শেরপুরে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২
জুন ৩০, ২০২৬
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২ লাখ টাকা জরিমানা
জুন ৩০, ২০২৬
শেরপুরে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২
জুন ৩০, ২০২৬
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২ লাখ টাকা জরিমানা
জুন ৩০, ২০২৬

ব্যাংকের স্প্রেড ৪ শতাংশে বেঁধে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

ব্যাংকগুলোর ঋণ ও আমানতের গড় সুদহারের ব্যবধান (স্প্রেড) সর্বোচ্চ ৪ শতাংশের মধ্যে সীমিত করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। উৎপাদনশীল খাতসহ বিভিন্ন খাতে ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গতকাল দেয়া নতুন এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে জারীকৃত প্রজ্ঞাপনের কপি দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ (কনজিউমার ফাইন্যান্স) ছাড়া অন্য সব ধরনের ঋণ ও আমানতের গড় সুদহারের ব্যবধান ৪ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, বর্তমানে অনেক ব্যাংক আমানতের সুদহারের তুলনায় ঋণের সুদহার বেশি হারে নির্ধারণ করছে। এতে ব্যাংকগুলোর ইন্টারমিডিয়েশন স্প্রেড উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে ঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে নতুন এ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বরের এক নির্দেশনার মাধ্যমে স্মার্ট (সিক্স মান্থস মুভিং অ্যাভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল) ভিত্তিক ঋণের সুদহার নির্ধারণ পদ্ধতিতে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান নির্ধারণ-সংক্রান্ত নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের ৮ মে থেকে সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা চালুর পর ব্যাংকগুলোর জন্য ইন্টারমিডিয়েশন স্প্রেড-সীমা নির্ধারণে কোনো নির্দেশনা ছিল না।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থার পর কিছু ব্যাংক আমানতের সুদের তুলনায় ঋণের সুদহার বেশি বাড়িয়েছে। ফলে ঋণগ্রহীতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে আবার স্প্রেড-সীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের বেশির ভাগ ব্যাংকের ঋণের সুদহার কমাতে হবে। ঋণের সুদহার না কমালে আমানতের সুদহার বাড়াতে হবে বলে জানা গেছে। বর্তমানে দেশে ৬১টি তফসিলি ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি ব্যাংকেরই স্প্রেড ৪ শতাংশের বেশি। কোনো কোনো ব্যাংকের স্প্রেড আবার প্রায় ১০ শতাংশেও পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি স্প্রেড রয়েছে বিদেশী ব্যাংকগুলোর। দেশে বর্তমানে নয়টি বিদেশী ব্যাংক রয়েছে। এ ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেডের পরিমাণ ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের গড় স্প্রেড ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ, বেসরকারি খাতের ৪৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৫ দশমিক ৫৮ ও সরকারি বিশেষায়িত তিনটি ব্যাংকের গড় স্প্রেডের পরিমাণ ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ।

একক ব্যাংক হিসেবে দেশে বর্তমানে ঋণ ও আমানতের গড় সুদহারের ব্যবধানে সবচেয়ে এগিয়ে আছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। বহুজাতিক এ ব্যাংকের মে মাসের স্প্রেডের পরিমাণ ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংক ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক পিএলসি। দেশীয় ব্যাংকটির স্প্রেড ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। এছাড়া স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ৮ দশমিক শূন্য ১ ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ স্প্রেড রয়েছে।

দেশীয় বাকি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির ৭ দশমিক ২৮, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ৬ দশমিক ৬৫, সিটি ব্যাংক পিএলসির ৬ দশমিক ৩০, ব্যাংক এশিয়া পিএলসির ৬ দশমিক শূন্য ৩, ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির ৫ দশমিক ৭৬, সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসির ৫ দশমিক ৩৬, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ৫ দশমিক ৩২, প্রাইম ব্যাংক পিএলসির ৫ দশমিক ২৫ ও ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির ৫ দশমিক ১৮ শতাংশ স্প্রেড রয়েছে।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম স্প্রেড মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির। ব্যাংকটির গড় স্প্রেডের পরিমাণ ৪ দশমিক ১০ শতাংশ। এছাড়া ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ৪ দশমিক ২৩ ও পূবালী ব্যাংক পিএলসির ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ স্প্রেড রয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *