এফএওর সতর্কবার্তা আবহাওয়াজনিত অনিশ্চয়তা ও লাভ কমায় আগামী অর্থবছরে চাল উৎপাদন কমতে পারে
জুন ৩০, ২০২৬শেরপুরে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক ২
জুন ৩০, ২০২৬উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে।
দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ১০টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা আরো বেড়েছে। একই সঙ্গে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদীগুলোর পানিও বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা, সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।
কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে তিস্তার পানি বেড়ে কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানিও। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী, মনু, খোয়াই ও ধলাই নদীর পানি আবারো বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এতে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রংপুর: তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার নিচে নেমে এলেও ভাটিতে পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেয়া হয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উত্তরের পাঁচ জেলার চরাঞ্চলের অন্তত আট হাজার পরিবার। তিনি জানান, ভারত গজলডোবা ব্যারাজের ৪০টি গেট খুলে দেয়ায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
পাউবোর এ কর্মকর্তা জানান, উত্তরের পাঁচ জেলা রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের অন্তত আট হাজার পরিবার। তিনি বলেন, ‘পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরের পাঁচ জেলায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ জেলার ২৬টি ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। একাধিক পরিবারের সদস্যরা জানান, গত দুইদিন থেকে পানিবন্দি থাকলেও কেউ কোনো খোঁজখবর রাখেননি।’
এদিকে হঠাৎ করে তিস্তা নদীর পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে তিস্তা পাড়ের বাসিন্দা। তিস্তার পানি বাড়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, সিঙ্গীমারি, ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি, কালীগঞ্জের শৈলমারী, চর বৈরাতী, রুদ্রেশ্বর, আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্ধন ও স্পারবাধ, রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলা, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার তিস্তা চরাঞ্চলের নদীর তীরবর্তী চরে বাদামখেত, ধানের বীজতলা, মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
কৃষকরা জানান, রাতে পানি কমলে আবার সকালে বাড়ে। পানি বাড়া-কমার কারণে দুশ্চিন্তায় আছি। চলতি মৌসুমে আমন আবাদের জন্য প্রস্তুত করা অনেক বীজতলাও পানির কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন করে বীজতলা তৈরির প্রয়োজন হতে পারে।
কুড়িগ্রাম: টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমারের পানি বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে তিস্তার পানি বেড়ে কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানিও। নদ-নদীর পানি বাড়ায় কোথাও কোথাও তীব্র হয়ে উঠেছে ভাঙন। বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার।
কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সব নদ-নদীর পানি বেড়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে দুধকুমার নদের পানি এরই মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’
গাইবান্ধা: উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে গাইবান্ধার সব নদ-নদীর পানি বেড়েছে। এরই মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া জেলার অন্য নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার কয়েকটি নদ-নদীর পানি বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে তিস্তার পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। এ কারণে নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’


