
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা-ইউএনইপি প্রতিনিধি দলের বৈঠক জলবায়ু সহযোগিতা ও সবুজ বিনিয়োগে জোর
জুন ২৯, ২০২৬
যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন হবে: প্রধানমন্ত্রী
জুন ২৯, ২০২৬বর্ষার পানিতে উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিতে বগুড়ার যমুনা নদী আবারো ক্ষিপ্র হয়ে উঠেছে। জেলার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলার কয়েকটি স্থানে নতুন করে নদীভাঙন শুরু হয়েছে।
এর মধ্যে সারিয়াকান্দির হাটশেরপুর ইউনিয়নে গত এক সপ্তাহে দেড় শতাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। ভিটামাটি হারিয়ে পরিবারগুলো অন্যের জমিতে কিংবা রাস্তায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অনেক পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অন্য জেলায় পাড়ি জমিয়েছে। নদীভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় প্রশাসন বালির বস্তা ও জিও টিউব ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা চালালেও ভাঙন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
হাটশেরপুর ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে এ ইউনিয়নের বর্ণিত গ্রামগুলোর প্রায় দুই হাজার পরিবার, বসতভিটা, চাষের জমি, সড়ক যমুনার ভাঙনের শিকার হয়েছে। বারবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে গ্রামের মানুষ বিভিন্ন এলাকায় চলে যাচ্ছে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। গত কয়েক দিনে এসব গ্রামের দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের শিকার হয়েছে। চকরথীনাথ গ্রামে পানি বৃদ্ধির কারণে গ্রামের লোকজন ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। এ গ্রামের চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেশকিছু মসজিদ ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানসহ তিন শতাধিক পরিবারের বসতভিটা, কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি ভাঙন হুমকিতে রয়েছে।
চকরথীনাথ গ্রামের আব্দুল জলিল শেখ বলেন, ‘চকরথীনাথ চরেই চারবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছি। সাত বছর আগে এ গ্রামে ঘর তুলে বসবাস করছিলাম। কিন্তু যমুনার ভাঙনে এখানে আর থাকা হলো না। ভাঙন দেখা দেয়ায় অন্যত্র চলে যেতে হচ্ছে।’
সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূর মো. মেহেদী হাসান আলো বলেন, ‘সাতদিন আগে নদীভাঙনের শিকার প্রায় ১৪০টি পরিবারের তালিকা করেছি। এ তালিকা দ্রুত বাড়ছে। গত বুধবার পর্যন্ত ১৯৫টি পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে বসতভিটা হারিয়েছে এবং বাড়িঘর অন্যত্র স্থানান্তর করেছে। দ্রুত যমুনা নদীর ভাঙনে কাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর পক্ষে জোর দাবি জানানো হয়েছে।’
4
বগুড়া পাউবো সূত্রে জানা যায়, ধুনট উপজেলার শহড়াবাড়ি যমুনা নদীর ঘাট এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ৫৫ মিটার অংশের জিও ব্যাগ ও টিউবসহ নদীতে বিলীন হয়েছে। জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলার স্থানে ফের ভাঙন দেখা দেয়ায় স্থানীয়রা আতঙ্কে রয়েছে। গত তিনদিনে প্রায় ১৫০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয় গেল। নদীপাড়ের মানুষের দাবি এখানে ভাঙনরোধে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করার। প্রতি বছরই নদী ভাঙে, সে কারণে ভাঙন এলাকায় স্থায়ী সমাধান চাইছেন বাসিন্দারা।
ধুনটের যমুনা নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহরাবাড়ি গ্রামে গত বছর অক্টোবরে যমুনা নদীর আকস্মিক ভাঙনে সমতল ভূমিসহ নয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে যায়। সে সময় স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করার কারণে নদীর তলদেশ ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় এবং পানির প্রবল স্রোতে ঘূর্ণাবর্তে এ ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। পরবর্তী সময়ে ভাঙনকবলিত তীর ধরে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ডাম্পিং করার মাধ্যমে ভাঙন রোধ করা হয়।
কিন্তু সম্প্রতি যমুনা নদীতে আবারো পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত শুক্রবার থেকে ধুনটের শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান স্পারের মধ্যবর্তী কয়েকটি স্থানে নদীভাঙন দেখা দেয়। প্রবল স্রোতের কারণে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি নদীপাড়ে আঘাত হানছে। এতে জিও ব্যাগ দিয়ে তীর সংরক্ষিত এলাকাতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের জমি। পাউবো ভাঙন রোধে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ও বিশেষ টিউব ফেলার কাজ করছে। নদীর মাঝখান থেকে বিশেষ নৌকায় বালি এনে চার মিটার-দেড় মিটার সাইজের বিশেষ টিউব বস্তায় বালি ভরা হচ্ছে।
বগুড়া পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, ‘বর্ষাকাল। নদীতে পানি বৃদ্ধি পাবে। বৃদ্ধি পেলে ভাঙন দেখা দেয়। সেই ভাঙনে যেন মানুষের ক্ষতি না হয় সে ব্যাপারে কাজ করা হচ্ছে। যেখানেই ভাঙনের খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
বগুড়া-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, হাটশেরপুর ইউনিয়নের যমুনার ভাঙন মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেয়া হয়েছে।


