নতুন কোনো কারখানা স্থাপন বা পরিচালনার পরিকল্পনা নেই সরকারের: বাণিজ্যমন্ত্রী
মে ২৩, ২০২৬
খনি মালিকদের থেকে ৩০ শতাংশ স্বর্ণ কিনবে ঘানা
মে ২৩, ২০২৬
নতুন কোনো কারখানা স্থাপন বা পরিচালনার পরিকল্পনা নেই সরকারের: বাণিজ্যমন্ত্রী
মে ২৩, ২০২৬
খনি মালিকদের থেকে ৩০ শতাংশ স্বর্ণ কিনবে ঘানা
মে ২৩, ২০২৬

শিশুদের ওপর নৃশংসতা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে: ইউনিসেফ

ইউনিসেফ সতর্ক করে বলেছে, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন ও নৃশংস সহিংসতার ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা জাতীয় পর্যায়ে শিশু সুরক্ষা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জরুরি প্রয়োজনীয়তার দিকেই ইঙ্গিত করছে

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতা ও যৌন নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ। সংস্থাটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এক বিবৃতিতে বলেন, শিশুদের বিরুদ্ধে চলমান এ ধরনের নৃশংসতা ‘অবশ্যই বন্ধ হতে হবে’ এবং এর জন্য জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনায় ইউনিসেফ গভীরভাবে মর্মাহত। এর মধ্যে এমন ঘটনাও রয়েছে যেখানে মেয়েশিশু ও ছেলেশিশু ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছে—যেসব পরিবেশে তাদের নিরাপদ থাকার কথা ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের প্রতি সংস্থাটি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে।

ইউনিসেফ সতর্ক করে বলেছে, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন ও নৃশংস সহিংসতার ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা জাতীয় পর্যায়ে শিশু সুরক্ষা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জরুরি প্রয়োজনীয়তার দিকেই ইঙ্গিত করছে।

সংস্থাটি আরো বলেছে, অপরাধীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করা এখন অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে প্রতিরোধ, অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা কাঠামো, শিশুবান্ধব পুলিশ ও বিচারব্যবস্থা, কমিউনিটি-ভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামাজিক সেবার ঘাটতি পূরণ করতে হবে।

ইউনিসেফের মতে, নারী ও শিশুদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা আরো বিস্তৃত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মস্থল, পাড়া-মহল্লা এবং যত্নসেবা কেন্দ্রগুলোয় জবাবদিহি আরো শক্তিশালী করতে হবে, যাতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সমাজ নীরব থাকলে সহিংসতা আরো বিস্তার লাভ করে। তাই শিশু, নারী, পরিবার এবং কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—যেকোনো সহিংসতা, নির্যাতন বা শোষণের ঘটনা যথাযথ সুরক্ষা সেবার মাধ্যমে রিপোর্ট করতে।

এক্ষেত্রে শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এর কথা উল্লেখ করে বলা হয়, এটি সহায়তা ও রেফারেল সেবা প্রদান করে থাকে, যা বিপদে থাকা শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার মাধ্যম।

ইউনিসেফ আরো সতর্ক করে বলেছে, নির্যাতনের শিকার শিশু ও নারীদের ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করা তাদের ওপর দ্বিতীয়বারের মতো আঘাতের শামিল। এসব শেয়ার করা বেঁচে থাকা ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের মানসিক যন্ত্রণা আরো বাড়িয়ে দেয়।

সংস্থাটি জনসাধারণ, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—ভুক্তভোগীদের অধিকার ও মর্যাদা সম্মান করতে এবং কোনো ধরনের ছবি বা তথ্য ছড়িয়ে না দিতে।

সবশেষে ইউনিসেফ বলেছে, ঘর, স্কুল, কমিউনিটি ও জনপরিসর প্রতিটি শিশুরই সর্বত্র নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপরাধীদের দায়মুক্তির অবসান এখন সময়ের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *