সূচক ও লেনদেনে নিম্নমুখিতা বেশির ভাগ খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন
জুলাই ২০, ২০২৬
বিশ্ববাজারে বেড়েছে কফি, কোকো ও চিনির দাম
জুলাই ২০, ২০২৬
সূচক ও লেনদেনে নিম্নমুখিতা বেশির ভাগ খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন
জুলাই ২০, ২০২৬
বিশ্ববাজারে বেড়েছে কফি, কোকো ও চিনির দাম
জুলাই ২০, ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে অফিস ফাঁকি, বিশ্বব্যাপী ক্ষতি ১৭০০ কোটি ডলার

মানবসম্পদবিষয়ক সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউকেজির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকাপ ফুটবলের কারণে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেই উৎপাদনশীলতা বাবদ ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৭০ কোটি বা ১১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।

বিশ্বব্যাপী এ ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রিয় দলের খেলা দেখার জন্য গত কয়েক সপ্তাহে বিপুলসংখ্যক কর্মী অফিস থেকে জলদি বের হয়ে গেছেন, দেরিতে এসেছেন কিংবা পুরোপুরি অনুপস্থিত ছিলেন।

অফিস ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাবিষয়ক প্লাটফর্ম এনভয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের অফিসগুলোয় কর্মীদের উপস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে ২৬ শতাংশ কম ছিল। এর আগের দিনই বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র।

একই সঙ্গে অফিসে বহিরাগতদের আগমন, যেমন ক্লায়েন্ট মিটিং, ইন্টারভিউ বা বিক্রেতাদের সাক্ষাৎকারের হারও ওই দিন ৩২ শতাংশ কমে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র দল বিদায় নেয়ার পর অফিসে কর্মীদের উপস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

খেলাধুলার বড় ইভেন্টের সময় কর্মীদের অমনোযোগী হওয়া এবারই প্রথম নয়। এর আগে অলিম্পিক গেমস কিংবা ২০২৩ সালে ‘বার্বি’ ও ‘ওপেনহাইমার’ সিনেমা মুক্তির সময়ও অফিসে উপস্থিতি কমেছিল বলে উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

এ ক্ষতি সামাল দিতে এবার গোল্ডম্যান স্যাকস, জেপি মরগান চেজ ও এসঅ্যান্ডপির মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ম্যাচের দিনগুলোয় কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার (রিমোট ওয়ার্ক) সুবিধা দিয়েছিল। এতে করে ট্রাফিক জ্যাম ও যাতায়াতের সময় নষ্ট হওয়ার মতো বিষয় এড়ানো সম্ভব হয়।

কর্মীদের অনুপস্থিতিতে বড় অংকের ক্ষতি হলেও সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এবার বিশ্বকাপ বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ব্যাংক ইউবিএসের গবেষণায় দেখা গেছে, টুর্নামেন্ট চলাকালীন বিশ্ব অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ১০০ কোটি বা ৪১ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০০ কোটি মানুষ এ টুর্নামেন্ট অনুসরণ করায় স্পন্সর, সম্প্রচার ও খুচরা ব্যবসায় রেকর্ড লেনদেন হয়েছে।

ফিফা ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) যৌথ গবেষণায় বলা হয়, ২০২৬ বিশ্বকাপ বৈশ্বিক জিডিপিতে প্রায় ৪ হাজার কোটি ডলারের বেশি যোগ করতে পারে। এর মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপিতেই প্রায় ১ হাজার ৭২ কোটি ডলার যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এবারের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে সরাসরি খেলা দেখতে প্রায় ৬৫ লাখ দর্শক মাঠে গিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের অর্থনৈতিক প্রভাবের বড় অংশই আসছে পর্যটন ও ভোক্তা ব্যয় থেকে। বিদেশী দর্শক হোটেলে থাকা, রেস্তোরাঁয় খাওয়া এবং কেনাকাটা বাবদ সরাসরি স্থানীয় অর্থনীতিতে অর্থপ্রবাহ বাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী, একজন বিদেশী দর্শক দেশটিতে অবস্থানকালে গড়ে ৫ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *