ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক আজ হচ্ছে না সমঝোতা হলেও অনেক প্রশ্ন অমীমাংসিত
জুন ১৯, ২০২৬
হাইতির বিপক্ষে নতুন শুরুর খোঁজে ব্রাজিল
জুন ১৯, ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক আজ হচ্ছে না সমঝোতা হলেও অনেক প্রশ্ন অমীমাংসিত
জুন ১৯, ২০২৬
হাইতির বিপক্ষে নতুন শুরুর খোঁজে ব্রাজিল
জুন ১৯, ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম ৮০ ডলারের নিচে

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্বাক্ষরের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি কমে প্রায় ৭৭ ডলারে নেমে এসেছে, যা ১২ জুন ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারের কাছাকাছি ছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ব্যারেলপ্রতি দাম ৭৪ ডলারের আশপাশে ওঠানামা করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ফলপ্রসূ হলে সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি তেলের দাম আরো কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বাজার পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দেয়। বিশেষ করে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুদ ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।

এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে ২০২৭ সালে বিশ্ববাজারে তেলের অতিরিক্ত সরবরাহ দেখা দিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান পুনরায় তেল রফতানি শুরু করলে তা বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ২ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম হবে। ওয়েস্টপ্যাকের অর্থনীতিবিদ লুকা বেলোব্রাজিকের মতে, এটি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি করলেও নিষেধাজ্ঞা থেকে সম্পূর্ণ ছাড় পাওয়া এবং এর স্থায়িত্ব নির্ভর করছে অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি শান্তির ওপর।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন বলছে, আজ থেকে খুলে যেতে পারে হরমুজ প্রণালি। আর এটি হলে বিশ্ববাজারে মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কারণ প্রণালিটি উন্মুক্ত হলে পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা লাখ লাখ ব্যারেল তেল একযোগে বিশ্ববাজারে প্রবেশ করবে।

জ্বালানি বাজারের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের বিশ্লেষক মুইউ শু ১৭ জুনের এক পূর্বাভাসে জানান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হলে পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে চলে আসতে পারে। পাশাপাশি উৎপাদনকারী দেশগুলো বিকল্প বা কম দৃশ্যমান মাধ্যমেও তেলের চালান সরবরাহ অব্যাহত রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেপলারের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ইরানি তেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে চাবাহার বন্দরের পশ্চিমে অবস্থানরত ট্যাংকারগুলো থেকে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে চলে আসবে। ওয়াশিংটন যদি নিষেধাজ্ঞার আওতা আরো শিথিল করে, তবে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ক্রমান্বয়ে আরো বাড়বে।

এদিকে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী অন্য একটি প্রতিষ্ঠান ভোর্টেক্সার উপাত্ত অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে অন্তত ৫৪টি সুপারট্যাংকার উপসাগরীয় অঞ্চলের ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল।

প্রায় চার মাস ধরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চলমান সংকট কেটে যাওয়ার প্রত্যাশায় এশিয়ার শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা গেছে। জাপানের প্রধান শেয়ারসূচক নিক্কেই ২২৫ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। নিক্কেই ২২৫-এর সূচক বেড়েছে ২ শতাংশের বেশি। আর কোসপি বেড়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশের বেশি। তাইওয়ানের তাইএক্স সূচকও সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *