
সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত: পাটওয়ারী
মে ১৯, ২০২৬
সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বিচারাধীন মামলার দ্রুততম নিষ্পত্তি: প্রধানমন্ত্রী
মে ১৯, ২০২৬আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকার কেরানীগঞ্জে ৮টি অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে ৫টির ইজারা দেওয়া হয়েছে। বাকি ৩টি হাটে প্রত্যাশিত দর না পাওয়ায় ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
সোমবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে উন্মুক্তভাবে দরপত্র খুলে সর্বোচ্চ দরদাতাদের নামে ইজারা ঘোষণা করা হয়।
ইজারা পাওয়া হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে আগানগর অস্থায়ী পশুর হাট, জিনজিরা বাজার হাট, হাসনাবাদ হাট, রোহিতপুরের নতুন সোনাকান্দা বড় হাট ও মিলিনিয়াম সিটি পশুর হাট। এসব হাটের ইজারা পেয়েছেন স্থানীয় বিএনপির ৫ নেতা।
তবে ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিএনপি নেতারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে অন্য কাউকে দরপত্রে অংশ নিতে দেননি। নির্ধারিত ব্যক্তিদের বাইরে কেউ যেন টেন্ডার জমা দিতে না পারেন, সে জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। ফলে গত বছরের তুলনায় অনেক কম মূল্যে হাটগুলো ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বছর একই ৫টি হাট থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছিল ৩ কোটি ২৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। অথচ এবার সেই একই হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে মাত্র ৯৯ লাখ ৭৪ হাজার টাকায়। ফলে এক বছরের ব্যবধানে সরকারের রাজস্ব কমেছে প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা।
গত বছর আগানগর আমবাগিচা হাটটি ১ কোটি ৭০ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছিলেন আগানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আরসাদ রহমান সপু। এবার হাটটি ৫৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা ও কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হাজী আনোয়ার হোসেন।
জিনজিরা বাজার অস্থায়ী পশুর হাটটি ২০২৫ সালে ১৫ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছিলেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোযাদ্দেদ আলী বাবু। এবারও তিনিই হাটটির ইজারা পেয়েছেন। তবে এবার তাকে গুনতে হয়েছে মাত্র ৭ লাখ টাকা।
শুভাঢ্যা ইউনিয়নের হাসনাবাদ অস্থায়ী পশুর হাটটি গত বছর বিএনপি নেতা সেলিম মেম্বার ৬১ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছিলেন। এবার একই হাট তিনি পেয়েছেন ২৩ লাখ ১০ হাজার টাকায়।
রোহিতপুর ইউনিয়নের নতুন সোনাকান্দা বড় হাটটি গত বছর স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহাবুদ্দিন মেম্বার ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছিলেন। এবারও তিনি হাটটির ইজারা পেয়েছেন ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।
শাক্তা ইউনিয়নের মিলিনিয়াম সিটি পশুর হাটটি গত বছর এনসিপি নেতা বকুল ৭১ লাখ ২৪ হাজার টাকায় ইজারা পেলেও এবার বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম হাটটি পেয়েছেন ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকায়।
এদিকে গত বছর রাজাবাড়ী হাট ৩০ হাজার টাকা, রসুলপুর হাট ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং খাড়াকান্দি হাট ২ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হলেও এবার অর্ধেক মূল্যেও কোনো দরপত্র জমা পড়েনি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এসব হাট পরবর্তীতে খাস কালেকশনের মাধ্যমে পরিচালনা করা হতে পারে।
কেরানীগঞ্জের এনসিপি নেতা আল আমিন মিনহাজ অভিযোগ করে বলেন, নির্ধারিত ব্যক্তির বাইরে কেউ যেন টেন্ডার কিনতে না পারে, সে জন্য স্থানীয় বিএনপি নেতারা কয়েক দিন ধরে উপজেলা পরিষদ এলাকায় অবস্থান করেন। এমনকি দুই দিন আগে এনসিপির নেতাকর্মীরা একটি হাটের টেন্ডার সিডিউল কিনতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। ভয়ভীতি ও প্রভাব খাটিয়ে ইজারার নামে হাটগুলো দখল করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুক বলেন, সোমবার সংশ্লিষ্ট সবার উপস্থিতিতে দরপত্র বাক্স খোলা হয়েছে। সর্বোচ্চ দরদাতাদের নামেই ৬টি হাটের ইজারা ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। বাইরে কেউ কোনো সমঝোতা করলে সেটি প্রশাসনের জানা নেই।


