রাকসুর আবেদনের পর মাতৃত্বের সময়ে ৪০% উপস্থিতিতেও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন শিক্ষার্থীরা
জুলাই ১৬, ২০২৬
খুলনায় বাড়ছে কিডনি রোগ সরকারি হাসপাতালে শয্যা ও ডায়ালাইসিস সেবা সংকট
জুলাই ১৬, ২০২৬
রাকসুর আবেদনের পর মাতৃত্বের সময়ে ৪০% উপস্থিতিতেও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন শিক্ষার্থীরা
জুলাই ১৬, ২০২৬
খুলনায় বাড়ছে কিডনি রোগ সরকারি হাসপাতালে শয্যা ও ডায়ালাইসিস সেবা সংকট
জুলাই ১৬, ২০২৬

নদীভাঙনে বিলীনের পথে ২০০ বছরের বুধহাটা বাজার আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা

বেতনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিলীনের পথে সাতক্ষীরার ২০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী বুধহাটা বাজার।

দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বাজারটি নদীতে সম্পূর্ণ গ্রাস হওয়ার আশঙ্কা করছে এ গ্রামীণ জনপদের মানুষ। অপরিকল্পিত নদী খননের কারণে স্রোতের গতিপথ বদলে এ তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দ্রুত টেকসই সংস্কারের আশ্বাস দিলেও এখনো কোনো কাজ শুরু হয়নি। ফলে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে ভাঙন আতঙ্ক।

বুধহাটা বাজারে কথা হয় বেতনা পাড়ের অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায়ী আব্দুল জলিলের সঙ্গে। তিনি জানান, বেতনা নদীর প্রবল স্রোতে বাজারসংলগ্ন পূর্ব-দক্ষিণ ও উত্তর-পশ্চিম পাশের বেড়িবাঁধ ধসে নদীতে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি নদীতে চলে যেতে পারে।

একই আশঙ্কার কথা জানান পাশের হোটেল ব্যবসায়ী বিশু ময়রা। তিনি বলেন, ‘বেতনার তীব্র ভাঙন বুধহাটা বাজার গ্রাস করে ফেলছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পাউবো কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ধীরে ধীরে পুরো বাজারই নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।’

শুধু আব্দুল জলিল ও বিশু ময়রা নন, নদীভাঙনে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বুধহাটা বাজারের অন্তত পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী।

বুধহাটা বাজার কমিটির সভাপতি নুরুজ্জামান জুলু জানান, ২০০ বছরের পুরনো বুধহাটা বাজারটি বেতনা নদীর অব্যাহত ভাঙনের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। গ্রামীণ জনপদের মানুষের সাপ্তাহিক বাজার করার সবচেয়ে বড় মোকাম বুধহাটা বাজার। এখানে কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সপ্তাহে দুইদিন, শুক্র ও সোমবার বাজার বসে। প্রতিবারের হাটে কয়েক কোটি টাকার পণ্য কেনাবেচা হয়। তবে শুক্রবার দক্ষিণাঞ্চলের গরু, ছাগল ও মহিষের হাট বসে। এদিন আর্থিক লেনদেন অন্য হাটের চেয়ে বেশি হয়। ফলে এ নদীভাঙন বাজারটির ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। তাই দ্রুত নদীভাঙন রোধের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। না হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে তাদের।

অপরিকল্পিত নদী খনন ও অব্যবস্থাপনাকেই এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, নদীর বাহাদুরপুর অংশে দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে থাকলেও সেখানে খনন না করে ভাঙনকবলিত পাড়ের দিকেই খননকাজ করা হয়েছে। এতে স্রোতের গতিপথ সরাসরি বাজারের দিকে চলে এসেছে। ফলে বেতনার প্রবল স্রোতে গত কয়েকদিনে বাজারসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২৫-৩০ ফুট বেড়িবাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

এদিকে ভাঙনকবলিত এলাকায় নৌযান চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি একটি খেয়া নৌকাঘাটে ভিড়তে গেলে হঠাৎ পাড়ের বড় অংশ ধসে পড়ে। এতে শিশুসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত সবাইকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে খেয়া পারাপার নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুণ্ডু বলেন, ‘কয়েকদিন আগে বুধহাটা বাজারে বেতনার ভাঙন এলাকাটি পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি খুবই জরুরি। তাৎক্ষণিকভাবে পাউবোকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে এখনো মেরামতের কাজ শুরু হয়নি। দুই-একদিনের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু হবে।’

সাতক্ষীরা পাউবো-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাসকিয়া জানান, বেতনা খননের পর নদীর নাব্যতা বেড়েছে। বুধহাটা এলাকায় ভাঙনের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। টেকসই সংস্কার করতে হলে এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প নিতে হবে। তবে শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি মেরামত করা হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *