চার কোম্পানির পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা
জুন ২৪, ২০২৬
গুম-খুনের বিচার দাবি, ১১ দলের সমাবেশে সরকারকে কঠোর বার্তা
জুন ২৪, ২০২৬বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারে গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে পেট্রোবাংলা।
এরই মধ্যে সিঙ্গাপুর, জাপান, নরওয়েসহ বিভিন্ন দেশের পাঁচ কোম্পানি দরপত্র-সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত (ডেটা) কিনেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে দরপত্র কেনেনি।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য মাল্টি ক্লায়েন্ট সার্ভের ডেটাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে এসব কোম্পানি। তথ্য-উপাত্ত কেনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিরিংগিয়া এনার্জি গ্লোবালের স্থানীয় প্রতিনিধি বিরিংগিয়া পাওয়ার বাংলাদেশ লিমিটেড, সিঙ্গাপুরভিত্তিক আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানি ক্রিসএনার্জি, ঢাকার পিয়াল এনার্জি অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, জাপানের অনোডা ইনকরপোরেটেড ও নরওয়েভিত্তিক রিস্টাড এনার্জি।
দেশের গভীর সমুদ্রে ১৫ ও অগভীরে ১১টি ব্লকের দরপত্র আহ্বান করেছে পেট্রোবাংলা। সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের এ কাজ পেতে দেশী-বিদেশী কোম্পানিগুলো দরপত্র কিনতে পারবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এরই মধ্যে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোয় প্রদর্শন এবং বহুজাতিক ৭৭টি কোম্পানিকে মেইল করে দরপত্রে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
পেট্রোবাংলা বলছে, ১০০ ডলারের বিনিময়ে ভূতাত্ত্বিক তথ্য, ব্লকের মানচিত্র-সংশ্লিষ্ট উপকরণ সংবলিত প্রাথমিক তথ্য প্যাকেজ পাওয়া যাবে। আর সিসমিক সেকশন, গ্র্যাভিটি ডেটা, ম্যাগনেটিক ডেটা ও ভূতাত্ত্বিক মানচিত্রসহ পূর্ণাঙ্গ প্রমোশনাল প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ডলার।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক অনেক তেল-গ্যাস কোম্পানির কাছেই আগে থেকে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক ও ভূ-ভৌতিক তথ্য রয়েছে। ফলে তারা নতুন করে দরপত্র কেনার আগে বিদ্যমান ডেটা বিশ্লেষণ করছে। এ কারণে দরপত্র বিক্রির গতি এখনো ধীর। তবে আশাবাদী পেট্রোবাংলা। দরপত্র জমা দেয়ার সময়সীমা শেষ হতে এখনো বেশ সময় বাকি রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে আরো বহু আন্তর্জাতিক কোম্পানি আগ্রহ দেখাবে এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট) মো. শোয়েব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে পাঁচটি কোম্পানি তথ্য-উপাত্ত কিনেছে। আমরা প্রত্যাশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আরো অনেকেই ডেটা কিনবে। যেহেতু এখনো অনেক সময় বাকি।’
সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে এর আগে ২০২৪ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে আওয়ামী লীগ সরকার। ক্ষমতাচ্যুত ওই সরকারের আহ্বান করা দরপত্রের সময় বাড়ালেও কোনো কোম্পানি তাতে অংশ নেয়নি। পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়, মার্কিন কোম্পানি এক্সনমবিলসহ সাতটি আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা কোম্পানি দরপত্র ও দুটি কোম্পানি পেট্রোবাংলা থেকে ডেটা কিনেছিল। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ নানা কারণে দরপত্র জমা দেয়নি কোনো প্রতিষ্ঠান।
কেন কোনো কোম্পানি দরপত্রে অংশ নেয়নি সে বিষয়ে কমিটি গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গভীর সমুদ্র থেকে স্থলভাগ পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণ ব্যয়, ডব্লিউপিপিএফ ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণসহ বেশকিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। এছাড়া গ্যাসের দাম ব্রেন্ট ক্রুডের ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে গভীর সমুদ্রে ১১ শতাংশ এবং অগভীরে করা হয়েছে সাড়ে ১০ শতাংশ। মডেল পিএসসি-২০১৯-এ যা ছিল ৫ দশমিক ৬ ও ৭ দশমিক ২৫ ডলার।


