ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
জুন ২৭, ২০২৬
আল জাজিরা এক্সপ্লেইনার ইসরায়েল-লেবানন শান্তিচুক্তিতে যা আছে
জুন ২৭, ২০২৬
ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
জুন ২৭, ২০২৬
আল জাজিরা এক্সপ্লেইনার ইসরায়েল-লেবানন শান্তিচুক্তিতে যা আছে
জুন ২৭, ২০২৬

ভেনিজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খোঁজে প্রাণপণ চেষ্টা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৯

ভেনিজুয়েলায় পরপর আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৯-এ পৌঁছেছে। আহত হয়েছে অন্তত ২ হাজার ৯৮০ জন।

হতাহতের এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে দেশীয় উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মীরাও। খবর রয়টার্স।

ভূমিকম্পের পর থেকেই রাজধানী কারাকাস ও সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঞ্চলে দিন-রাত উদ্ধার অভিযান চলছে। ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়া মানুষের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের বের করে আনার চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। অনেক জায়গা থেকে এখনো আটকে পড়াদের সাহায্যের আকুতিও শোনা যাচ্ছে।

উদ্ধারকাজে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও বাড়ছে। সুইজারল্যান্ডের ৮০ সদস্যের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল এবং মেক্সিকোর ত্রাণকর্মীরা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছেন। ভেনিজুয়েলায় পৌঁছেছে স্পেনের উদ্ধারকারী দলও। ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, লুক্সেমবার্গ, পর্তুগালসহ আরো কয়েকটি দেশের উদ্ধারকারী দল দেশটিতে পৌঁছার পথে রয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ বলেন, ‘মানুষের জীবন বাঁচাতে আমরা অবিরাম কাজ করেছি। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর সহায়তায় আমরা অনেক মানুষের জীবন রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছি। তবে এখনো অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।’”

নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহে চালু করা একটি ওয়েবসাইটে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৫০ হাজার মানুষের নাম নিবন্ধিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ এখনো আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন উদ্ধারকর্মীরা। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কারাকাসের উপকণ্ঠের উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরা। সেখানে বহুতল আবাসিক ভবনসহ অন্তত ১০০টি ভবন ধসে পড়েছে। লা গুয়াইরার এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রধান দুটি হাসপাতাল আহত ব্যক্তিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। সেখানে চিকিৎসা সরঞ্জামেরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া অনেককেই চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করছেন।’

বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। গত ১২৬ বছরের মধ্যে এটিই দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, মূল ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ২১৪টি আফটার শক অনুভূত হয়েছে।

আফটার শক আতঙ্কে কারাকাস ও আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রমও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের আশ্রয় দিতে অনেক স্কুল ভবনকে অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে প্রশাসন।

সরকার ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে ব্যাপক উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও অনেক এলাকায় অগ্নিনির্বাপক বাহিনী, পুলিশ, সিভিল প্রটেকশন ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা নিজেরাই হাত বা যা কিছু সরঞ্জাম পেয়েছেন, তা দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। সরকারি সহায়তা সীমিত থাকলেও সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসেছে। কারাকাস থেকে মোটরসাইকেলের বহরে খাদ্য ও জরুরি সামগ্রী লা গুয়াইরায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ভ্যালেন্সিয়া শহর থেকেও অনেক মানুষ রাতভর মোটরসাইকেলে করে ত্রাণ নিয়ে দুর্গত এলাকায় পৌঁছান।

দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে দুর্বল হয়ে পড়া ভেনিজুয়েলার জন্য এ দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করে তুলেছে। কয়েক দশকের সংকটে দেশটির অবকাঠামো ও জনসেবা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং লাখো মানুষ দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, এ দুর্যোগে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *