
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সমঝোতা, হামলা বন্ধ রেখে আলোচনায় ফেরার সিদ্ধান্ত
জুন ২৯, ২০২৬
ব্যাংক খাতের সংস্কার সরকারি পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে ৭০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
জুন ২৯, ২০২৬ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে।
ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়া জীবিত মানুষকে উদ্ধারে উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা এখন সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। দেশটির বিরোধী দলের একটি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এখনো ৫৫ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। খবর রয়টার্স।
গত ২৪ জুন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে সান ফেলিপের কাছে মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর পর থেকে এ পর্যন্ত ৩০২টিরও বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। অনবরত আফটারশকের কারণে সার্বিক পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে অন্তত ১ হাজার ৪২৩টি অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের সব ধরনের পরিবহন ব্যবস্থা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে।
২৬ জুন সংগৃহীত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, উপকূলীয় শহর মাকুতো ও কারাবালেদাতে সবচেয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৫৩ হাজার মানুষের বাসস্থান কারাবালেদা শহরের পুরো এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানকার ১২ তলাবিশিষ্ট ‘রেসিডেন্সিয়া নাউটিলাস’ অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকটি ধসে পড়ার ঘটনা এ দুর্যোগের ভয়াবহতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ভবনটির নিচে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে এ শহরকেই উদ্ধার অভিযানের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু করা হয়েছে।
দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা জীবিত উদ্ধারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় (গোল্ডেন আওয়ার)। এরপর পানিশূন্যতা, আঘাত ও শ্বাসকষ্টের কারণে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নাটকীয়ভাবে কমে যায়। উদ্ধারকাজের সময় যতই গড়াচ্ছে, জীবিত মানুষ পাওয়ার আশাও তত ক্ষীণ হয়ে আসছে।
এদিকে অনবরত আফটারশকের আতঙ্কে কারাবালেদা ও লস কোরালেসের মতো এলাকার বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেরই বাড়িঘর ধসে গেছে, আবার অনেকের বাড়িতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ঘরবাড়ি ও স্বজন হারানো মানুষের মাঝে তীব্র হাহাকার বিরাজ করছে। উদ্ধারকাজের সুবিধার্থে লা গুয়াইরা ও কারাকাসের প্রধান সড়কে সাধারণ যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় ত্রাণ পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। উদ্ধারকাজে যুক্ত নন এমন ব্যক্তিদের চেকপয়েন্ট পার হতে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভেনিজুয়েলার উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি মেক্সিকো, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে কর্মীরা উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছেন। এরই মধ্যে ভেনিজুয়েলায় পৌঁছেছেন ১ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি বিদেশী উদ্ধারকর্মী। কারাবালেদাতে মার্কিন হেলিকপ্টারের সাহায্যে আর্জেন্টিনা এবং এল সালভাদরের উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে ১৫০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে। দ্রুতই আরো কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় তহবিল প্যাকেজ ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।


