একনেকে ২ হাজার ২৬৬ কোটি টাকার আট প্রকল্প অনুমোদন
জুন ১০, ২০২৬
সংসদে অর্থমন্ত্রী অর্থঋণ আদালতে অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে
জুন ১০, ২০২৬
একনেকে ২ হাজার ২৬৬ কোটি টাকার আট প্রকল্প অনুমোদন
জুন ১০, ২০২৬
সংসদে অর্থমন্ত্রী অর্থঋণ আদালতে অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে
জুন ১০, ২০২৬

চমেক অর্থোপেডিকস সার্জারি বিভাগ ঈদের ছুটিতে ভর্তি রোগীর ৪০ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার

চট্টগ্রামে ঈদুল আজহার ছুটিতে অর্থোপেডিকস সার্জারি বিভাগে ভর্তি রোগীদের ৪০ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

গত ২৫-৩১ মে পর্যন্ত সাতদিনে এ ওয়ার্ডে মোট ৪৫৯ রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৮৫ জন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, ঈদের ছুটির সময় নগরী ফাঁকা হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মহাসড়কে দূরপাল্লার যাত্রীদের মোটরসাইকেল ব্যবহার বেড়েছে। নগরীতে গণপরিবহন কমে যাওয়ায় মোটরসাইকেলচালকরা ফাঁকা রাস্তায় বেশি গতিতে চলাচল করেন। এ কারণে সড়ক দুর্ঘটনাও বেড়েছে। অন্যদিকে ঈদের আগে ও পরে দূরপাল্লার যাতায়াত বৃদ্ধি, মোটরসাইকেলের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণেও দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে। অর্থোপেডিকস বিভাগে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে হাত, পা, কোমর ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফ্র্যাকচার ছিল। অনেক রোগীর বড় কিংবা ছোট অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।

চমেক হাসপাতালের অর্থোপেডিকস সার্জারি ওয়ার্ডের (২৬ নম্বর) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ মে ভর্তি হয় ৫৮ জন। পরদিন ২৬ মে ৪৮, ২৭ মে ৫৪ ও ২৮ মে ভর্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১০৬-এ। ২৯ মে ভর্তি হয় ৫৭ জন ও ৩০ ও ৩১ মে ৬৮ জন করে ভর্তি হয়। সাতদিনের হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬৬ জন বিভাগটিতে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ বা ১৮৫ জন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। অর্থাৎ ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন গড়ে ২৬-২৭ জন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত রোগী ভর্তি হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। অন্য সময়ে গড়ে প্রতিদিন ৮-১০ জন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত রোগী এ বিভাগে ভর্তি হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহতদের বেশির ভাগই তরুণ ও কর্মক্ষম বয়সী মানুষ। মোটরসাইকেল চালানোর সময় অনেকেই হেলমেট ব্যবহার করেন না। এছাড়া অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং দীর্ঘ সময় মোটরসাইকেল চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা, কক্সবাজার, ফেনী ও পার্বত্য এলাকার রোগীরাও চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে এসেছে।

চমেক হাসপাতালের অর্থোপেডিকস (সার্জারি) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহাম্মদ কাওসারুল মতিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঈদের ছুটির সময়ে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছে। তাদের বেশির ভাগই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত। অনেককেই ছোট বা বড় অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। আমার ওয়ার্ডের শয্যা সংখ্যা ৯০, কিন্তু গড়ে ২০০-২৫০ জন বা তারও বেশি রোগী এখানে চিকিৎসাধীন থাকে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগীকে চিকিৎসা দিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি।’

চিকিৎসকরা জানান, ৯০ শয্যার এ ওয়ার্ডে সবসময়ই ২৫০ জনের বেশি রোগী ভর্তি থাকে। বিশেষ করে হাত, পা কিংবা শরীরের অন্যান্য অংশে অস্ত্রোপচার বা ব্যান্ডেজ করার পর রোগীদের দীর্ঘ সময় ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দিতে হয়। ফলে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত অনেক রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড় দেয়া যায় না। প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় অতিরিক্ত বেড বসিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। এ ওয়ার্ডে অস্ত্রোপচারের সংখ্যাও বেশি। প্রতিদিন চিকিৎসকদের অনেক বেশি অস্ত্রোপচার করতে হয়। এতে তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

তারা আরো জানান, রাজধানীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ কিংবা স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের পাশাপাশি বিশেষায়িত পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। সেখানে রোগীদের আলাদা ইউনিটে চিকিৎসার সুযোগ থাকলেও চমেকের এ ওয়ার্ডে শিশু, নারী, পুরুষ ও বয়স্ক—সব ধরনের রোগীকেই একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে রোগীরা এখানে আসে। একজন রোগীর অস্ত্রোপচারের জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন, চিকিৎসকরা অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়ে কম সময় দিতে বাধ্য হন। কারণ আরো অনেক রোগী অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় থাকে। এছাড়া অস্ত্রোপচারের সময় বিভিন্ন লজিস্টিক সহায়তার সংকটও রয়েছে। ফলে একজন চিকিৎসককে প্রতিদিন অনেকগুলো অস্ত্রোপচার করতে হয়। পর্যাপ্ত সময় নিয়ে চিকিৎসা দেয়া গেলে সেবার মান আরো উন্নত করা সম্ভব হতো।

চমেকের সার্জারি ওয়ার্ডের চিকিৎসক ডা. গৌরব কুমার সাহা জানান, ঈদের সময়ে চমেকের সার্জারি ওয়ার্ডে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাদের অনেককেই বড় বা ছোট অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। ঈদের ছুটিতে অতিরিক্ত গতি ও অসাবধানতার কারণে দুর্ঘটনা বেশি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *