
বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
জুন ২৭, ২০২৬
ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
জুন ২৭, ২০২৬বর্তমান সরকার মেগা প্রকল্পের চেয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিতে বেশি আগ্রহী জানিয়ে অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, মেগা প্রকল্প বানিয়ে মানুষকে চমকে দিয়ে উন্নয়নের ফানুস তৈরি করে মেগা লুটের ব্যপারে এই সরকারের কোন আগ্রহ নেই। মানবসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রিক ও প্রয়োজনীয় প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায় ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে মনে করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। আজ শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত চার মাসে এনবিআরের কার্যক্রমে যে গতিশীলতা এসেছে, তার ফলেই এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে। সামনে আরো কিছু নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। এসব উদ্যোগ কার্যকর হলে আগামী অর্থবছরে অতিরিক্ত ২ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।
বর্তমান সরকার মেগা প্রকল্পের চেয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিতে বেশি আগ্রহী জানিয়ে অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, মেগা প্রকল্প বানিয়ে মানুষকে চমকে দিয়ে উন্নয়নের ফানুস তৈরি করে মেগা লুটের ব্যপারে এ সরকারের কোন আগ্রহ নেই। মানবসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রিক ও প্রয়োজনীয় প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।
সরকারের মধ্যে একটা ধারাবাহিকতা রাখতে হয়। মানে একটা সরকার এসে সবকিছু (প্রকল্প) বন্ধ করে দিলে এটা অর্থনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি করবে। ফলে আমাদের বাছাই করতে হচ্ছে। যেসব প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি কম, সেগুলোকে আমরা নতুন প্রকল্পের সাথে কীভাবে ইন্টিগ্রেট করে অথবা কোন কোন ক্ষেত্রে একীভূত করে এগিয়ে যেতে পারি, সেটার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেন তিনি উল্লেখ করেন।
সরকার চাইলেও ঋণ পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার চাইলেই ঋণের চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না। কারণ, আগের সরকারের নেয়া ঋণের সুদ পরিশোধের দায় বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। ঋণ গ্রহণ ও ঘাটতি বাজেট বাংলাদেশের জন্য নতুন কোনো বিষয় নয়। ২০১২ সালে নেয়া অনেক উন্নয়ন প্রকল্প এখনও চলমান রয়েছে এবং সেগুলো শেষ করার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের ওপর পড়েছে। তবে সরকার ধীরে ধীরে ঋণনির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
সরকার করের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, করের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে খুদে দোকানিরা যাতে ন্যূনতম কর দিতে পারে সে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। হয়রানির উদ্দেশ্যে নয়, ন্যায্যতার ভিত্তিতেই কর আদায় করা সরকারের উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী সরকারের ভুলনীতি, অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি ভেঙ্গে পড়েছিলো। বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সুত্রে ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। বাজেটের সুফল পেতে অর্থের যোগান যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি এর বাস্তবায়ন দক্ষতাও সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ।


