রেস্তোরাঁয় রেখে যাওয়া পাকিস্তানি শিশুটি ফিরল বাবা-মায়ের কোলে
জুন ২৮, ২০২৬
সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটক নিখোঁজ
জুন ২৮, ২০২৬
রেস্তোরাঁয় রেখে যাওয়া পাকিস্তানি শিশুটি ফিরল বাবা-মায়ের কোলে
জুন ২৮, ২০২৬
সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটক নিখোঁজ
জুন ২৮, ২০২৬

চাঁদপুরে ভরা মৌসুমেও ইলিশের খরা, দাম আকাশচুম্বী

মৌসুম শুরু হলেও জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না ইলিশ। ফলে বাজারে ইলিশের দাম আকাশচুম্বী। এতে জাতীয় মাছের স্বাদ ভুলতে বসেছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

সকালে চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ইলিশের মৌসুম হলেও আড়তগুলো অনেকটাই ফাঁকা। বড় স্টেশন মাছঘাটের অধিকাংশ আড়তেই বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। বিক্রেতারা অলস সময় পার করছেন। অথচ এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। যেটুকু ইলিশ রয়েছে, তারও দাম আকাশচুম্বী। এদিকে স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, বৃষ্টি বাড়লেই ধরা পড়বে ইলিশ।

গতকাল সরজমিন শহরের পালবাজার, বিপণিবাগ, নতুন বাজার, ওয়্যারলেস ও পুরানবাজার ঘুরে তেমন ইলিশ চোখে পড়েনি। তবে বিপণিবাগ ও পালবাজারে কিছু ইলিশ উঠলেও দাম চড়া। অন্যদিকে বড় স্টেশন মৎস্য আড়তে ট্রলারযোগে তেমন ইলিশ আসছে না। উপকূলীয় নদ-নদীর কিছু ইলিশ এলেও তা একেবারেই নগণ্য। চাঁদপুরের মেঘনা ও পদ্মা নদী থেকে জেলেরা ফিরছেন খালি হাতে। মৎস্য ঘাটে মাছের নৌকা বা ট্রলার তেমন নেই। লেবাররা পন্টুনে অলস সময় কাটাচ্ছেন। ক্রেতা ও মৎস্য ব্যবসায়ীর সংখ্যাও খুব কম।

কয়েকটি আড়তের সামনে স্বল্প পরিমাণ মাছ নিয়ে বিক্রির জন্য বসে আছেন খুচরা বিক্রেতারা। মূলত জুন, জুলাই ও আগস্ট ইলিশের ভরা মৌসুম। কিন্তু এ মৌসুমে চাঁদপুরে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় হতাশ জেলে, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

দাম সম্পর্কে ব্যবসায়ী মোখলেস জানান, এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ৬০০ টাকা। আর ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়।

ক্রেতা লতিফ পাটওয়ারী বলেন, ‘মাছঘাটে এসেছি ইলিশ নেয়ার জন্য। কিন্তু এখন ইলিশ নেই। যা আছে, তারও দাম অনেক। নাগালের বাইরে থাকায় দাম শুনে খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছি।’

বড় স্টেশন মাছঘাটের লেবার মোবারক বলেন, ‘আগে এ সময়ে প্রচুর ইলিশ ঘাটে আসত। মাছের আড়তগুলো ইলিশে ভরপুর থাকত। কিন্তু এখন ঘাটে মাছ নেই বললেই চলে। যা আছে তা পরিমাণে খুবই কম। তাই আমরা অলস সময় কাটাচ্ছি। কাজ নেই।’

ইলিশের আড়তদার সম্রাট বলেন, ‘ঘাটে মাছ কম থাকার কারণে দাম বেশি। সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে। গত বছর এ সময়ে প্রতি কেজি ইলিশ ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়।’

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি হাজী মানিক জমাদার বলেন, ‘এখন মাছঘাট প্রায় ফাঁকা। আজ ঘাটে মাত্র পাঁচ-ছয় মণ ইলিশ সরবরাহ হয়েছে। এগুলো চাঁদপুরের স্থানীয় নদীর মাছ। সাগরেও মাছ নেই। এর অন্যতম কারণ বৃষ্টি না হওয়া এবং ঝড়-তুফান না থাকা। বৃষ্টি, বন্যা ও ঝড়-তুফান হলে নদী ও সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে। মৌসুমের শুরুতেই চাঁদপুরে ইলিশের সরবরাহ অনেক কম।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘উজানে বাঁধ ও ব্যারাজের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও লবণাক্ততার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যা ইলিশের বেড়ে ওঠাকে বাধাগ্রস্ত করছে। গত অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। আমাদের প্রত্যাশা, এ বছর ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। কিন্তু এবার বৃষ্টি অনেক কম হওয়ায় ইলিশ ধরা পড়ছে না। বৃষ্টি হলে ইলিশ পাওয়া যাবে। মেঘনার মোহনায় বালুচর বেড়ে যাওয়ায় ইলিশের স্বাভাবিক চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। পানিদূষণ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে নদীর পানির গুণগত মান এবং অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছে। সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ইলিশের প্রজনন ও বৃদ্ধির জন্যও প্রতিকূল।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *