বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলোন মাস্ক
জুন ১৩, ২০২৬
বৈশ্বিক সংকট সত্ত্বেও কেন কমছে স্বর্ণের দাম?
জুন ১৪, ২০২৬
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলোন মাস্ক
জুন ১৩, ২০২৬
বৈশ্বিক সংকট সত্ত্বেও কেন কমছে স্বর্ণের দাম?
জুন ১৪, ২০২৬

নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুবিধা সীমিত গোষ্ঠীর মধ্যে আটকে গেছে: বিএসআরইএ

বিএসআরইএ জানায়, বর্তমান এসআরও কাঠামোর সুবিধা দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ২০-২২ শতাংশকে ধারণ করছে। অন্যদিকে দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর প্রায় ৬৩ শতাংশই আবাসিক, কৃষি ও ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক গ্রাহক, যারা সরাসরি কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর ও শুল্ক সুবিধা ঘোষণার পর আশাবাদ তৈরি হলেও বাস্তবে এসব সুবিধা সীমিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, এমন অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)। সংগঠনটির দাবি, বর্তমান কাঠামো বহাল থাকলে দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতের কাঙ্ক্ষিত সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হবে এবং ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আজ বিএসআরইএর নেতারা এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, বাজেট প্রস্তাবের পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারিকৃত এসআরও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঘোষিত কর ও শুল্ক সুবিধাগুলো মূলত নির্দিষ্ট কিছু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং রেসকো মডেলের আওতায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানির জন্য প্রযোজ্য করা হয়েছে। ফলে আবাসিক গ্রাহক, কৃষি খাতের সোলার সেচ ব্যবস্থা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও অধিকাংশ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী এসব সুবিধার বাইরে রয়ে গেছেন।

সংগঠনটির মতে, দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাজারের বড় অংশ গড়ে উঠেছে আমদানিকারক, পরিবেশক, ডিলার, খুচরা ব্যবসায়ী, ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন) প্রতিষ্ঠান ও নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনকারী গ্রাহকদের মাধ্যমে। অথচ বর্তমান প্রণোদনা কাঠামোতে তাদের জন্য কার্যকর কোনো সুবিধা রাখা হয়নি। এর ফলে হাজারো ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তার ব্যবসা এবং কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

বিএসআরইএ জানায়, বর্তমান এসআরও কাঠামোর সুবিধা দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ২০-২২ শতাংশকে ধারণ করছে। অন্যদিকে দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর প্রায় ৬৩ শতাংশই আবাসিক, কৃষি ও ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক গ্রাহক, যারা সরাসরি কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে সৌর প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বাজারে পণ্যের দাম কমেছে। বাস্তবে অধিকাংশ সৌর পণ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কর ও শুল্ক কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। এতে বাজারে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক চাপের মুখে পড়ছেন।

সংগঠনটি আরো অভিযোগ করে, চলতি বাজেট ও সংশ্লিষ্ট এসআরওতে সোলার ইরিগেশন, সোলার স্ট্রিট লাইট এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) খাতের জন্য কার্যকর কোনো নতুন প্রণোদনা দেয়া হয়নি। দেশে প্রায় ১৭ লাখ ডিজেলচালিত সেচ পাম্প থাকলেও সেগুলোকে সৌরচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রণোদনা ও কর্মপরিকল্পনার প্রতিফলন বাজেটে নেই।

সংবাদ সম্মেলনে বিএসআরইএর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোনো নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই প্রণোদনা কাঠামো অবশ্যই সবার জন্য সমভাবে উন্মুক্ত হতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএসআরইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহিদুল আলম, সহ-সভাপতি এম এ তাহের, সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউর রহমান সরকার রোজেল এবং পরিচালক (অর্থ) নিতাই পদ সাহাসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *