
২৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগেও উত্তরের পথে যানজটের শঙ্কা
মে ২৬, ২০২৬
এপ্রিলের বেতন পরিশোধ করলেও বোনাস দেয়নি সব কারখানা
মে ২৬, ২০২৬মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল ট্রুথ সোশ্যালে দীর্ঘ পোস্টে দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ভালোভাবেই’ এগোচ্ছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন হামলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। ট্রাম্প লেখেন, এটি সবার জন্য দারুণ একটি চুক্তি হবে, নইলে কোনো চুক্তিই হবে না
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকার মধ্যেই গতকাল দক্ষিণ ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাহিনীর দাবি, মাইন পুঁতে রাখার চেষ্টা করা নৌযান ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলসহ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালানো হয়েছে। খবর রয়টার্স।
ওই হামলার সময় কাতারের রাজধানী দোহায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করছিলেন ইরানের প্রধান আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সফরসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরান দুই পক্ষই দ্রুত অগ্রগতির সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছেন।
এর আগে নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, কূটনীতিকে সফল হওয়ার সব সুযোগই দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্রয়োজন হলে ইরানের বিষয়ে ‘অন্যভাবে’ও ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া, সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং পারমাণবিক ইস্যুতে বাস্তবসম্মত ও নির্দিষ্ট মেয়াদে আলোচনা শুরুর মতো একটি প্রস্তাব টেবিলে রয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল ট্রুথ সোশ্যালে দীর্ঘ পোস্টে দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ভালোভাবেই’ এগোচ্ছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন হামলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। ট্রাম্প লেখেন, ‘এটি সবার জন্য দারুণ একটি চুক্তি হবে, নইলে কোনো চুক্তিই হবে না।’
এর কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের রক্ষার উদ্দেশ্যে নতুন হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের মুখপাত্র নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, ‘চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও আমাদের বাহিনীকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সংযম বজায় রেখে পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
একই দিন ইরান দাবি করেছে, নতুন ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি ‘শত্রু’ স্টেলথ ড্রোন ভূপাতিত করেছে তারা। দেশটির সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পারস্য উপসাগরের আকাশে আর কোনো স্টেলথ ড্রোন প্রবেশ করতে পারবে না—এটাই এর বার্তা।
এদিনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এক ঘোষণা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি বলেছেন, লেবাননে ইরানসমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা আরো জোরদার হবে। পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা পূর্ব লেবাননের বেকা উপত্যকাসহ বিভিন্ন এলাকায় হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
গত এপ্রিলের মাঝামাঝি ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবেইসরায়েল বলছে, আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেই তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
দোহায় ইরানি প্রতিনিধিদলের বৈঠক সম্পর্কে অবগত ওই কর্মকর্তা জানান, আলোচনায় মূলত হরমুজ প্রণালি ও ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ নিয়ে কথা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে জব্দ থাকা ইরানি অর্থ ছাড়ের বিষয়েও আলোচনা করতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, কাঠামোগত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে না।
ট্রাম্প বরাবরই বলে আসছেন, এ যুদ্ধে তার প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা। যদিও তেহরান দাবি করে আসছে, তাদের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই।
ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে আরো কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দেয়ার আহ্বান জানান ট্রাম্প। তার প্রথম মেয়াদে মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা।
ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব ও কাতারের অবিলম্বে এ চুক্তিতে যোগ দেয়া উচিত। পাশাপাশি পাকিস্তান, মিসর, জর্ডান ও তুরস্ককেও এতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এমনকি বিষয়টিকে ‘বাধ্যতামূলক’ বলেও উল্লেখ করেন।
তবে পাকিস্তানের এক সূত্র বলেছে, ইরান ইস্যুকে ব্যবহার করে বৃহত্তর কূটনৈতিক উদ্যোগ এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে, কিন্তু দুটি বিষয় ‘পরস্পর সম্পর্কযুক্ত নয় এবং এভাবে যুক্তও করা যায় না।’
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান বিষয়ক প্রকল্প পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, ‘ইরান চুক্তিকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের ধারাবাহিকতা হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন ট্রাম্প—যাকে ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্য ও ওয়াশিংটনের জন্য ইতিবাচক বলে দেখানো হচ্ছে। কিন্তু তিনি এক কল্পনার বদলে আরেক কল্পনা দাঁড় করাচ্ছেন।’
এদিকে ইরানের মুখপাত্র বাঘাই বলেন, সম্ভাব্য চুক্তিতে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো শর্ত নেই।
তিনি জানান, জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান কোনো টোল নেবে না। তবে নৌ-নির্দেশনা ও পরিবেশ সুরক্ষার মতো সেবার জন্য ফি থাকতে পারে। এ বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি আলাদা প্রোটোকল চূড়ান্ত হবে।
জাপানের নিক্কেই পত্রিকা মধ্যপ্রাচ্যের এক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রায় ৩০ দিন পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই ৩০ দিনের মধ্যে প্রণালি থেকে মাইন অপসারণ করবে ইরান। এর পর সব দেশের জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।


