ঈদ শেষে রাজধানীতে ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ ঢাকাও ছাড়ছেন অনেকে
মে ৩১, ২০২৬
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টাইব্রেকারে আর্সেনালকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখল পিএসজি
মে ৩১, ২০২৬
ঈদ শেষে রাজধানীতে ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ ঢাকাও ছাড়ছেন অনেকে
মে ৩১, ২০২৬
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টাইব্রেকারে আর্সেনালকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখল পিএসজি
মে ৩১, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর বদলে গেল চিত্র যেখানে ছিল বর্জ্যের স্তূপ সেখানে পরিচ্ছন্নতার ছাপ

ঈদের দ্বিতীয় দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখে দুই সিটি করপোরেশনের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল রাজধানী ঢাকার দৃশ্যপট। গতকাল কোরবানির ঈদের তৃতীয় দিনে ঢাকার অনেক সড়ক ও অলিগলিতে বর্জ্যের স্তূপের বদলে দেখা যায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। শুধু বর্জ্য অপসারণই নয়, অনেক এলাকায় সড়ক ধুয়ে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দুর্গন্ধমুক্ত করার কাজও করেছে দুই সিটি করপোরেশন। যেসব এলাকায় একদিন আগেও বর্জ্য পড়ে ছিল, সেসব স্থানেও গতকাল জোর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চোখে পড়ে।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর দ্রুত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া প্রমাণ করে প্রয়োজনীয় তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে ঢাকা আরো পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত হতে পারে। কিন্তু কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণেই ঢাকাবাসী নোংরা-আবর্জনার মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। যদিও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি বছরই কোরবানির বর্জ্য বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অপসারণ করা হয়। তবে ঈদের দ্বিতীয় দিন গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকার সড়ক পরিদর্শনের কারণে সড়ক ধোয়ামোছায় বাড়তি যত্ন নেয়া হয়েছে।

লালবাগের বাসিন্দা আমেনা খাতুন বলেন, ‘অন্যান্য সময় সিটি করপোরেশন থেকে কোরবানির বর্জ্য নেয়ার পরও ছোট ছোট স্তূপ পড়ে থাকত। কিন্তু এবার ভিন্ন চিত্র দেখা গেল। কোথাও ছোট আবর্জনাও নেই। নতুন কেউ কোরবানি দিলে সে বর্জ্যটাও করপোরেশনের লোকজন এসে নিয়ে যাচ্ছে।’

ওয়ারীর বাসিন্দা আশরাফ হোসেন বলেন, ‘আজ (গতকাল) সকাল থেকে দেখি রাস্তা পানি দিয়ে ধোয়া হচ্ছে। অন্যান্য বছর তো সড়ক থেকে বর্জ্য অপসারণ করা হতো, কিন্তু এ বছর বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি সড়ক ধুয়েমুছে তকতকে করে ফেলা হচ্ছে। ঢাকাবাসী হিসেবে আমরা এমন ঢাকাই চেয়েছিলাম।’

ধানমন্ডির বাসিন্দা রোজিনা আকতার বলেন, ‘কোরবানির পরদিন থেকেই আমাদের এলাকায় কোনো বর্জ্য নেই। অন্যান্যবারের তুলনায় এবার সরকারের তৎপরতা বেশি ছিল। যার ফলও আমরা দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু আমরা শুধু একদিনের বা তিনদিনের জন্য পরিচ্ছন্ন ঢাকা চাই না। সারা বছরই এ রকম ঢাকা দেখতে চাই। এজন্যই আমরা ট্যাক্স দিই। এটা আমাদের অধিকার।’

কোরবানির বর্জ্য অপসারণের দুই সিটির কার্যক্রম প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেছেন ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, ‘কোরবানির বর্জ্য সবচেয়ে জটিল কাজ। শুধু এ সরকার নয়, গত পাঁচ-সাত বছর ধরেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণের কাজটি খুব সাফল্যের সঙ্গে করে যাচ্ছে সিটি করপোরেশন। এর কারণও আছে। কোরবানির বর্জ্য অপসারণে তাদের বিশেষ তৎপরতা থাকে। এ থেকে প্রমাণ হয়, রাষ্ট্র যদি গুরুত্ব দেয় তাহলে এখনকার ঢাকাও পরিষ্কার নগরী হতে পারে। কোরবানির বর্জ্যের চেয়ে কঠিন কোনো বর্জ্য কিন্তু ঢাকায় আর হয় না। এটা যদি তিনদিনে অপসারণ করা যায়, তাহলে সিটি করপোরেশনের কাছে ঢাকা পরিষ্কার রাখার জন্য যেকোনো কাজই সম্ভব। কিন্তু বছরের অন্যান্য সময় যেহেতু ঢাকার সড়ক, খাল সবকিছু আবর্জনার স্তূপ হয়ে থাকে, তার মানে এটা করপোরেশনের গাফিলতি ছাড়া কিছুই নয়।’

প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম আরো সুন্দর হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় দক্ষতার সঙ্গে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে থাকি। বছরের অন্যান্য সময়ও আমাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম চলমান থাকে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই আমরা কাজ করি। গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা তার নজরে এসেছে। আমরা চেষ্টা করব, পরিচ্ছন্নতার এ ধারাবাহিকতা বছরের অন্যান্য সময়েও বজায় রাখতে।’

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার কাউকে কিছু না জানিয়ে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম দেখতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টা নিজেই গাড়ি চালিয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, পরিদর্শনকালে হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্যের পাশাপাশি আগের জমে থাকা ময়লা রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এসব এলাকায় বর্জ্য অপসারণে অবহেলার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর তার নির্দেশে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির। দুজনই উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র বলছে, কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে আগেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে কয়েকটি এলাকায় সেই নির্দেশনার ঘাটতি ধরা পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *