
মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ
জুন ১৬, ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে খুলছে হরমুজ প্রণালি, থামছে যুদ্ধ
জুন ১৬, ২০২৬২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী, বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। যাদের গোছানো আক্রমণ, ক্ষিপ্র গতি আর নান্দনিক পাসিং ফুটবলের সামনে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার কথা, সেই স্প্যানিশ আর্মাডার সব অস্ত্রই যেন ভোঁতা হয়ে পড়ল।
আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়েও কেপ ভার্দের রক্ষণদুর্গে সামান্য ফাটল ধরাতে পারেনি ‘লা রোজা’রা। বরং গোলশূন্য ড্রয়ে ইউরোপের চ্যাম্পিয়নদের রুখে দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিষেককে রূপকথার রঙে রাঙিয়েছে নবাগত কেপ ভার্দে; ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটির জন্য যা জয়ের সমান। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই তাই আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেটে পড়েন কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা।
ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের পায়ে। কিন্তু বল দখলের আধিপত্যকে গোলে রূপ দেয়ার কাজটি করতে পারেনি স্প্যানিশরা। কেপ ভার্দের দুর্ভেদ্য রক্ষণে আটকে গেছেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডরা। ম্যাচের শেষভাগে লামিন ইয়ামাল ও দানি ওলমোকে মাঠে নামিয়েও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। উল্টো নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে দ্রুতগতির এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে প্রায় অঘটনই ঘটিয়ে ফেলেছিল আফ্রিকার দেশটি। ভাগ্য সহায় না হলে বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিটদের হয়তো পরাজয়ের লজ্জা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হতো।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্পেন। রদ্রি, ফাবিয়ান রুইস ও গাভির নেতৃত্বে মাঝমাঠে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে তারা। একের পর এক ছোট পাসে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। কিন্তু কেপ ভার্দে শুরু থেকেই স্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামে। নিজেদের অর্ধে ১০ খেলোয়াড় নিয়ে স্পেনের আক্রমণভাগকে বক্সের বাইরে আটকে রেখে পাল্টা আক্রমণের সুযোগ খুঁজতে থাকে তারা।
প্রথমার্ধে স্পেনের বেশ কয়েকটি আক্রমণ প্রতিহত করে কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ। উইং ব্যবহার করে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও শেষ মুহূর্তে সঠিক ফিনিশিংয়ের অভাবে হতাশ হতে হয় স্প্যানিশদের। অন্যদিকে কেপ ভার্দেও কয়েকবার পাল্টা আক্রমণে স্পেনকে সতর্ক করে দেয়। যদিও দুই দলই বিরতির আগে গোলের দেখা পায়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের তীব্রতা আরো বাড়ায় স্পেন। একের পর এক কর্নার এবং ক্রস থেকে সুযোগ তৈরি হতে থাকে। তবে কেপ ভার্দের রক্ষণ ছিল জমাট। প্রতিটি আক্রমণের সামনে মানবপ্রাচীর হয়ে দাঁড়ান তাদের ডিফেন্ডাররা। সময় যত গড়িয়েছে, স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যে ততই অস্থিরতা দেখা গেছে।
৭০ মিনিটের পর ফাবিয়ান রুইসের জায়গায় নামেন মিকেল মেরিনো এবং গাভির পরিবর্তে মাঠে আসেন তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। এতে স্পেনের আক্রমণে কিছুটা গতি আসে। ডান প্রান্ত দিয়ে কয়েকবার প্রতিপক্ষের রক্ষণে ভাঙন ধরানোর ব্যর্থ চেষ্টা করেন ইয়ামাল।
ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে দৃশ্যপট প্রায় একমুখী হয়ে ওঠে। স্পেন আক্রমণ চালিয়েছে, আর কেপ ভার্দে রক্ষণ সামলেছে। ৮৯ মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালের প্রথম স্পর্শে নেয়া শট গোলমুখে যাচ্ছিল। কিন্তু কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার লোপেস দুর্দান্ত এক ব্লকে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন।
তবে শেষ দিকে উল্টো গোল খেতে বসেছিল স্পেন। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে দ্রুতগতির এক আক্রমণ থেকে কর্নার আদায় করে কেপ ভার্দে। সে কর্নার থেকেই হেড নেন বোরজেস। বল মাটিতে আঘাত করে বিপজ্জনকভাবে লাফিয়ে উঠলেও স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমন সেটি নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হন। আরেকটু এদিক-ওদিক হলেই হয়তো বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি দেখত ফুটবল বিশ্ব।
শেষ পর্যন্ত রেফারির বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়েন কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই তারা পয়েন্ট অর্জন করল এমন এক দলের বিপক্ষে, যারা ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এবং বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার।


