
এমপিপুত্রের মুক্তি, শিবির নেতা হত্যা নিয়ে সংসদে আলোচনা চায় জামায়াত
জুন ২৩, ২০২৬
গাজীপুরে ড্রেনে বর্জ্যের স্তূপ সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা
জুন ২৩, ২০২৬প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি হবে না—সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আইসিটিতে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল)। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি ছিল না, সেই বিচারের পর নির্ধারিত হবে
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কিনা, তা আদালতে নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আজ সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি হবে না—সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আইসিটিতে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল)। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি ছিল না, সেই বিচারের পর নির্ধারিত হবে।’
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা প্রসঙ্গে বলেন, ‘যেটা হয়েছে, ওই পর্যন্ত যেহেতু তারা বিচারাধীন থাকবে, সেই পর্যন্ত তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে সন্ত্রাস দমন আইন ২০০৯-এর অধীনে। তাই তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ। এই দলটা এখন যেকোনো কর্মসূচি নিয়ে যদি মাঠে নামতে চায়, তাহলে তারা একটা আইন ভঙ্গকারী কাজ করছে। তাই সরকার সেখানে ব্যবস্থা নেবে, এটাই স্বাভাবিক।’
বর্তমানে আওয়ামী লীগ মাঠে অনেক কিছু করে ফেলতে পারবে বলেও মনে করেন না প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না আওয়ামী লীগের সেই রকম নৈতিক সাহসও আছে। আপনার তো এটলিস্ট একটা নৈতিক সাহস লাগে। কারণ একটা কথা বলে না— চোরের মায়ের বড় গলা। মানে আওয়ামী লীগের বড় গলা হতে আমাদের সবার মেমরি শেষ হয়ে যেতে হবে। আমরা সবার ডিমেনশিয়া হবে, তারপর কোনো দিন আওয়ামী লীগ এসে বড় গলা করে কথা বলতে পারবে। এর আগে আমার মনে হয় না।’
লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর-বাটপারের আসলে খুব বেশি নৈতিক সাহস থাকে না বলেও এসময় মন্তব্য করেন ডা. জাহেদ উর রহমান।
একটি দলকে নিষিদ্ধ করা কি গণতন্ত্রের জন্য ভালো ফল আনে— এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। আমি অনেক সময় ব্যক্তিগত কথা বলেছি তো, তাই আজকের রাষ্ট্রের জায়গা থেকে হলেও আমি একটু ব্যক্তিগতভাবে বলি। খেয়াল করবেন, দুই-তিন দিন আগে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটা মন্তব্য করেছেন যে, “আওয়ামী লীগ একটা রাজনৈতিক দল নয়, এটা একটা মাফিয়া দল”। এই কথাটা আমি বহু বছর থেকে বলছি।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘একটা গণতান্ত্রিক পরিস্থিতিতে, গণতান্ত্রিক প্যারামিটারের মধ্যে একটা দলকে গণতান্ত্রিক হতে হয়। এই কারণেই দেখবেন অনেক দল নিষিদ্ধ হয়। জার্মানিতে একটা দল, আমি অনেক সময়ই তুলনা দেই। ২০ শতাংশ ভোট তারা পেয়েছেন, সিট পেয়েছেন, কিন্তু সেই দলটা থাকবে কি থাকবে না এটা নিয়ে কিন্তু আলাপ-আলোচনা হচ্ছে।’
জাহেদ উর রহমান আরো বলেন, ‘অনেকে বলেন আওয়ামী লীগের বিপুল জনসমর্থন রয়েছে। ধরুন, দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে। একইভাবে কোনো উগ্রপন্থী বা চরমপন্থী ধর্মীয় গোষ্ঠীকেও যদি ৪০ বা ৫০ শতাংশ মানুষ সমর্থন করে, তবুও কি তাকে নির্বিঘ্নে কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে? উত্তর হচ্ছে, না। কারণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কিছু মৌলিক নীতি ও শর্ত রয়েছে, এবং সেই নির্ধারিত চেকলিস্ট মেনেই সবাইকে চলতে হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘এটা একটা বিচারিক প্রক্রিয়া, যদি সেটা হয় তার সমর্থন কেমন থাকুক আর যাই হোক, এটা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়তো আদালতের। আমি হয়তো বলছি, কারণ এটা আদালতের জুডিসডিকশন, আমাদের কিছু করার নেই। তাই এই প্রসেসটা আমরা মেনে নেব।’


