
গ্রেফতার
জুন ১৫, ২০২৬
বর্ষায় রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা
জুন ১৫, ২০২৬কুড়িগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়েছে।
তবে বিজিবি ও স্থানীয় মানুষের সতর্ক অবস্থানে অনুপ্রবেশ ঠেকানো সম্ভব হলেও সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে আছেন তারা।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া ও ভন্দুর চর সীমান্ত দিয়ে দুই শিশু ও নারীসহ নয়জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে ভারতের ঝালুর চর ক্যাম্পের বিএসএফ। বিষয়টি সীমান্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দেয়। খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গয়টাপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত সেখানে সতর্ক অবস্থান নেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীও বিজিবির সঙ্গে যোগ দিয়ে নজরদারি জোরদার করায় বিএসএফের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অনুপ্রবেশে ব্যর্থ হয়ে ওই নয়জন বর্তমানে ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ৫০ গজ ভেতরে অবস্থান করছে।
একই দিন ভোর ৪টার দিকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা-গেদে সীমান্তের ৭৬-৭৭ নম্বর মেইন পিলারের কাছ দিয়ে আরো ১১ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। এদের মধ্যে আটজন পুরুষ ও তিনজন নারী ছিলেন। তবে বিজিবির নিয়মিত টহল দল তাৎক্ষণিকভাবে এ অপতৎপরতা রুখে দেয় এবং তাদের আবার সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কাছে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, পুশ-ইনসহ সীমান্তের সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি সার্বক্ষণিক অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে গত শুক্রবার ভোরে বিএসএফের পুশ-ইনের শিকার হওয়া ১২ জন মানুষ এখনো শূন্যরেখায় আটকে আছেন। এদের মধ্যে চারজন পুরুষ, চারজন নারী এবং দেড় বছরের একটি শিশুসহ চারটি শিশু রয়েছে। ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের বাইরের অংশে ও সীমানা পিলারের ৫০ গজ ভেতরে একটি পাটখেতের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে তাদের। ঘটনার তিনদিন পার হয়ে গেলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় রোদ, বৃষ্টি, খাবার ও পানির তীব্র সংকটে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সাপ ও পোকামাকড়ের আতঙ্কের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে এসব অসহায় মানুষের। এ পুশ-ইনের ঘটনায় শনিবার সকালে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই তা শেষ হয়। ফলে তীব্র আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে শূন্যরেখাতেই কাটাতে হচ্ছে তাদের।


