উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে আইসিটি খাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব
জুন ১১, ২০২৬
‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন হবে ৭ বছরে
জুন ১২, ২০২৬
উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে আইসিটি খাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব
জুন ১১, ২০২৬
‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন হবে ৭ বছরে
জুন ১২, ২০২৬

শিল্প, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার প্রস্তাব

 

প্রস্তাবিত বাজেট ঘাটতির অর্থায়নের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে।

দেশের বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, রফতানি বহুমুখীকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার ‘স্টিমুলাস প্যাকেজ-২০২৬’ বা প্রণোদনার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এতে বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

আজ বৃহস্পতিবার সংসদে বাজেট বক্তৃতায় এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত রাজস্ব আয়ের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট রাজস্ব আয় জিডিপির ১০ দশমিক ২ শতাংশের সমান।

তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এটি চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাবদ ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। পরিচালন ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

সরকার উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মোট ব্যয়ের ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ থাকলেও আগামী অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিপরীতে পরিচালন ব্যয়ের অংশ ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধে ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়ে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন ও বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

খাতভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে সামাজিক অবকাঠামো খাতে ২ লাখ ৭৯ হাজার ১ কোটি টাকা, ভৌত অবকাঠামো খাতে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা এবং সাধারণ সেবা খাতে ২ লাখ ৪৫ হাজার ১১৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো যথাক্রমে মোট বাজেটের ২৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ, ১৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং ২৬ দশমিক ১৩ শতাংশ।

প্রস্তাবিত বাজেট ঘাটতির অর্থায়নের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬ হাজার কোটি টাকা কম।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, অতীতে ব্যাপক ঋণ গ্রহণের ফলে বর্তমানে ঋণ ও সুদ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। এ কারণে বাজেট ঘাটতিও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ঋণ ব্যবস্থাপনা সংস্কার, উচ্চ রিটার্নসম্পন্ন খাতে বিনিয়োগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামো আধুনিকায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ ভবিষ্যতে রাজস্ব আয় বাড়াতে এবং ধীরে ধীরে বাজেট ঘাটতি কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *