
ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ১ হাজার ৯৮৮ মামলা
জুন ২৯, ২০২৬
করপোরেট লিডারদের বিশ্বকাপ ভাবনা ম্যারাডোনার হাতে বিশ্বকাপ দেখে ভীষণ আনন্দ পেয়েছিলাম
জুন ২৯, ২০২৬
চলতি ২৩তম ফিফা বিশ্বকাপে আজ সবটুকু আলো থাকছে টেক্সাসের হিউস্টনে। ‘হেক্সা’ মিশনে নামা লাতিন পরাশক্তি ব্রাজিল শেষ ষোলোয় ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মুখোমুখি হচ্ছে দুরন্ত ফর্মে থাকা জাপানের। এনআরজি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে নেইমারদের এ ম্যাচ।
গ্রুপ পর্বে শুরুতে মরক্কোর সঙ্গে ড্র করে বসে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল। এরপর ঘুরে দাঁড়ায় পাঁচবারের বিশ্বসেরা দলটি। হাইতি ও স্কটল্যান্ড উভকেই ৩-০ গোলে হারিয়ে সেলেসাওরা হয়েছে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। রিয়াল মাদ্রিদ সুপারস্টার ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের অনবদ্য পারফরম্যান্সে স্বরূপে ফেরে ব্রাজিল। ভিনি করেন চার গোল।
‘এশিয়ার ব্রাজিল’ খ্যাত জাপান আছে দারুন ফর্মে। ৫ পয়েন্ট নিয়ে ‘এফ’ গ্রুপে রানার্সআপ জাপান কোনো ম্যাচ হারেনি। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্রয়ের পর ৪-০ গোলে তিউনিসিয়াকে হারায় ব্লু সামুরাইরা। শেষ ম্যাচে সুইডেনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে এশিয়ান জায়ান্টরা। জাপানের হয়ে এবারের মিশনে দাইচি কামাদা ও আয়াসে উয়েদা উভয়ই দুটি করে গোল করেছেন। এ আসরে নিজেদের আগের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে এশিয়ান হেভিওয়েটরা। সব মিলিয়ে জাপান দলটি ভীষণ উজ্জীবিত। এবার বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা দলটিকে কি পরীক্ষায় ফেলতে পারবে হাজিমে মরিয়াসুর দল?
এ ম্যাচের বিজয়ী দল আগামী ৫ জুলাই নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আইভরি কোস্ট কিংবা নরওয়ের।
ব্রাজিল ও জাপান বিশ্বকাপে মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছে। ২০০৬ আসরে গ্রুপ পর্বে ৩৪ মিনিটে ব্রাজিলের জালে বল পাঠিয়ে চমকে দিয়েছিলেন জাপানের কেইজি তামাদা। যদিও এরপর রোনালদো নাজারিও (দুটি), জুনিনহো ও গিলবার্তোর গোলে কর্তৃত্ব করে জিতেছে ব্রাজিল।
এবার জাপানকে প্রেরণা দিচ্ছে গত বছর ব্রাজিলের বিপক্ষে পাওয়া জয়। টোকিওতে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দেয় স্বাগতিকরা। সেলেসাওরা আজ প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। টোকিওতে সেই ম্যাচে ব্রাজিল ২-০ গোলের লিড নিলেও পরে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় জাপানিরা এবং ২০ মিনিটের মধ্যে ব্রাজিলের জালে তিন গোল করে ম্যাচটি জিতে নেয়। ১৪ বারের মুখোমুখিতে সেটাই ছিল ব্রাজিলের বিপক্ষে জাপানের প্রথম জয়।
তবে আজকের ম্যাচটি ভিন্ন হবে বলে দলকে সতর্কবার্তা দিলেন জাপান কোচ হাজিমে মরিয়াসু। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত তারা আগের চেয়েও বেশি উদ্দীপ্ত থাকবে। আমরা এমন একটি ব্রাজিল দলের মুখোমুখি হব, যারা কিনা জিততে উদগ্রীব। আমরা এ ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছি।’
তবে ব্রাজিলকে হারিয়ে দেয়া সেই দলটির অনেকেই আজ জাপানের স্কোয়াডে থাকছেন না। অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো, উইঙ্গার কাওরু মিতোমা, তাকেফুসা কুবো ও ফরওয়ার্ড তাকুমি মিনামিনো চোটের কারণে ছিটকে গেছেন। ব্রাজিল দলেও এসেছে বড় পরিবর্তন। টোকিওতে ধুঁকতে থাকা সেই রক্ষণভাগের কেউই নেই। আনচেলত্তির অধীনে বর্তমান রক্ষণভাগ ক্রমেই উন্নতির ধারায় রয়েছে।
টানা দুই জয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে সেলেসাওরা। প্রায় তিন বছর পর দলে ফিরেছেন নেইমার। আর রিয়াল সুপারস্টার ভিনিসিয়ুসের চৌকস পারফরম্যান্স ব্রাজিলকে আক্রমণভাগকে প্রতিপক্ষের জন্য করে তুলেছে বিপজ্জনক। আনচেলত্তির দলটির আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে।
স্কটল্যান্ডকে হারানোর পর ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি বলছিলেন, ‘আমরা পারফেক্ট ছিলাম না। উন্নতির জায়গা আছে আমাদের। আমরা আরো গতিসম্পন্ন হতে পারি। তবে আমি এ কারণে খুশি যে প্রথম ম্যাচের পর দল বেশ উন্নতি করেছে। এখন তো নকআউট প্রতিযোগিতা। এবার সত্যিকারের দৃঢ়তা দেখাতে হবে আমাদের।’


