
উৎপাদনমুখী ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাতে ঋণপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে: গভর্নর
মে ১৬, ২০২৬
বাংলাদেশের অভিপ্রায় অনুযায়ী ফারাক্কা চুক্তি হতে হবে: মির্জা ফখরুল
মে ১৬, ২০২৬ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দীর্ঘ ১৭ থেকে ১৮ বছর পর নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে নতুনভাবে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মুক্ত পেশাভিত্তিক কাজের খাতে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মুক্ত পেশার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, যাতে তরুণদের দক্ষ করে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যায়। আগামী ৫ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাজারে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক থাকায় বেসরকারি অপারেটরগুলো ইচ্ছামতো সেবার দাম বাড়াতে পারে না বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে টেলিটককে গ্রামীণফোন ও রবির মতো শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
আজ শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ আয়োজিত ‘টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ: নতুন সরকার কী ভাবছে’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
টিআরএনবির সভাপতি সমীর কুমার দে’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন। এতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বিশেষ অতিথি এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দীর্ঘ ১৭ থেকে ১৮ বছর পর নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে নতুনভাবে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মুক্ত পেশাভিত্তিক কাজের খাতে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মুক্ত পেশার প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, যাতে তরুণদের দক্ষ করে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যায়। আগামী ৫ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরো বলেন, সরকার শেষ পর্যায়ের ফাইবার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, পাহাড়ি ও চরাঞ্চলে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট চালু, বিভাগীয় শহর ও শিল্পাঞ্চলে ধাপে ধাপে ৫ম প্রজন্মের মোবাইল সেবা সম্প্রসারণ এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করছে। একই সঙ্গে অবকাঠামো ভাগাভাগি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, আগামী ৫ বছরে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম খাতের জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান বর্তমান ৬ শতাংশ থেকে ১০ থেকে ১৫ শতাংশে নেয়া সম্ভব। সরকার টেলিকম খাতে উচ্চ করহার, মূল্য সংযোজন কর ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে কাজ করছে। আসন্ন বাজেটে ভোক্তার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কিছু পরিবর্তন দেখা যাবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, ৫ বছরের জন্য কর, মূল্য সংযোজন কর ও শুল্কনীতিতে পূর্বানুমানযোগ্য রূপরেখা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশে ৪র্থ ও ৫ম প্রজন্মের মোবাইল সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি সাশ্রয়ী দামে স্মার্টফোন নিশ্চিত করাও জরুরি। এ জন্য ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন উৎপাদন ও কিস্তিতে সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
রেহান আসিফ আসাদ বলেন, স্পেকট্রাম নীতিতে শুধু রাজস্ব আদায়ের বদলে সামগ্রিক ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তথ্যকেন্দ্র, কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ই-গভর্ন্যান্স ও ইলেকট্রনিক পণ্য রফতানিকে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির মূল খাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকদের জন্য নীতিগত সহায়তা, অনুদান ও ঋণ সহায়তা বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী বলেন, গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায় নীতিমালায় বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে নতুন নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকায় কোনো অপারেটরের একক আধিপত্য থাকবে না। একচেটিয়া বা দুই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের সুযোগও বন্ধ করা হবে।
তিনি বলেন, কমিশন সবাইকে নিয়ে নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। বাজারকে তিনটি খাতে ভাগ করে অপারেটরদের মূল্য সৃষ্টি করার সুযোগ দেয়া হবে। পরীক্ষামূলক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, সাইবার সুরক্ষা ও প্ল্যাটফর্ম নিরপেক্ষতায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
গোলটেবিল আলোচনায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রবির নিয়ন্ত্রক ও করপোরেট বিষয়ক প্রধান সাহেদ আলম। তিনি বলেন, গত এক দশকে দেশে মোবাইল গ্রাহক, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ও ডাটা ব্যবহারে বড় অগ্রগতি হলেও বাংলাদেশ এখনো মূলত ডিজিটাল ভোগনির্ভর বাজার হিসেবেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
উপস্থাপনায় বলা হয়, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০২৫-২৬ সালে মোবাইল গ্রাহক ৩৯ শতাংশ বেড়ে ১৮ কোটি ৬০ লাখে পৌঁছেছে। একই সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১৩৭ শতাংশ বেড়ে মোট জনসংখ্যার ৭৩ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ ব্যবহার ৮৬ জিবিপিএস থেকে বেড়ে প্রায় ১০ হাজার ৯৫৪ জিবিপিএসে পৌঁছেছে। মাথাপিছু মোবাইল ডাটা ব্যবহার ১০০ এমবি থেকে বেড়ে ৮ জিবিতে উন্নীত হয়েছে।
সাহেদ আলম বলেন, এ অগ্রগতির পরও বাংলাদেশ উচ্চমূল্যের প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক সেবা রপ্তানিতে পিছিয়ে রয়েছে। বর্তমানে টেলিকম খাতের অবদান প্রায় ৮ শতাংশ হলেও সঠিক নীতিসহায়তা পেলে এটি আরো বাড়ানো সম্ভব।
উপস্থাপনায় আরো বলা হয়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা ১৪ হাজার ৮৩৩ জিবিপিএস, যার ৭৩ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড সেবা ও ৫ম প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তি বিস্তারের ফলে ২০৩৫ সালের মধ্যে চাহিদা ১২০ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ডে পৌঁছাতে পারে। এজন্য সাবমেরিন কেবল, ফাইবার নেটওয়ার্ক ও তথ্যকেন্দ্র উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রবন্ধে আরো বলা হয়, সাশ্রয়ী ডাটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে থাকলেও স্থায়ী ব্রডব্যান্ড সেবার মান, স্মার্টফোন ব্যবহার হার এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। আধুনিক নীতি ও নিয়ন্ত্রক সংস্কারের মাধ্যমে টেলিকম খাতকে দেশের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলেও উল্লেখ করা হয়।


