
খননে ফিরল প্রাণ
জুন ২৮, ২০২৬
নকআউটের স্নায়ুযুদ্ধ আজ থেকে শুরু
জুন ২৮, ২০২৬২৩তম ফিফা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত লড়েও সরাসরি নকআউট পর্বে যেতে পারেনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইরান।
তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা আটে থেকে তারা নকআউটের টিকিট পাবে কিনা, সেটি জানতে আজ সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। তার আগেই অবশ্য বিশ্বকাপ নিয়ে নিজেদের চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের কোচ ও অধিনায়ক।
গতকাল সিয়াটলে মিসরের সঙ্গে ম্যাচে অফসাইডের কারণে শেষ মুহূর্তে ইরানের গোল বাতিল হয়ে গেলে তারা প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বের কাছাকাছি গিয়েও হতাশ হয়। তাদের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে মিসর প্রথমবারের মতো পৌঁছে যায় নকআউটে, আর ইরানকে থাকতে হয় অপেক্ষায়।
টুর্নামেন্টজুড়ে ইরানের সঙ্গে ‘অন্যায়’ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন অধিনায়ক মেহদী তারেমি। আর কোচ আমির ঘালেনোই টুর্নামেন্টে তার দলকে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে মিসরের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে গোল বাতিল হওয়া এবং সাইয়েদ এজাতোলাহির শট ক্রসবারে লাগায় তিনি আফসোস করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ থাকায় নিজেদের বেজক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনা থেকে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় স্থানান্তর করতে বাধ্য হয় ইরান। তাদের প্রতি ম্যাচের আগে তিজুয়ানা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে হয়েছে এবং ম্যাচ শেষে দ্রুত আবার মেক্সিকোয় ফিরতে হয়েছে। তাছাড়া বিশ্বকাপের আগে ভিসা দেয়া হয়নি দলটির প্রায় এক ডজন কর্মকর্তাকে। এত সংকট নিয়েও খেলে যাওয়া ইরানের জন্য শেষ ম্যাচটি ছিল ‘বাঁচা-মরা’র। জিতলেই নকআউটে। এ ম্যাচেই ৯৩তম মিনিটে মিসরের গোলকিপার মোস্তাফা সোবেইরকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান ইরানের সুজা খালিলজাদেহ। যদিও ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, শেষ ডিফেন্ডার থেকে খালিলজাদেহর পা কয়েক মিলিমিটার এগিয়ে ছিল। এতেই গোলটি বাতিল হয়ে যায়, যেটি হতে পারত ইরানের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে মূল্যবান গোল।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ইরানের কোচ বলেন, ‘এখানে নিয়ম আছে এবং সবকিছু প্রযুক্তির ভিত্তিতে। তবে নিজেদের দুর্ভাগ্যের জন্য আমি হতাশ। কারণ মিলিমিটারের জন্য গোল বাতিল হওয়া।’
এরপর টুর্নামেন্টে নিজেদের নানা সংকট নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আমরা বঞ্চিত একটি দল। আমি জানি, আমাদের সমস্যা লাঘবে ফিফা চেষ্টা করেছে। তবে স্বাগতিক দেশ আমাদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করেছে। আমাদের জাতি, দেশ ও আমাদের দলের হয়ে এ তরুণ ছেলেগুলো যা করেছে তা ইতিহাস হয়ে থাকবে।’
মেহদী তারেমি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা জঘন্য বিশ্বকাপ। ফিফার উচিত ছিল সব সমস্যার সমাধান করা। দুর্ভাগ্যবশত শুরু থেকেই তারা সেটি করতে পারেনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর ইনফান্তিনো (ফিফা প্রেসিডেন্ট) আমাদের ড্রেসিংরুমে এসে বলেছিলেন, “এটি তো কেবল শুরু…।” আগামীকালই (আজ) গ্রুপ পর্ব শেষ হতে যাচ্ছে। অথচ আমাদের লজিস্টিক দলের কোনো মানুষ এখানে নেই। কারণ তারা ভিসা পাননি।’
তারেমি বলেন, ‘আমাদের কেন বারবার তিজুয়ানা থেকে যাতায়াত করতে হবে? আমরা তিজুয়ানার মানুষকে ভালোবাসি। মেক্সিকোকে ভালোবাসি। তারা খুবই বিনয়ী এবং আমরা তাদের পছন্দ করি। কিন্তু একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে এমন একটি পেশাদার টুর্নামেন্টে এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এটি অন্যায়। আমাদের মতে, এটি চরম অবিচার। ফিফার কাছে কি এটা ন্যায়সংগত মনে হয়? ঠিক আছে, তাদের জন্য ভালো। তারা যদি চায় আমরা টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে যাই, তাহলে ঠিক আছে; আমরা বাদই পড়ে যাচ্ছি।’


