
নতুন ফ্রন্টে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবার সৌদি আরবের ওপর নৌ অবরোধের ঘোষণা হুথিদের
জুলাই ২১, ২০২৬
মার্জিন বিধিমালা সংশোধনে খসড়া প্রকাশ ঋণের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ফোর্সড সেলের নতুন শর্ত
জুলাই ২১, ২০২৬সাইবার হামলা এখন শুধু প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হচ্ছে না।
বরং হ্যাকাররা ক্রমেই প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইনের দুর্বল অংশকে কাজে লাগিয়ে হামলা চালাচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলা দ্রুত বাড়ছে ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) বিশ্লেষণ বলছে, সাপ্লাই চেইন হামলায় হ্যাকাররা প্রতিষ্ঠানের বিশ্বস্ত সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার বা তৃতীয় পক্ষের সেবাদাতার মাধ্যমে ক্ষতিকর কোড প্রবেশ করায়। এরপর সে প্রবেশপথ ব্যবহার করে একসঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠান বা গ্রাহকের নেটওয়ার্কে ঢোকার সুযোগ পায়। ফলে একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা দুর্বল হলে তার সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য প্রতিষ্ঠানও ঝুঁকিতে পড়ে।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ডার্কট্রেসের নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ন্যাথানিয়েল জোন্স বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবেশ করতে পারলে হ্যাকাররা একসঙ্গে হাজারো প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর সুযোগ পায়। এ কারণেই এখন তারা সরবরাহ শৃঙ্খলকে বেশি লক্ষ্যবস্তু করছে।’
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মোবাইল অপারেটর ভেরাইজনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে বিশ্লেষণ করা ২২ হাজারের বেশি তথ্য ফাঁসের ঘটনার প্রায় অর্ধেকই ছিল তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অনুপ্রবেশ। আগের বছরের তুলনায় এ ধরনের ঘটনা প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান পালো অল্টো নেটওয়ার্কসের যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড অঞ্চলের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা স্কট ম্যাককিনন বলেন, ‘সরবরাহ শৃঙ্খলভিত্তিক হামলার মাধ্যমে হ্যাকাররা ছোট প্রতিষ্ঠান থেকে বড় বা বেশি পরিচিত প্রতিষ্ঠানে সহজেই পৌঁছতে পারে। তাই এ কৌশল আরো লাভজনক হয়ে উঠেছে।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বেশ কয়েকটি আলোচিত হামলা এ ঝুঁকিকে সামনে এনেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এসভিআরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা আইটি প্রতিষ্ঠান সোলারউইন্ডসের ওরিয়ন সফটওয়্যারে ক্ষতিকর কোড যুক্ত করে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১৮ হাজার গ্রাহক ঝুঁকির মুখে পড়ে।
এছাড়া গত বছর ব্রিটিশ খুচরা বিক্রেতা মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সারও একই ধরনের হামলার শিকার হয়। স্ক্যাটার্ড স্পাইডার নামে পরিচিত একটি হ্যাকার গোষ্ঠী তৃতীয় পক্ষের এক সরবরাহকারীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে। এতে কোম্পানিটির প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড লোকসান হয়।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়লে এ ধরনের হামলার ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে। কারণ এআইয়ের মাধ্যমে হ্যাকাররা দ্রুত সফটওয়্যার কোড বিশ্লেষণ করতে পারে। ফলে হামলার গতি ও পরিধি দুটোই বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু নিজেদের নিরাপত্তা নয়, পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
গুগলের মালিকানাধীন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ম্যান্ডিয়ান্ট কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্টুয়ার্ট ম্যাকেঞ্জি বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যারে কোন কোন উপাদান ব্যবহার হচ্ছে, তার পূর্ণ তালিকা বা সফটওয়্যার বিল অব ম্যাটেরিয়ালস তৈরি করা উচিত। এতে ঝুঁকিপূর্ণ সফটওয়্যার দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।’
এছাড়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সীমিত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, নিয়মিত সম্ভাব্য দুর্বলতা পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এতে হামলার বিস্তার কমানো সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে এ ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে। তবে হ্যাকাররাও তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। তাই সাইবার নিরাপত্তায় নিয়মিত নজরদারি ও প্রস্তুতির বিকল্প নেই।


