
স্থানীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের পথে যাচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী
জুন ২১, ২০২৬
লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ
জুন ২১, ২০২৬বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে। এর ফলে জনস্বাস্থ্য সংকটের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে
ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ আঘাত হানায় ফ্রান্সে আংশিকভাবে অ্যালকোহল গ্রহণ বা মদ্যপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে, জার্মানিতে জারি করা হয়েছে দেশব্যাপী তাপ সতর্কতা এবং স্পেনে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল ভক্তদের জন্য বসানো একটি ফ্যান জোন। খবর রয়টার্স।
ফ্রান্সের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, রোববার দেশটির ৯৬টি বিভাগের মধ্যে ৩৫টিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা রেড হিট অ্যালার্ট জারি করা হতে পারে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, প্যারিস এবং বার্গান্ডিতে তাপমাত্রা ৩৯-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু রোববার অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক ফেত দ্য লা মিউজিক উৎসবসহ বিভিন্ন জনসমাগমে মদ্যপান নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে প্যারিস কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের স্বস্তির জন্য শহরের পার্কগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
জার্মানিতেও দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে তাপ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা ডিডব্লিউডি জানিয়েছে, তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। অতিরিক্ত তাপ ও আর্দ্রতার কারণে প্রবল বজ্রঝড়ের আশঙ্কাও রয়েছে।
আল্পস পর্বতমালার দক্ষিণে ইতালির বিভিন্ন শহরে ৩৬-৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও পর্যটনে প্রভাব ফেলছে। রোমে কলোসিয়ামের সামনে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে পর্যটকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন প্রাচীন ক্লডিয়াস মন্দিরের ভূগর্ভস্থ অপেক্ষাকৃত শীতল অংশে।
উত্তর ইতালির শহর বোলোনিয়ায় মানুষ ১৬শ শতাব্দীর নেপচুন ফোয়ারার পানিতে মুখ ধুয়ে এবং ঐতিহাসিক বারান্দার ছায়ায় দাঁড়িয়ে গরম থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
এদিকে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের প্লাজা দে কোলন চত্বরে স্থাপিত বিশ্বকাপ ফ্যান জোন বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। ফলে স্পেন ও সৌদি আরবের মধ্যকার বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখার জন্য সমর্থকদের বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে হবে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইউরোপে তাপপ্রবাহ আরো ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে। এর ফলে জনস্বাস্থ্য সংকটের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ইমানুয়েল মুলাঁ বলেন, স্বল্পমেয়াদে তাপপ্রবাহের অর্থনৈতিক প্রভাব মিশ্র হতে পারে। একদিকে উৎপাদনশীলতা কমে যায়, অন্যদিকে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যায়। তবে মধ্যমেয়াদে এ ধরনের তাপপ্রবাহ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করে বলে তিনি সতর্ক করেন।


