুগাই, কংস ও সোমেশ্বরীর শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার এবং সারিগোয়াইন, যাদুকাটার সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি অথবা উদ্ভূত বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে।
আত্রাই ও ছোট যমুনা নদী নওগাঁ ও নাটোর জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যমুনা নদীর পানি বেড়ে নদী এলাকার বসতভিটা ও চাষের জমি ডুবতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বগুড়ার যমুনা নদীতে পানি বেড়েছে ৩ সেন্টিমিটার। গতকাল জেলার যমুনা নদীর পানি সারিয়াকান্দি পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন করে তেমন একটা ভাঙন দেখা না দিলেও আগের স্থানগুলোয় ভাঙনের ঝুঁকি রয়েছে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, জেলায় চলতি মৌসুমে ৬ হাজার ৭৫১ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদ হলেও অতিবৃষ্টিতে ৪১৭ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে তিনদিন ধরে পানি বৃদ্ধির হার অনেকটা কম। ১৮ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে যমুনার পানি ১৮ সেন্টিমিটার ও কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় আপাতত বন্যায় ভয়ের কিছু নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সিরাজগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি কখনো বাড়ছে আবার কখনো কমছে। তবে পানি বৃদ্ধির পরিমাণ খুবই কম। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে যমুনার পানি ৩ সেন্টিমিটার ও কাজীপুর মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে পানি বাড়লেও সিরাজগঞ্জ স্টেশনে ৭০ ও কাজীপুর স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ১০৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই বন্যা নিয়ে আপাতত ভয়ের কিছু নেই।’
জেলা বন্যা প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, সিরাজগঞ্জে বন্যার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে পাউবো, কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
টানা বৃষ্টিপাত ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। তবে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিলেটের কোনো নদ-নদীর কোনো পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। অন্যদিকে হবিগঞ্জে কুশিয়ারা ও সুনামগঞ্জে সুরমা ছাতক পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ফলে সিলেটের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাউবো সিলেট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সিলেটের সব নদ-নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সিলেট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস বলেন, ‘সিলেটের সব নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়লেও বন্যার মতো পরিস্থিতি নেই।’
বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনো সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং স্থানীয় পাউবো জানায়, ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত প্রধান চারটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে এবং কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদ-নদী অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, গতকাল সন্ধ্যা ৬টার তথ্যানুযায়ী, কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বেড়ে কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ও তালুকশিমুলবাড়ী পয়েন্টে ৫৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া দুধকুমারের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ৬৮ ও চিলমারী পয়েন্টে ৪৪ ও হাতিয়া পয়েন্টে ৪৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এসব নদ-নদীর পানি আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদে বন্যা সৃষ্টি হতে পারে।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে গাইবান্ধার সব নদ-নদীর পানি বেড়েছে। এ কারণে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গাইবান্ধা পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা নদীর কাউনিয়া স্টেশন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় এ নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। ঘাঘট নদীর পানি নিউব্রিজ স্টেশন পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের ফুলছড়ি স্টেশন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ নদীর পানি ১২ সেন্টিমিটার বেড়েছে। করতোয়া নদীর চকরহিমাপুর স্টেশন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৮৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় গাইবান্ধা জেলায় ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার নদ-নদীর পানি বেড়েছে। সীমান্তের কলমাকান্দা উপজেলায় উপদাখালী নদীর পানি বেড়ে তীব্র স্রোতে একাধিক সড়ক ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বেলা ৩টা পর্যন্ত উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।


