
ইরানের ওপর হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প, চলছে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’
মে ১৯, ২০২৬
ঈদুল আজহা ২৮ মে
মে ১৯, ২০২৬বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও স্ট্রেইনের ইবোলা তুলনামূলকভাবে বিরল। এর আগে মাত্র দুইবার এ ধরনের সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল এবং তখন আক্রান্তদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের মৃত্যু হয়েছিল
কঙ্গোতে ভয়াবহ আকার নিচ্ছে ইবোলা পরিস্থিতি। ধারণার চেয়েও অনেক দ্রুত ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে যে সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। এরই মধ্যে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) কমপক্ষে ১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী উগান্ডাতেও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক জরুরি স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে ঘোষণা করেছে ডব্লিউএইচও।
ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ডা. অ্যান আনসিয়া বিবিসিকে বলেন, যত বেশি তদন্ত করা হচ্ছে ততই পরিষ্কার হচ্ছে যে ভাইরাসটি ইতোমধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে অন্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি জানান, প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ইতুরি প্রদেশ অত্যন্ত অনিরাপদ এবং সেখানে মানুষের চলাচল খুব বেশি। ফলে রোগ শনাক্ত, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রান্তদের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ডিআর কঙ্গোর স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশটিতে ৫১৩টির বেশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে লন্ডনভিত্তিক এমআরসি সেন্টার ফর গ্লোবাল ইনফেকশাস ডিজিজ অ্যানালাইসিসের গবেষকেরা বলছেন, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সোমবার প্রকাশিত তাদের মডেলিং বিশ্লেষণে বলা হয়, বিপুলসংখ্যক রোগী এখনো শনাক্তের বাইরে রয়ে গেছে।
ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস গত সপ্তাহে এ প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, রোগটির বিস্তার এবং সংক্রমণের গতি নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ২৪ এপ্রিল প্রথম শনাক্ত হওয়ার আগেই কয়েক সপ্তাহ ধরে ভাইরাসটি নীরবে ছড়িয়ে পড়ছিল।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও স্ট্রেইনের ইবোলা তুলনামূলকভাবে বিরল। এর আগে মাত্র দুইবার এ ধরনের সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল এবং তখন আক্রান্তদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের মৃত্যু হয়েছিল। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা নেই। তবে অন্যান্য ওষুধ বা চিকিৎসা পদ্ধতি সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যকর হতে পারে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখছে ডব্লিউএইচও।
ডা. আনসিয়া বলেন, সংক্রমণ ইতোমধ্যে সাউথ কিভু প্রদেশেও পৌঁছে গেছে। অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই মানবিক সংকটে ভুগছে। এছাড়া পূর্ব কঙ্গোর সবচেয়ে বড় শহর গোমাতেও একজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। প্রায় সাড়ে আট লাখ মানুষের বসবাসের এ শহর বর্তমানে রুয়ান্ডা-সমর্থিত বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ঘন ঘন স্থানান্তর ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে তুলছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আফ্রিকার কয়েকটি দেশ সীমান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করেছে। হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। প্রতিবেশী রুয়ান্ডা ইতোমধ্যে ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিক, যিনি একটি মিশনারি দলের চিকিৎসক বলে ধারণা করা হচ্ছে, ইবোলার উপসর্গ দেখা দেয়ার পর তাকে কঙ্গো থেকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, জার্মানির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে চিকিৎসার জন্য এক মার্কিন নাগরিককে দেশটিতে নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, ভাইরাসের সংস্পর্শে আসা আরো অন্তত ছয়জন মার্কিন নাগরিককে সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে।
ইবোলা একটি প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। শুরুতে এর উপসর্গ সাধারণ ফ্লুর মতো মনে হতে পারে। আক্রান্তদের জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দেয়। পরে রক্তক্ষরণ, অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া এবং মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিশ্বে সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব দেখা যায় ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকায়। সে সময় গিনি, সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়াসহ কয়েকটি দেশে ২৮ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। প্রাণ হারান ১১ হাজার ৩২৫ জন। তখন দায়ী ছিল জায়ারে স্ট্রেইনের ইবোলা, যার বিরুদ্ধে বর্তমানে অনুমোদিত টিকা রয়েছে। সেই প্রাদুর্ভাব যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালিসহ আফ্রিকার বাইরেও আতঙ্ক তৈরি করেছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে নতুন এই প্রাদুর্ভাবও বড় আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে সংঘাত, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং সীমান্তজুড়ে মানুষের অবাধ চলাচল পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।


