
আড়াই লাখ পুলিশ সদস্যের ৯০ শতাংশেরই নেই আবাসন সুবিধা
জুন ৯, ২০২৬
তিন জেলায় সড়কে শিশুসহ নিহত ৭
জুন ৯, ২০২৬দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন জটিলতায় আটকে ছিল চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রস্তাবিত চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (সিইআইজেড) প্রকল্প।
অবশেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি উপস্থাপিত হচ্ছে আজ। ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড)’ শীর্ষক এ প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরের মাত্র ১২ দিন আগে প্রকল্পটি একনেক সভায় তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সফরকালে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট পূর্ণাঙ্গ চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বেলচূড়া এলাকায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে তোলা হবে। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী অবস্থান প্রকল্পটির কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অন্তত এক লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পরোক্ষভাবে আরো প্রায় চার লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ শুরু হয় ২০১৪ সালে, যখন বেজা ও চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
তবে অর্থায়ন, প্রশাসনিক জটিলতা এবং নীতিগত ধীরগতির কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘ সময় অগ্রগতি পায়নি। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও অবকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেভেলপার নিয়ে একাধিকবার পরিবর্তন আসে।
প্রথমে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (সিএইচইসি) মনোনীত হলেও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। পরে ২০২২ সালের জুলাইয়ে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) নতুন ডেভেলপার হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং চীনের প্রেফারেন্সিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) ঋণ থেকে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা অর্থায়ন করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হবে–১ হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি লিংক রোড ও ৩৩০ মিটার সেতু, ১ হাজার ১৮১ মিটার দীর্ঘ চার লেন সড়ক, দৈনিক ২ কোটি ৫০ লাখ লিটার সক্ষমতার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, গ্যাস সরবরাহ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও ট্রান্সমিশন লাইন, পানি সংরক্ষণাগার এবং ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ বাউন্ডারি ওয়াল।
বেজার কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি বিনিয়োগ মূলত শিল্পাঞ্চলের জন্য প্রয়োজনীয় বাহ্যিক অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হবে। অন্যদিকে ভূমি উন্নয়ন, কারখানা নির্মাণ ও শিল্প স্থাপনসহ অভ্যন্তরীণ উন্নয়নকাজ চীনা বিনিয়োগকারীরা বাস্তবায়ন করবে।
বেজার নির্বাহী সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মেজর জেনারেল (অব.) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্পটি সিআরবিসি বা বেজার একক উদ্যোগ নয়। বাংলাদেশ ও চীনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ উদ্দেশ্যভিত্তিক কোম্পানি (এসপিভি) গঠন ও নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানই পুরো শিল্পাঞ্চলের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’
তিনি বলেন, ‘সব ধরনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় এক লাখ এবং পরোক্ষভাবে আরো প্রায় চার লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
শিল্প ও শক্তি বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ২ জুন অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় ব্যয় প্রাক্কলনের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলে পরিকল্পনা কমিশন। বিশেষ করে সড়ক নির্মাণ ও পানি সংরক্ষণাগারের ব্যয় তুলনামূলক বেশি বলে উল্লেখ করা হয়। ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা এবং বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যয় বিশ্লেষণও চাওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) মো. কামাল আতাহার হোসেন বলেন, ‘একনেকে অনুমোদন পেলেও তাৎক্ষণিকভাবে কাজ শুরু হবে না। চুক্তি স্বাক্ষরসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হবে।’


